kalerkantho

শনিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৮ নভেম্বর ২০২০। ১২ রবিউস সানি ১৪৪২

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ২০২০

সুযোগ হাতছাড়া না করার আহ্বান বাইডেনের

দুর্নীতিবাজদের কাছে দেশের নিয়ন্ত্রণ দেব না : ট্রাম্প

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৯ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সুযোগ হাতছাড়া না করার আহ্বান বাইডেনের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের শেষ মুহূর্তের প্রচার জমে উঠেছে। দুই প্রার্থীই নির্বাচনের আর মাত্র পাঁচ দিন সময় হাতে রেখে চষে বেড়াচ্ছেন দোদুল্যমান রাজ্যগুলোতে। জয়ে আশাবাদী ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী জো বাইডেন মঙ্গলবার আবারও প্রতিদ্বন্দ্বী ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মহামারির কাছে আত্মসমর্পণের অভিযোগ করে বলেছেন, তিনি ক্ষমতায় এলে ভাইরাস নিয়ন্ত্রণ করবেন।

জরিপে পিছিয়ে থাকলেও রিপাবলিকান প্রার্থী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প থেমে নেই। বাইডেনের তুলনায় কয়েক গুণ জোরদার প্রচার চালাচ্ছেন তিনি। রোজ গড়ে তিনটি জনসমাবেশ করছেন এই ধনকুবের আবাসন ব্যবসায়ী। মঙ্গলবার তিনি ছিলেন মিশিগান, উইসকনসিন ও নেব্রাস্কায়। প্রতিদ্বন্দ্বীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, এই নির্বাচন দ্রুত সেরে ওঠা এবং বিষণ্ন বাইডেনের মধ্যে যেকোনো একজনকে বেছে নেওয়ার পরীক্ষা।

জো বাইডেনের নির্বাচনী প্রচারের মূল ইস্যুই হচ্ছে কভিড-১৯। তিনি কখনোই এ বিষয় থেকে দূরে সরে যাননি। আর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একে ইস্যু হিসেবে স্বীকৃতি দিতেই নারাজ; যদিও তিনি নিজেই এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে বাধ্য হন। ট্রাম্প সেরে উঠলেও এ ভাইরাসের কারণে যুক্তারাষ্ট্রে দুই লাখ ৩০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

বাইডেন গত মঙ্গলবার জর্জিয়ার জনসভায়ও এ বিষয়টির ওপরই গুরুত্ব দেন। এরই মধ্যে বাইডেনের প্রচারে মাঠে নেমেছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির সবচেয়ে উজ্জ্বল তারকা বারাক ওবামা। দোদুল্যমান রাজ্য ফ্লোরিডা চষে বেড়াচ্ছেন তিনি। নির্বাচনে জিততে চাইলে ট্রাম্পকে অবশ্যই এ রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ পেতে হবে।

জর্জিয়ার জনসভায় বাইডেন বলেন, ‘যুদ্ধের সময় যে মনোবল নিয়ে একজন প্রেসিডেন্টকে লড়াই করতে হয়, কভিড-১৯-এর বিরুদ্ধে লড়াইটিও তেমন হওয়া উচিত ছিল। তা না করে প্রেসিডেন্ট এই মহামারির কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। তবে আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি, আমরা এই ভাইরাসকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি এবং আমরা কাজটি করব।’

১৯৯২ সালে প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের পর জর্জিয়া থেকে আর কোনো ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জিততে পারেননি। বিলের স্ত্রী হিলারি ক্লিনটন ২০১৬ সালে এই রাজ্যে ৫ পয়েন্টে পরাজিত হন ট্রাম্পের কাছে। ৭৭ বছর বয়সী বাইডেন বলেন, ‘আমরা এবার অবশ্যই জর্জিয়ায় জয় পাব। প্রায় শেষ সময়ে চলে এসেছি আমরা, কাজেই নিজের ক্ষমতাকে চিনে নিন। সুযোগ হাতছাড়া করবেন না।’

ট্রাম্প মঙ্গলবার প্রচার চালান মিশিগান, উইসকনসিন  ও নেব্রাস্কায়। ঘূর্ণিচালে প্রচার চালাচ্ছেন ট্রাম্প। মঙ্গলবারের তিনটি জনসভা সেই আদলেই পরিচালিত। চারপাশে ঠাসা দর্শকের মধ্যে একটি উন্মুক্ত মঞ্চ। সেখানে সমর্থকদের উল্লাসধ্বনির মধ্যে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প বলেন, ‘কট্টর সমাজপন্থী দলের কাছে আমরা হেরে যেতে পারি না। ওয়াশিংটনের দুর্নীতিবাজ মহলের কাছে আমরা আবার দেশের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেব না।’ এ সময় তিনি জো বাইডেনের ছেলে হান্টার বাইডেনের ব্যবসায় দুর্নীতির কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বেশ কিছুদিন ধরেই বিষয়টি নিয়ে লেগে রয়েছেন। তবে তথ্য-প্রমাণের অভাবে বিষয়টি খুব একটা গুরুত্ব পাচ্ছে না। ফক্স নিউজ পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, ট্রাম্পের সমর্থকদের মধ্যে মাত্র ২১ শতাংশ বিষয়টি বিশ্বাস করে।

ট্রাম্প অবশ্য শুধু জনসভাই নয়, এখনো অত্যন্ত সরব টুইটারেও। তিনি মঙ্গলবার এক টুইটে অভিযোগ করেন, গণমাধ্যম তাঁর পুনর্নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতেই ‘কভিড কভিড কভিড’ বলে চেঁচিয়ে চলেছে। সূত্র : এএফপি।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা