kalerkantho

সোমবার। ৪ মাঘ ১৪২৭। ১৮ জানুয়ারি ২০২১। ৪ জমাদিউস সানি ১৪৪২

জাতিসংঘের আশঙ্কা

ফিরবে পঞ্চাশের দশকের বৈষম্য

নারী-পুরুষ সমতার ক্ষেত্রে ২৫ বছরের অগ্রগতি ধুলায় মিশে যাবে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৭ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ফিরবে পঞ্চাশের দশকের বৈষম্য

আর্থিক-সামাজিক মূল্যায়ন ছাড়াই দিনের পর দিন গৃহস্থালি সামলান নারীরা। তাতেও মেলে না নিরাপত্তা। ঘরে-বাইরে শিকার হন নানা রকম সহিংসতার। সব সহিংসতা রুখে দিতে বিশ্বজুড়ে বুধবার পালিত হয় নারীর প্রতি সহিংসতা নির্মূল দিবস। চিলির সান্তিয়াগো থেকে তোলা ছবি। ছবি : এএফপি

নারী-পুরুষ সমতা আনতে গত ২৫ বছরে যত অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে, তার সবই হয়তো এক বছরে শূন্য হয়ে যেতে পারে—কারণ করোনাভাইরাস মহামারির জেরে সৃষ্ট অচলাবস্থা। এটা স্রেফ অনুমান নয়, বরং জরিপের ভিত্তিতে করা ভয়াবহ এক আশঙ্কা।

বিশ্বজুড়ে পরিচালিত জরিপের ভিত্তিতে ইউএন উইমেনের ডেপুটি নির্বাহী পরিচালক আনিতা ভাটিয়া বলেন, ‘২৫ বছর ধরে আমরা যত কাজ করেছি, সেসব এক বছরেই হারিয়ে যেতে পারে।’

মহামারি রোধে জারি করা লকডাউনের মধ্যে পরিবারের সদস্যদের যত্নআত্তি আর গৃহকর্মে নারীকে অনেক বেশি সময় ও শ্রম দিতে হচ্ছে। অথচ এসব কাজের না আছে আর্থিক মূল্যায়ন, না আছে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি। লকডাউনের কারণে বাড়ির অবৈতনিক কাজের চাপে যেভাবে নারী পিষ্ট হচ্ছে, তাতে শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে তাদের ফেরার সুযোগ বন্ধ হয়ে যেতে পারে, বাড়তে পারে শারীরিক-মানসিক ভোগান্তিও। সব মিলিয়ে ১৯৫০ দশকের সেই লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য আবার সমাজে থাবা  বসাতে পারে, এমন আশঙ্কা করছেন ইউএন উইমেন কর্মকর্তা আনিতা ভাটিয়া।

লকডাউনের আগে পরিস্থিতি খুব ভালো ছিল, তা নয়। প্রতিদিন বিশ্বে এক হাজার ৬০০ কোটি ঘণ্টার অবৈতনিক কর্মযজ্ঞ চলে এবং চার ভাগের তিন ভাগ কাজের ভার বহন করে নারী। মানে হলো, পুরুষের প্রতি এক ঘণ্টার অবৈতনিক কাজের বিপরীতে নারী তিন ঘণ্টা কাজ করে। মহামারির আগে যদি পুরুষের চেয়ে নারী তিন গুণ বেশি কাজ করে থাকে, তবে এখন নারীর কাজের চাপ ওই সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ বেড়েছে, এমন ধারণা আনিতার।

জাপানের তেনি ওয়াদা পেশায় ব্র্যান্ড কনসালট্যান্ট। লকডাউনের আগে তিনি খণ্ডকালীন নার্সারি শিক্ষকের কাজও করতেন। কিন্তু লকডাউনের মধ্যে ‘হোম অফিস’, সন্তানের ‘হোম স্কুলিং’, বড়ির সব কাজ সামলে একটুখানি সময় বের করা তার কাছে সোনার হরিণের মতো মনে হয়।

কেনিয়ায় বসবাসরত নাইজেরীয়-আমেরিকান চাকরিজীবী নারী আইজিওমা কোলা জানান, তাঁর স্বামী ঘরের কাজে অনেক সাহায্য করেন। একজন গৃহকর্মীর সহায়তাও তিনি পান। ফলে ছোট্ট ছেলেকে নিয়ে দিন পার করতে খুব ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে না। কিন্তু সব নারী এসব সুযোগ পায় না এবং আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট নারীর জন্য খুব একটা অনুকূল নয়, এমনটা মনে করেন আইজিওমা। তিনি বলেন, ‘নারীরা সবই পেতে পারে, তবে একসঙ্গে নয় এবং বিরাট ত্যাগ ছাড়া সেগুলো অর্জন করাও যায় না।’

লকডাউনকালে বিশ্বের সব দেশে নারী ওপর কাজের চাপ একই রকম—জরিপে তেমনটাই দেখা গেছে। আরো আশঙ্কার বিষয় হলো, কর্মক্ষেত্র ছেড়ে আসা নারীদের অনেকেই আর সেখানে ফিরবে না। এ অবস্থা স্থায়ী হলে সরকার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর কত বড় প্রভাব পরতে যাচ্ছে, তা এ মুহূর্তে কল্পনাই করা যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন ইউএন উইমেনের ডেপুটি নির্বাহী পরিচালক। তাঁর পরামর্শ, ভয়াবহতা এড়াতে চাইলে সরকারগুলোর পাশাপাশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো যেন নারী কর্মীদের অবৈতনিক কাজের বিষয়টি বিবেচনায় নেয় এবং তাদের জন্য বাড়তি পারিবারিক ছুটি, বাড়তি সবৈতনিক ছুটির ব্যবস্থা করে। কর্মস্থলে শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র খোলার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার কথাও বলেন আনিতা। সূত্র : বিবিসি।

মন্তব্য