kalerkantho

সোমবার । ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৩ নভেম্বর ২০২০। ৭ রবিউস সানি ১৪৪২

চিত্রাল, গিলগিট, কাশ্মীরের বিকৃত ইতিহাস

২৩ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কাশ্মীর নিয়ে আজও রয়েছে অনেক ভ্রান্ত ধারণা। সেই ভুল ধারণার মূল কারণ ইতিহাসের বিকৃতি। ভারতভাগের আগে থেকেই তৈরি হয়েছিল অবিশ্বাসের বাতাবরণ। দ্বিজাতিতত্ত্বে ভর করে কাশ্মীর সমস্যার সূত্রপাত ব্রিটিশ যুগেই। সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিতে কাশ্মীরকে দেখতে গিয়ে সমস্যা তৈরি হয়। দেশভাগ নিয়ে ভারতের স্বাধীনতাসংগ্রামীরা কেন এত হুটোপুটি করেছিলেন, সেটা নিয়েও অনেকের মনে সংশয় রয়েছে। দেশভাগ নিয়ে আরো চিন্তা-ভাবনার প্রয়োজন ছিল। অনেক প্রশ্নের জবাব আজও রহস্যজনক রয়ে গেছে।

বালতিস্তান, সাকহাম উপত্যকা, আকসাই চীন ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরকে (পিওকে) ভারতের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হিসেবে দেখানো হলেও জম্মু ও কাশ্মীরের মানচিত্রে চিত্রালের কোনো উল্লেখ নেই। কিন্তু চিত্রাল কাশ্মীরের অধীনেই ছিল। অথচ চিত্রালকে পাকিস্তানের অঙ্গ হিসেবে দেখানো হলেও কেউ আপত্তি করেনি। ১৮৭০ সালে অ্যাংলো-আফগান যুদ্ধকালে ব্রিটিশরা আফগানিস্তানকে পরাস্ত করার বিষয়ে যথেষ্ট চিন্তায় ছিল। আফগানিস্তান চিত্রালের মেহতারকে হুমকিবার্তা পাঠায়। বলা হয়, ব্রিটিশবিরোধী যুদ্ধে আফগান পক্ষ না নিলে চিত্রাল আক্রমণ করা হবে। তখন ব্রিটিশদের পরামর্শে মহারাজা চিত্রালের সঙ্গে সন্ধি করেন। কাশ্মীরের মহারাজার সঙ্গে চুক্তির ভিত্তিতেই ১৮৭৮ থেকে চিত্রাল কাশ্মীরের অঙ্গ। এই চুক্তি মতেই চিত্রালের মেহতার কাশ্মীরের মহারাজার নির্দেশ মানতে বাধ্য।

১৯৩৯ সালে চিত্রালের মেহতার কাশ্মীর দরবারে ১৮৭৮-এর চুক্তি মতে সরাসরি আলোচনার বিষয়ে যথেষ্ট আগ্রহী ছিলেন। সেই চুক্তিতে ব্রিটিশদের কোনো উল্লেখই ছিল না। অর্থাৎ কাশ্মীর নিয়ে ব্রিটিশদের কোনো ভূমিকাই ছিল না। ১৯৩৫ সালে গিলগিট ওয়াজারাত অবশ্য ইংরেজশাসিত ভারত সরকারের হস্তগত হয়। এই সময়ই কাশ্মীরের সঙ্গে চিত্রালের চুক্তির বিষয়টি নতুন করে সামনে আসে। কিন্তু বিশ্বযুদ্ধের কারণে ফের ধামাচাপা পড়ে যায় চিত্রালের বিষয়টি। দু-দুটি বিশ্বযুদ্ধ চিত্রালের সঙ্গে কাশ্মীরের সম্পর্ক নিয়ে কাউকে ভাবার অবসরই দেয়নি।

তাই সাতচল্লিশের অক্টোবরের তৃতীয় সপ্তাহেই কাশ্মীর আক্রমণের পেছনে ব্রিটিশ পৃষ্ঠপোষকতার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। মহারাজার বাহিনীর ব্রিটিশ সামরিক অফিসার মেজর উইলিয়াম আলেকজান্ডার সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গিলগিট দখল করে সেখানে পাকিস্তানি পতাকা উত্তোলন করেন। একইভাবে বালতিস্তানও পাকিস্তানের অঙ্গ হয়ে ওঠে। চিত্রাল কাশ্মীরের অঙ্গ হলেও তা নিয়ে ভারত কখনো মাথাব্যথা দেখায়নি। উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ, বেলুচিস্তান ছাড়াও পাকিস্তানের বহু এলাকাই ভারতের হাতছাড়া হোক এটা ব্রিটিশরা চেয়েছিল। রহস্যজনক ভারতের ভূমিকা। দেশভাগের ৭০ বছর পার হয়ে গেলেও পাকিস্তানের দখলদারি নিয়ে এতকাল কোনো উচ্চবাচ্য করতে শোনা যায়নি। ১৯৩৫ সালের ব্রিটিশ-ভারত গভর্নমেন্ট গিলগিট দখল করতে চেয়েছিল। কিন্তু করেনি। বলা ভালো করতে পারেনি। কারণ গিলগিট ছিল কাশ্মীরের মহারাজার অধীনে। চিত্রাল কাশ্মীরের অধীনেই ছিল। ১৯১৪ সালের চুক্তিতেই এর উল্লেখ রয়েছে। আইচিসন চুক্তির ১১ খণ্ডের ৪২৮ পৃষ্ঠায় এ বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে। ভারতীয় অঙ্গরাজ্যের সংজ্ঞা অনুযায়ীই চিত্রালকে কাশ্মীরের অঙ্গ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত ছিল। কিন্তু বিষয়টি পাশ কাটিয়ে যাওয়ার জন্য ব্রিটিশরাই সেই আইনের সংশোধন করে। ১৯৫৩ সালের মাঝামাঝি সিন্ধুর পানি নিয়ে সমস্যা দেখা দেয়। সেই সময় পাকিস্তানের দাখিল করা মানচিত্রে সাবেক গিলগিটকে পাকিস্তানের অঙ্গ হিসেবেই দেখানো হয়।

মন্তব্য