kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ১ ডিসেম্বর ২০২০। ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ২০২০

ট্রাম্পের একমাত্র সাফল্য ইসরায়েলে

পররাষ্ট্রনীতি

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২২ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইসরায়েল অধিকৃত গোলান মালভূমির প্রবেশপথেই চোখে পড়বে ‘ট্রাম্প হাইটস’। স্বর্ণাক্ষরে লেখা এই ট্রাম্প হাইটস কোনো বিলাসবহুল হোটেল কিংবা গলফ মাঠ নয়; বরং এটি ইসরায়েলের একটি আবাসন প্রকল্পের নাম। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত বছর গোলানকে ইসরায়েলি ভূখণ্ডের স্বীকৃতি দেওয়ার পর দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রকল্পটি উদ্বোধন করেন।

গোলান মালভূমি কৌশলগত সামরিক এলাকা। ১৯৬৭ সালের ছয় দিনের যুদ্ধের সময় ইসরায়েল এটি সিরিয়ার কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়। ট্রাম্প গোলান মালভূমিকে ইসরায়েলি ভূখণ্ডের স্বীকৃতি দিলেও সেখানে বসতি নির্মাণ আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে ট্রাম্প অবশ্য ইসরায়েলকে অনেক কিছু দিয়েছেন। আর সব কিছুই তিনি করেছেন ভোটের হিসাব-নিকাশ থেকে। যুক্তরাষ্ট্রে ইভানজেলিক্যাল মতাদর্শের অনেক খ্রিস্টান রয়েছে। এই মতাদর্শ অনুসারে, ইসরায়েলি রাষ্ট্র গঠনের কথা বাইবেলে বলা হয়েছে। এ ছাড়া এটি যিশুর পুনরাবির্ভাবের পূর্বশর্তও।

এ ছাড়া মার্কিন নির্বাচনে ইহুদি লবির ভূমিকা অপরিসীম। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ইহুদিদের রাশ এদের হাতেই থাকে, যার সংখ্যা মোটেই কম নয়। মূলত এই লবিকে তুষ্ট করতেই ট্রাম্প এই পদক্ষেপ নেন। জেরুজালেমকে রাজধানীর স্বীকৃতি দেওয়াও এই ভোটের হিসাবেরই একটি অংশ, যা ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার পর থেকে আর কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট করার সাহস দেখাতে পারেননি। তবে শুধু ভোটের হিসাবই নয়, ভোটের তহবিলে দেওয়া চাঁদার হিসাবও ইহুদি লবিকে তুষ্ট রাখার পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে কাজ করে। ইহুদি লবিতে ধনী ব্যবসায়ীর সংখ্যা প্রচুর। তাঁদের দেওয়া চাঁদার পরিমাণও কম নয়।

 

মধ্যপ্রাচ্যে ট্রাম্পের সাফল্য অবশ্য এটুকুতেই সীমাবদ্ধ নয়। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চুক্তি করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন। তা কার্যকরও হয়েছে। অর্থাৎ এখানেও সেই ইসরায়েলই। দুর্ভাগ্যজকভাবে ট্রাম্পের অভিধানে ফিলিস্তিন শব্দটিই নেই। ত্রাণ দেওয়ার প্রকল্পটিও বাতিল করে দেন তিনি। এমনকি মধ্যপ্রাচ্য শান্তি পরিকল্পনাও তিনি ঘোষণা করেছেন শুধুই নেতানিয়াহুকে নিয়ে। সেখানে ফিলিস্তিনের কোনো প্রতিনিধি ছিলেন না। অথচ ওই পরিকল্পনায় ভাগ্য নির্ধারণ করা হয় ফিলিস্তিনি জনগণের।

এর বাইরে নানা সময় উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক ভালো করার চেষ্টা করেছেন ট্রাম্প। পারেননি। ইরানের সঙ্গে পরমাণুচুক্তি থেকে বের হয়ে এসে চরম সংকট তৈরি করেছেন। চীনের সঙ্গে বৈরিতা তৈরি হয়েছে। পাশে রাখতে পারেননি ইউরোপীয় মিত্রদেরও। বরং নানা সময় বিরূপ মন্তব্যের কারণে ইউরোপ ট্রাম্পের কাছ থেকে দূরে সরে গেছে। ফলে সামগ্রিক প্রেক্ষাপট বিচারে গত চার বছরের প্রেসিডেন্সিতে ট্রাম্পের বৈদেশিক সাফল্য একটিই—ইসরায়েল। আর কোনো সম্পর্কের ক্ষেত্রে এতটা সাফল্য দেখাতে পারেননি তিনি। সূত্র : এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা