kalerkantho

শনিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৮ নভেম্বর ২০২০। ১২ রবিউস সানি ১৪৪২

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ২০২০

ট্রাম্প-বাইডেনের সত্য-মিথ্যা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৪ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ট্রাম্প-বাইডেনের সত্য-মিথ্যা

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের নাশভিলে বৃহস্পতিবার প্রেসিডেনশিয়াল বিতর্ক শেষে মঞ্চে ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (বাঁয়ে) এবং স্ত্রী জিল বাইডেনের সঙ্গে জো বাইডেন। ছবি : এএফপি

সত্য-মিথ্যার মিশেলে নিজেদের মধ্যকার শেষ প্রেসিডেনশিয়াল বিতর্ক পার করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জো বাইডেন। দেখে নেওয়া যাক, গত বৃহস্পতিবারের বিতর্কে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোয় দুই প্রার্থীর কে কতটা সত্য বা মিথ্যা বলেছেন।

করোনাভাইরাস : প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে এবং ‘এটা বিদায় নিচ্ছে’।

বাস্তবতা উল্টো। করোনা সংক্রমণ বিশ্বব্যাপী দ্বিতীয় দফা বাড়তে শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে গত অক্টোবরে যেখানে দৈনিক শনাক্তের সংখ্যা ছিল প্রায় ৫০ হাজার, সেখানে বর্তমানে সংখ্যাটা দৈনিক ৬০ হাজারে দাঁড়িয়েছে। চলতি মাসের শুরুর তুলনায় বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তির হার বেড়েছে ৩০ শতাংশ।

করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা নিয়েও তথ্যবিভ্রাট ঘটিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, বৈজ্ঞানিক মডেল অনুসারে যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় ২২ লাখ লোকের মৃত্যুর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। তথ্যটা আংশিক সত্য। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, মহামারি নিয়ন্ত্রণে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়া হলে ২২ লাখ লোকের মৃত্যু হতে পারে।

এদিকে বাইডেন দাবি করেছেন, ‘লাল’ (রিপাবলিকান অধ্যুষিত) অঙ্গরাজ্যগুলোয় করোনা সংক্রমণ বাড়ছে। সত্যিটা হলো, ৫০টি অঙ্গরাজ্যের ৪০টিতেই সংক্রমণ বাড়ছে, হোক তা রিপাবলিকান বা ডেমোক্র্যাট অধ্যুষিত এলাকা।

কারাবন্দি : বাইডেন জানিয়েছেন, তাঁর ভাইস প্রেসিডেন্সিকালে দণ্ডপ্রাপ্ত এক হাজারের বেশি অপরাধীর সাজা কমানো হয়েছে। ওই সময় কারাবন্দির সংখ্যা ৩৮ হাজার কমানো হয়েছে—এমন দাবিও করেন তিনি।

বাইডেনের দেওয়া প্রথম তথ্য সত্য হলেও দ্বিতীয়টি নয়। তাঁর শাসনামলে বন্দির সংখ্যা কমেছিল সাড়ে ১৬ হাজার, অথচ বাইডেনের দাবি মতে সংখ্যাটা দ্বিগুণেরও বেশি।

ন্যাটোর প্রতিরক্ষা বাজেট : ট্রাম্প দাবি করেছেন, তাঁর উদ্যোগে নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশনের (ন্যাটো) সদস্য দেশগুলোর জোটে প্রদেয় বাজেটের পরিমাণ ১৩ হাজার কোটি ডলার থেকে বাড়িয়ে বছরে ৪২ হাজার কোটি ডলার করেছে।

ন্যাটোর প্রতিরক্ষা বাজেটের পরিমাণ বৃদ্ধির অঙ্কটা ঠিক থাকলেও সেটা বাৎসরিক নয়। কানাডা ও ইউরোপীয় দেশগুলো ২০১৬ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ন্যাটোর প্রতিরক্ষা ব্যয় বাবদ বাড়তি ১৩ হাজার কোটি ডলার দিয়েছে। ২০২৪ সাল নাগাদ অঙ্কটা ৪২ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছবে।

চীন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য ঘাটতি : বাইডেনের অভিযোগ, ট্রাম্পের শাসনামলে বেইজিং-ওয়াশিংটন বাণিজ্য ঘাটতি কমার পরিবর্তে বেড়েছে। অভিযোগটা সত্য নয়।

২০১৭ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিয়েছেন। সে বছর চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি বাড়লেও পরের বছর থেকে তা কমতে শুরু করে এবং সে ধারা চলতি বছরেও অব্যাহত আছে।

দুই দেশের বাণিজ্য ইস্যুতে ট্রাম্প দাবি করেন, চীনা পণ্যের ওপর মার্কিন প্রশাসনের শুল্ক আরোপের কারণে চীনকে ‘হাজার হাজার কোটি ডলার’ শুল্ক দিতে হচ্ছে। বাইডেন সঙ্গে সঙ্গে ওই তথ্য শুধরে দিয়ে জানান, অর্থটা যাচ্ছে মার্কিন করদাতাদের পকেট থেকে। বাস্তবতা সেটাই। চীনা পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করায় তা আমদানি করতে গিয়ে মার্কিনদেরই শুল্ক দিতে হচ্ছে।

অভিবাসী : ট্রাম্পের দাবি, বাইডেনের প্রশাসন অভিবাসীদের জন্য ‘খাঁচা’ বানিয়েছিল এবং পরবর্তী সময়ে ওই নীতিতে পরিবর্তন এনেছেন ট্রাম্প নিজে।

ট্রাম্পের এ বক্তব্য খণ্ডনে প্রেক্ষাপট তুলে ধরা প্রয়োজন। যে বিপুলসংখ্যক শিশু একাকী সীমান্ত পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকছিল, তাদের সর্বোচ্চ ৭২ ঘণ্টার জন্য শিকল ঘেরা এক শিবিরে রাখা হতো এবং এ সময়ের মধ্যেই তাদের যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হতো।

সূত্র : বিবিসি, এএফপি।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা