kalerkantho

বুধবার। ৬ মাঘ ১৪২৭। ২০ জানুয়ারি ২০২১। ৬ জমাদিউস সানি ১৪৪২

সিএনএনের বিশ্লেষণ

ট্রাম্পের বিদায়ে বদলাবে না বিশ্ব

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৮ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ট্রাম্পের বিদায়ে বদলাবে না বিশ্ব

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যে নেতারা হালকা চালের কর্মকাণ্ডে জনতার মন জয় করার রাস্তায় চলছেন, চার বছর ধরে সেই নেতাদেরই যেন নেতৃত্ব দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর দেশের প্রেসিডেন্টের এই স্বভাব বাকি নেতাদের তোষামোদি আচরণের নৈতিক বৈধতা দিয়েছে। তবে সেই পর্ব আপাতত চুকেছে।

সস্তা জনপ্রিয়তা আঁকড়ে ধরে যে নেতারা টিকে আছেন এবং থাকতে চাচ্ছেন, তাঁদের সবার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল এক বড় ধাক্কা। কারণ জনতার তোষামুদি করার সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত বিদায় নিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে। তার মানে এই নয় যে জনতোষণের পথটা একেবারে অকেজো হয়ে গেছে। পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, নির্বাচনে চূড়ান্ত ফলের বিচারে ট্রাম্প হেরে গেছেন ঠিকই, কিন্তু তিনি যে ৪৭ শতাংশের বেশি পপুলার ভোট পেয়েছেন, সেটা ভুলে গেলে চলবে না। পপুলার ভোটের প্রায় অর্ধাংশ ঝুলিতে পুরতে পারার অর্থ হলো ট্রাম্পের মতো সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জনকারী নেতারা একেবারে শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে যাননি। বাকি বিশ্বের ক্ষেত্রেও কথাটা সত্যি।

করোনাভাইরাস মহামারি প্রতিরোধের পদক্ষেপ নিয়ে বিতর্কের কারণে বিশ্বের অনেক কর্তৃত্ববাদী নেতার জনপ্রিয়তায় প্রথম দিকে ধস নামলেও অচিরেই তাঁরা আগের অবস্থায় ফিরে যান। সম্প্রতি ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারো তাঁর প্রেসিডেন্সিকালের সর্বোচ্চ জনসমর্থন অর্জন করেছেন। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রতি জনসমর্থন মহামারির শুরুতে কিছুটা কমলেও এখন সেটা আগের অবস্থায় ফিরে এসেছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান গত কয়েক বছরের মধ্যে বর্তমানে সর্বোচ্চ জনসমর্থন অর্জন করেছেন।

আমাদের প্রতিবেশী ভারতের পরিস্থিতিও একই রকম। মহামারিকালীন প্রথম নির্বাচনে দেশটির ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ও এর মিত্রতা অনায়াস জয় পেয়েছে। অথচ পর্যবেক্ষকদের আশংকা ছিল, মহামারি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার কারণে বিজেপির নেতৃত্বাধীন জোট হয়তো নির্বাচনে ভরাডুরি শিকার হবেন।

সস্তা উপায়ে জনতার মনে জায়গা করে নিতে পারার এ ধারা কেন অক্ষুণ্ন রয়েছে, সেটার কারণ সম্পর্কে হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির কেনেডি স্কুল অব গভর্নমেন্টের পিপা নোরিস বলেন, ‘লোকরঞ্জনবাদী নেতাদের উত্থান ঘটেছে দীর্ঘমেয়াদি সাংস্কৃতিক পরিবর্তন থেকে। সুতরাং তাদের আবেদন ফিকে হয়ে যাবে, এমন প্রত্যাশা আপনি করতে পারেন না।’

আর তা হচ্ছেও না। ট্রাম্পের বিদায় এসব নেতার জন্য একটি উদাহরণ হয়ে থাকতে পারত। কিন্তু খোদ ট্রাম্পের জন্যও বিষয়টি তেমন কোনো পরিবর্তন বয়ে আনতে পারেনি। তাঁর আচরণ ও কথায় আগের সেই দম্ভ, অহং এবং অতি আত্মবিশ্বাস রয়ে গেছে। বাকিদের মধ্যেও বিষয়টি একইভাবে বিদ্যমান। কোনো নেতার মধ্যেই পরিবর্তনের কোনো আভাস নেই। সূত্র : সিএনএন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা