kalerkantho

রবিবার । ১০ মাঘ ১৪২৭। ২৪ জানুয়ারি ২০২১। ১০ জমাদিউস সানি ১৪৪২

মাঠে নামার প্রস্তুতি বাইডেনের

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৫ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মাঠে নামার প্রস্তুতি বাইডেনের

বাইডেনের মন্ত্রিসভার সদস্যরা

প্রেসিডেন্সির প্রথম দিন থেকে সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে কাজ শুরুর লক্ষ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছেন জো বাইডেন। এ জন্য তিনি পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠনের পাশাপাশি অন্য গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোয়ও নিয়োগ ও মনোনয়নদানের প্রক্রিয়া পূর্ণদ্যোমে চলছে। দেখে নেওয়া যাক তাঁর প্রস্তুতির পাঁচটি উল্লেখযোগ্য দিক।

খ্যাতি নয়, গুরুত্ব পাচ্ছে অভিজ্ঞতা : সারা দেশ থেকে বিখ্যাত রাজনৈতিক নেতৃত্ব কুড়িয়ে রাজধানীতে জড়ো করার অভিপ্রায় বাইডেনের নেই। এর পরিবর্তে তিনি এমন সব ব্যক্তিকে বেছে নিচ্ছেন, সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে যাঁদের অভিজ্ঞতা প্রশ্নাতীত।

যুক্তরাষ্ট্রের হবু প্রেসিডেন্ট বাইডেন যোগ্য নেতৃত্ব বাছাইয়ে যে সত্যিই অভিজ্ঞতায় প্রাধান্য দিচ্ছেন, পররাষ্ট্র ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা দপ্তর প্রধান পদে মনোনয়নপ্রাপ্তদের তালিকায় সেটার প্রমাণ মেলে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী পদে মনোনয়নপ্রাপ্ত অ্যান্টনি ব্লিংকেন একই দপ্তরে দ্বিতীয় প্রধান ব্যক্তির ভূমিকায় ছিলেন। ডেপুটি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতাও তাঁর আছে।

অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা দপ্তর প্রধান হিসেবে বাইডন বেছে নিয়েছেন আলেহান্দ্রো মায়োরকাসকে। কিউবান বংশোদ্ভূত মায়োরকাস হচ্ছেন প্রথম লাতিন ও প্রথম অভিবাসী, যিনি এ দপ্তরের শীর্ষ পদে বসতে চলেছেন।

আমেরিকার মতো প্রশাসন গঠন : বৈচিত্র্যময় জাতিসত্তার দেশ আমেরিকার প্রশাসনেও বৈচিত্র্য রক্ষার অঙ্গীকার করেছেন বাইডেন। নির্বাচনী প্রচারকালের সেই অঙ্গীকার পূরণে তিনি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দুটি পদে জায়গা দিচ্ছেন দুই নারীকে।

এই প্রথম জাতীয় গোয়েন্দা দপ্তরের পরিচালক হতে চলেছেন একজন নারী—আভরিল হেইনস, যিনি এর আগে ডেপুটি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির (সিআইএ) ডেপুটি পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ও এবারই প্রথম শীর্ষ পদে একজন নারীকে পাচ্ছে। অর্থমন্ত্রী হিসেবে মনোনয়নপ্রাপ্ত জ্যানেটপ ইয়েলেন ফেডারাল রিজার্ভেও ছিলেন প্রথম নারী চেয়ারম্যান।

বৈচিত্র্য মানে শুধু নারীর পদায়ন নয়। তাই বাইডেন প্রশাসনে থাকছে বিপুলসংখ্যক অশ্বেতাঙ্গও।

ট্রাম্পীয় হঠকারিতা থেকে বেরিয়ে আসা : বিদায়ি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হচ্ছেন সেই ব্যক্তি, যিনি সব বৈজ্ঞানিক তথ্য-প্রমাণ উপেক্ষা করে পরিবেশবাদীদের জলবায়ুসংক্রান্ত উদ্বেগকে ধাপ্পাবাজি অ্যাখ্যা দিয়েছেন। বাইডেন সেই ধারা উল্টে দিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের জলবায়ুবিষয়ক বিশেষ দূত হিসেবে তিনি বেছে নিয়েছেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির মতো এক অভিজ্ঞ নেতাকে। জলবায়ু বিশেষ দূত হিসেবে কেরির গুরুত্ব জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের চেয়ে কোনো অংশে কম নয় বাইডেনের কাছে।

চলছে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখার চেষ্টা : ডেমোক্রেটিক দলের মতাদর্শিক বিভেদ দূর করতে বাইডেন আগে থেকেই সচেষ্ট। নতুন প্রশাসন গঠনেও সেই চেষ্টার ছাপ রাখছেন তিনি। তাই মনোনয়ন ও নিয়োগে তিনি এমন ব্যক্তিদের বেছে নিচ্ছেন, যাঁদের নিয়ে মোটা দাগে কোনো বিতর্ক নেই। তেমনই একটি নাম জেক সুলিভান। তাঁকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা করতে চান বাইডেন। সুলিভান নিজে বামঘেঁষা না হলেও ওই ঘরানার ডেমোক্র্যাটদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।

দ্রুত এগোচ্ছেন বাইডেন : হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফের নাম ঘোষণার মধ্য দিয়ে বাইডেনের পছন্দের তালিকা ঘোষণা শুরু হয়। এর দুই প্তাহের মধ্যেই তিনি প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ পদে মনোনয়ন ও নিয়োগ সম্পন্ন করেছেন। নির্বাচনের আগেই তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, প্রেসিডেন্সির প্রথম দিন থেকেই কাজে ঝাঁপিয়ে পড়বেন। প্রস্তুতিটাও সে সময়ই শুরু করেছিলেন। এবার তিনি কাজেও সেটা প্রমাণ করে দেখাচ্ছেন। সূত্র : সিএনএন, রয়টার্স।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা