kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ১ ডিসেম্বর ২০২০। ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২

‘জনগণকে শুধুই ভোটার ভাবলে হবে না’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৭ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



‘জনগণকে শুধুই ভোটার ভাবলে হবে না’

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জামানায় বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র গভীর সংকটাপন্ন। অন্তঃসারশূন্য হয়ে পড়েছে। অর্থনীতির সংকট তো গভীরতর হয়েছেই, গণতন্ত্রের প্রতিটি স্তম্ভই পড়ে গেছে বিপদে। প্রতিবাদীদের অবদমন ও নানাভাবে হেনস্তার মাধ্যমে বাকস্বাধীনতার অধিকারকে খর্ব করা হচ্ছে। একটি সর্বভারতীয় ইংরেজি দৈনিকে প্রকাশিত নিবন্ধে এ কথা লিখেছেন ভারতের কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী।

সোনিয়ার বক্তব্য, মোদি জামানায় বিরোধী ও বিক্ষুব্ধদের ‘সন্ত্রাসবাদী’ বা ‘জাতীয়তাবাদবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হচ্ছে। সরকারবিরোধী যেকোনো পদক্ষেপকেই ‘জাতীয় নিরাপত্তার পক্ষে বিপজ্জনক’ তকমা লাগিয়ে তার মুখ বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। মুখ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। এ সবই করা হচ্ছে দৈনন্দিন সমস্যাগুলো থেকে মানুষের নজর অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার জন্য। সন্ত্রাসবাদ বা জাতীয়তাবাদবিরোধী সমস্যা নেই যে তা নয়। কিন্তু সেগুলো মোকাবেলার জন্য যতটা আপসহীন হওয়া প্রয়োজন তার ছাপ মোদি সরকার ও বিজেপির কাজকর্মে দেখা যাচ্ছে না। বরং এনডিএ সরকার এবং বিজেপিবিরোধী যেকোনো রাজনৈতিক প্রতিবাদকেই চক্রান্ত বলে মনে করা হচ্ছে। প্রতিবাদীদের মুখ বন্ধ করতে তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন তদন্ত সংস্থাকে লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে বা তাদের সামাজিকভাবে হেনস্তা করা হচ্ছে। এভাবে বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রকে অন্তঃসারশূন্য করে তোলা হচ্ছে।

সোনিয়ার অভিযোগ, যত রকমভাবে রাজনৈতিক বিরোধী, প্রতিবাদীদের হেনস্তা করা সম্ভব, মোদি সরকার এর সবই করে চলেছে। এর জন্য পুলিশকে কাজে লাগানো হচ্ছে। কাজে লাগানো হচ্ছে এনফোর্সমেন্ট ডাইরেক্টরেট (ইডি), কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো (সিবিআই), জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ), এমনকি নারকোটিকস ব্যুরোকেও। এগুলোর সবই এখন চলছে প্রধানমন্ত্রী মোদির কার্যালয় এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অঙ্গুলি হেলনে। যে রাষ্ট্রযন্ত্রগুলোকে নাগরিকের কল্যাণে কাজে লাগানো প্রয়োজন সেগুলোকেই উত্তরোত্তর আরো বেশি করে কাজে লাগানো হচ্ছে মোদি সরকার ও বিজেপির বিরোধীদের বিরুদ্ধে।

সোনিয়া লিখেছেন, ‘ভারতের জনগণকে শুধুই ভোটার ভাবলে হবে না। তারাই, শুধু তারাই আসলে এই দেশ, এই জাতি। তাদের সবাইকে রক্ষা করাই সরকারের দায়িত্ব। একটি অংশকে দেখা আর অন্য অংশটিকে উপেক্ষা করা সরকারের কাজ হতে পারে না। দেশের সংবিধানকে অক্ষরে অক্ষরে মেনে চললেই ভারতের গণতন্ত্র টিকবে। না হলে সেই গণতন্ত্র উত্তরোত্তর অন্তঃসারশূন্য হয়ে পড়বে।’ সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা