kalerkantho

শুক্রবার । ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৭ নভেম্বর ২০২০। ১১ রবিউস সানি ১৪৪২

নিউ ইয়র্কের ডেমোক্র্যাট আইন প্রণেতাদের মত

‘ট্রাম্পের বিদায় সময়ের ব্যাপার’

শামীম আল আমিন, নিউ ইয়র্ক   

২৩ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ভোটের পর পেরিয়ে গেছে দুই সপ্তাহেরও বেশি সময়। ফলাফল নির্ধারিত হয়ে গেলেও শুরু হয়েছে নতুন সংকট। বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে গোটা বিষয়টাই একেবারে নতুন। দেশটির গণতান্ত্রিক রীতি অনুযায়ী, পরাজিত প্রার্থী বিজয়ীকে অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে পরাজয় মেনে নিয়ে সব ধরনের সহায়তা দেন, কিন্তু এবার পরাজিত হয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হাঁটছেন বিরুদ্ধ স্রোতে, যা দেশটির মানুষ আগে কখনো দেখেনি।

নির্বাচনের ফল না মেনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেভাবে ‘প্রমাণহীন’ কারচুপির অভিযোগ এনে কালক্ষেপণ করছেন, সেটিকে দেশের গণতন্ত্রের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর বলে মনে করেন নিউ ইয়র্কের ডেমোক্র্যাট আইন প্রণেতারা। শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সহযোগিতা না করলেও আইন অনুযায়ী অবশ্যই তাঁকে ২০ জানুয়ারি ক্ষমতা ছাড়তে হবে বলে মনে করেন নিউ ইয়র্ক স্টেটের ডিস্ট্রিক্ট ২৪-এর অ্যাসেম্বলিম্যান ডেভিড আই উইপ্রেন। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘কংগ্রেসের রিপাবলিকান নেতারা পর্যন্ত বাস্তবতা বুঝতে পারছেন, অথচ কোনো কারণ ছাড়াই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নির্বাচনী ফলাফলের বিরোধিতা করছেন।’ তাঁর মতে, কয়েকটি জায়গায় যে ভোট পুনর্গগনা হচ্ছে, সেটা হতেই পারে। তাতে নির্বাচনের ফলাফলে বড় কোনো প্রভাব পড়বে না বলেই তাঁর মত।

এদিকে কালের কণ্ঠ’র প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে নিউ হ্যাম্পশায়ারের চারবারের স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আবুল বি খান অবশ্য পুরো বিষয়টিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করলেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি রিপাবলিকান দলের সঙ্গে যুক্ত। এই রাজনীতিবিদ তাঁর নিজ দলের প্রেসিডেন্টের পক্ষ নিয়ে বলেন, ‘তিনি যদি সংক্ষুব্ধ হন, কোনো কারণে তাঁর মনে সন্দেহ থাকে, তাহলে আইনের আশ্রয় তো নিতেই পারেন। এতে আমি তো কোনো ভুল দেখছি না।’ কিন্তু ভোট কারচুপির এমন অভিযোগ এবং বিজয়ীকে সহায়তা না করা কি দেশের গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর হচ্ছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আদালতে যাওয়া গণতন্ত্রেরই অংশ। এটি বরং গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।’ আইনগতভাবেই পুরো বিষয়টির সমাধা হবে বলে মনে করেন তিনি।

এমন পরিস্থিতিতে দেশে যে এক ধরনের অনৈক্য প্রকট হয়ে উঠেছে, সেটা নিশ্চিতভাবেই বোঝা যাচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই চরম বিভক্তির সঙ্গে সঙ্গে করোনা মহামারি আর মানুষের মধ্যে নানা ধরনের অস্থিরতা মিলিয়ে পরিস্থিতি মোটেও সন্তোষজনক নয়। সেই সঙ্গে যে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তাতেও এক ধরনের অচলাবস্থা তৈরি করেছে।

অবশ্য নিউ ইয়র্ক স্টেট সিনেটর জন চুন ইয়া ল্যু মনে করেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর জো বাইডেনই পারবেন অনৈক্য দূর করে অচলাবস্থা কাটাতে। তিনি বলেন, ‘এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল নিয়ে আমি খুবই খুশি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা