kalerkantho

সোমবার । ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৩০ নভেম্বর ২০২০। ১৪ রবিউস সানি ১৪৪২

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ২০২০

বাইডেন কতটা আস্থাভাজন?

ট্রাম্পের তীর বাইডেনের ছেলে হান্টারের দিকে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২২ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাইডেন কতটা আস্থাভাজন?

বাইডেনের ছেলে হান্টার বাইডেন ২০১৪ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ইউক্রেনের জ্বালানি প্রতিষ্ঠান বারিসমায় কাজ করেছেন আর বাইডেন ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন ২০০৯ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত। অভিযোগ রয়েছে, ভাইস প্রেসিডেন্ট থাকার সময় তিনি বারিসমার দুর্নীতির তদন্তকারী শীর্ষ ইউক্রেনীয় আইনজীবীকে পদচ্যুত করার চেষ্টা চালিয়েছেন। এ ব্যাপারে বাইডেনের দাবি, শুধু তিনি নন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) কর্তৃপক্ষও ইউক্রেনের ওই আইনজীবীকে সরানোর চেষ্টা করেছিল। তবে বারিসমার দুর্নীতি ঢাকার জন্য নয়, বরং ওই আইনজীবী দুর্নীতিবিরোধী তদন্তে গতি আনতে পারেননি বলে তাঁকে অপসারণের চেষ্টা করা হয়েছে।

এদিকে বারিসমায় নিজের কার্যক্রম সম্পর্কে পরবর্তীকালে হান্টার দাবি করেছেন, তিনি হয়তো সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন, কিন্তু তিনি কোনো অন্যায় করেননি। বাইডেন পরিবার যেমন দাবিই করুক, বারিসমা দুর্নীতিতে তাদের ভূমিকার ব্যাপারে তদন্ত শুরুর জন্য ইউক্রেন সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এতে বাইডেন পরিবার সম্পর্কে তিনি কোনো তথ্য পাওয়া দূরে থাক, উল্টো ক্ষমতার অপব্যবহার এবং কংগ্রেসের কাজে বাধাদানের অভিযোগে অভিশংসনপ্রক্রিয়ার মধ্যে পড়ে যান। সিনেটে রিপাবলিকানদের আধিপত্য থাকায় সে যাত্রা বেঁচে গেছেন ট্রাম্প।

ও রকম গুরুতর পরিস্থিতির শিকার হওয়ার পরও বাইডেনের পিছু ছাড়েননি ট্রাম্প। নির্বাচনী প্রচারগুলোয় তিনি বলে বেড়াচ্ছেন, ‘বাইডেন একজন অপরাধী, বহুদিন ধরেই উনি অপরাধী।’

এর মধ্যেই চাউর হয়েছে নতুন খবর। এক দোকান মালিক দাবি করেছেন, হান্টার নিজের ল্যাপটপ সারাইয়ের জন্য তাঁর দোকানে দিয়েছিলেন, কিন্তু কখনো সেটা ফেরত নিতে আসেননি। সেই ল্যাপটপ ঘেঁটে পাওয়া এক ই-মেইলের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমে বলা হচ্ছে, তাতে বাইডেন ও তাঁর ছেলে হান্টারের দুর্নীতির তথ্যসূত্র পাওয়া গেছে।

এসব ব্যাপারে বাইডেনকে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করলে সরাসরি জবাব দেওয়ার পরিবর্তে ‘নোংরা প্রচার’ বলে উড়িয়ে দেন তিনি। গত ২৯ সেপ্টেম্বর প্রথম প্রেসিডেনশিয়াল বিতর্কে ট্রাম্প যখন হান্টারের বিষয়টি নিয়ে বাইডেনের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন, তখনো এর উত্তর এড়িয়ে যান ওই ডেমোক্র্যাট নেতা।

এ ছাড়া বাইডেনের প্রচার প্রতিনিধি জেনা আরনল্ডকে যখন হান্টারের ল্যাপটপ ও ই-মেইল ইস্যুতে প্রশ্ন করা হয়, তখন তিনিও বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার করার পরিবর্তে বলেন, ‘কেউ ওগুলোকে ভুয়া বলেছে, তেমনটা তো আমার মনে হয় না।’

নির্বাচনের আগে হান্টার কাহিনির সত্যতা জানা জরুরি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, যিনি প্রেসিডেন্ট হতে পারেন, তাঁর ওপর কতটা আস্থা রাখা যায়, তা জানা জাতির অধিকার। সূত্র : ফক্স নিউজ, এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা