kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ মাঘ ১৪২৭। ২৮ জানুয়ারি ২০২১। ১৪ জমাদিউস সানি ১৪৪২

আরব বসন্ত

টিকে আছেন শুধুই আসাদ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৪ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



টিকে আছেন শুধুই আসাদ

আরব বসন্তের উথাল-পাথাল ঢেউ যখন সিরিয়ায় আছড়ে পড়ে তখন মনে হচ্ছিল প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের ক্ষমতাচ্যুতি সময়ের ব্যাপার মাত্র। এরপর ১০ বছর পার হয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, বিচ্ছিন্নতা, নিজ দেশে দুই-তৃতীয়াংশ এলাকা হাতছাড়া হয়ে যাওয়াসহ বহু কিছু ঘটে গেছে। কিন্তু আসাদকে ক্ষমতা ছাড়তে হয়নি।

আরব বসন্তের এক দশক হয়ে এলো প্রায়। তিউনিশিয়ার মধ্য দিয়ে এই বিক্ষোভের সূচনা হয় ২০১০ সালের ১৭ ডিসেম্বর। ওই দিন ফুটপাতের এক গরিব হকার গায়ে আগুন ধরিয়ে দিয়ে দেশজুড়ে চলা অনিয়মের প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। সেই আগুনে পুড়ে দেশের প্রেসিডেন্ট জাইন এল আবিদিন বেন আলী ক্ষমতাচ্যুত হন। এই আগুন এরপর ছড়িয়ে পড়ে সবখানে। আরবের প্রতিটি দেশে এর আঁচ লাগে। আগুনে পুড়ে যায় লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির গদি। মিসরের প্রেসিডেন্ট হোসনি মুবারককে চেষ্টা করেও রক্ষা করতে পারেনি মিত্র যুক্তরাষ্ট্র। ইয়েমেনের আলী আব্দুল্লাহ সালেহও এই তালিকারই একটি নাম।

সিরিয়ায় আগুনের সূত্রপাত ২০১১ সালের মার্চ মাসে। প্রেসিডেন্ট আসাদের পদত্যাগের দাবিতে সিরিয়াজুড়ে তীব্র বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে তাঁর আলাওয়াতি সংখ্যালঘু গোষ্ঠী তাঁকে রক্ষা করতে পারবে না বলেই ধরে নেওয়া হয়েছিল। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, বাশার আজও ঢেউয়ের পর ঢেউ সামাল দিয়ে বহাল তবিয়তে টিকে আছেন। তিনি ধৈর্য ধরতে জানেন এবং স্থির। পাশাপাশি কয়েকটি বিষয় একযোগে কাজ করেছে—নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর তাঁর নিয়ন্ত্রণ, মাথার ঘায়ে পাগল পশ্চিমাদের সিরিয়া যুদ্ধে অনাগ্রহ এবং রাশিয়া ও চীনের সমর্থন।

লেবাননের রাজনীতিক করিম পাকরাদৌনি বলেন, ‘একসময় পুরো বিশ্ব তাঁকে ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিল। ওই সময়ই মনে হচ্ছিল, তিনি ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হবেন। কিন্তু আজ দেখুন, বিশ্বের প্রায় সব দেশই কোনো শর্ত ছাড়া তাঁর সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। আসাদ জানেন, এ খেলা কী করে খেলতে হয়।’ এই রাজনীতিক আসাদের সঙ্গে লেবাননের বিভিন্ন পক্ষের মধ্যস্থতার জন্য কাজ করেছেন।

আসাদ শুরু থেকেই শক্তি দিয়ে বিরোধীদের দমনের চেষ্টা করেছেন। যাঁরাই তাঁর বিরোধিতা করেছেন সবাই তাঁর দৃষ্টিতে সন্ত্রাসী। এখন পর্যন্ত আসাদবিরোধী লড়াইয়ে তিন লাখ ৮০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। গৃহহীন হয়েছে দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি মানুষ। দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ভেঙেচুরে গেছে। তবে আসাদ এখনো ক্ষমতায়। রাশিয়ার সহযোগিতা নিয়ে দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছেন তিনি।

পাকরাদৌনি বলেন, ‘আসাদের মধ্যে কখনো কোনো অস্বস্তি ছিল না। কাউকে কখনো কোনো ছাড় দেননি তিনি। সামরিক শক্তি ব্যবহার করে দেশের বেশির ভাগ এলাকার ওপর ফের নিজের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছেন। আরব বসন্তে আক্রান্ত বাকি দেশের নেতারা আসাদের মতো এই অবস্থান কখনোই নিতে পারেননি। বসন্তের বাতাস এসে তাঁদের উড়িয়ে নিয়ে গেছে। টিকে গেছেন শুধু আসাদ।’ সূত্র : এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা