kalerkantho

মঙ্গলবার । ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৪ নভেম্বর ২০২০। ৮ রবিউস সানি ১৪৪২

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ২০২০
জর্জিয়ায় দ্বৈরথ

বাইডেন আফসোস করবেন : ট্রাম্প

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৮ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাইডেন আফসোস করবেন : ট্রাম্প

আটলান্টার উপশহর স্মিরনার এক ভোটকেন্দ্রের বাইরে লম্বা লাইন। শেষ অক্টোবরের তীব্র গরম উপেক্ষা করে ভোটাররা দাঁড়িয়ে আছে। মুখে মাস্ক। প্রতিবেশী আর স্বেচ্ছাসেবীরা এসে পানি বা হালকা খাবার দিয়ে যাচ্ছে। শুধু আটলান্টা নয়, পুরো জর্জিয়াই রিপাবলিকান পার্টির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। পিচগাছের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত এই রাজ্যে ১৯৯২ সালে বিল ক্লিনটনের পর আর কোনো ডেমোক্র্যাট জিততে পারেননি। তবে এবারের চিত্র একটু ভিন্ন। ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন এবং রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান জরিপগুলোতে প্রায় সমান। সাতাত্তরের বাইডেন ‘অতি আত্মবিশ্বাসী’ নন, তবে আস্থা রাখতে চান, জর্জিয়া এবার তাঁর পক্ষে দাঁড়াবে।

এবারের নির্বাচনীযজ্ঞে রাজ্য হিসেবেও জর্জিয়া ডেমোক্রেটিক পার্টির কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এ রাজ্যে ইলেকটোরাল ভোটের সংখ্যা ১৬টি আর সিনেটের দুটি আসনে নির্বাচন হতে যাচ্ছে। গতবার রাজ্য জয় করেছিলেন ট্রাম্প। সিনেটের আসনও তাঁদের নিয়ন্ত্রণেই। বাদবাকি হিসাব ঠিক থাকলে ডেমোক্রেটিক পার্টি সিনেটের এ দুটি আসন পেলেই উচ্চকক্ষের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে চলে যাবে।

এ রাজ্যেই আগাম ভোট চলছে। হিসাব বলে, এরই মধ্যে অন্তত ৪০ শতাংশ ভোট দেওয়া হয়ে গেছে। নির্বাচনের আগে নিশ্চিতভাবেই এ হার আরো বাড়বে। এক কোটি ছয় লাখ জনসংখ্যার এ রাজ্য কৃষ্ণাঙ্গের সংখ্যা এক-তৃতীয়াংশ। বর্ণবাদ নিয়ে চলমান তীব্র বিতর্কের এই সময়ে বিষয়টি ডেমোক্রেটিক পার্টির জন্য ইতিবাচক হবে বলেই ধারণা তাদের।

যদিও বিশ্লেষক বা জারিপের কোনো ধারণা বা আশঙ্কা নিয়ে বসে নেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বরং ঘূর্ণিগতিতে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। এয়ারফোর্স ওয়ানে আসীন হয়ে দিনে দুই থেকে তিনটি করে জনসভা করে বেড়াচ্ছেন তিনি। গত সোমবার ট্রাম্প প্রচার চালান দোদুল্যমান রাজ্য পেনসিলভানিয়ায়। তিনটি জনসভা করেন। আত্মবিশ্বাসী ট্রাম্প এ সময় বলেন, ‘পেনসিলভানিয়াকে আমরা পেয়ে গেছি। পুরো রাজ্য জয় হয়ে গেছে আমাদের।’ ২০১৬ সালের নির্বাচন এবং জরিপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আবারও একই ঘটনা ঘটবে। ফলও একই হবে। শুধু ব্যবধান আরো বাড়বে। তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী বাইডেনের প্রচারবিমুখতা নিয়েও কথা বলেন, বাইডেন হারবে এবং তাঁর নিজের কাজ না করা নিয়ে আফসোস হবে।

বাইডেন অবশ্য উল্টো ট্রাম্পকেই লজ্জিত হতে বলেছেন। তাও কাজের জন্যই। বিষয় যদিও ভিন্ন। ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘কভিড-১৯ সংকট সমাধানে ট্রাম্প কোনো ব্যবস্থাই নেননি। তাঁর লজ্জিত হওয়া উচিত। সোয়া দুই লাখ মার্কিন এই ভাইরাসের কারণে মারা গেছে।’ দৌড়ঝাঁপ করে প্রচার না চালানোর পক্ষেও সাফাই দিয়েছেন বাইডেন। তিনি বলেন, ‘আমি স্বাস্থ্যবিধি মেনে নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছি আর ট্রাম্পের ওসবের বালাই নেই। এ কারণেই এ মাসের শুরুর দিকে করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল প্রেসিডেন্টকে।’ বাইডেনের পক্ষে এরই মধ্যে মাঠে নেমেছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির তারকা প্রার্থী বারাক ওবামা। দোদুল্যমান রাজ্যগুলোতে তিনি সফর করছেন। সক্রিয় টুইটারেও। তবে ওবামা বা দলের প্রচেষ্টায় ‘সবচেয়ে কম সফরকারী প্রেসিডেন্ট প্রার্থী’ হিসেবে যে লেবেল বাইডেনের গায়ে সেঁটে বসে গেছে তা হয়তো আর খসানো যাবে না। তা তিনি নির্বাচনে জিতুন বা হারুন। সূত্র : এএফপি।

 

মন্তব্য