kalerkantho

সোমবার । ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৩০ নভেম্বর ২০২০। ১৪ রবিউস সানি ১৪৪২

ভোট নির্ধারণ করবে জলবায়ুর ভবিষ্যৎ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২০ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভোট নির্ধারণ করবে জলবায়ুর ভবিষ্যৎ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে কার্বন নিঃসরণ কমানোর বৈশ্বিক লড়াইয়ের ভবিষ্যৎ। গত চার বছরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জলবায়ু নিয়ে যে ধরনের নেতিবাচক একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাতে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, তিনি পুনর্নির্বাচিত হলে উষ্ণতা বৃদ্ধির বিপর্যয় রোধ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে।

করোনাভাইরাস মহামারির আমলে জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত ভয়াবহ চিত্র আমাদের সামনে আরো স্পষ্ট হয়ে প্রতীয়মান হয়েছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধি, বরফ গলে যাওয়া, দাবানলে আমাজন ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার বনভূমি নাশ—সব মিলিয়ে এক চরম অবস্থার মধ্যে দিন পার করছি আমরা। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, বৈশ্বিক উষ্ণতা হ্রাসের সম্ভাবনা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে। আর হাতে থাকা স্বল্প সময়ের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে ঘটনাটি ঘটতে চলেছে তা হলো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। আমেরিকানরা বেছে নেবে ট্রাম্প ও তাঁর ডেমোক্র্যাট প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেনের মধ্যে কোনো একজনকে। বলে রাখা ভালো, বিশ্বের সর্বোচ্চ কার্বন নিঃসরণকারীদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান বর্তমানে দ্বিতীয়।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কার পাল্লায় ট্রাম্পের অবস্থাই বেশি ভারী। ২০১৬ সালের নির্বাচনী প্রচারের সময় থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত জলবায়ু পরিবর্তনের সংকটকে তিনি ‘ভুয়া সমস্যা’ হিসেবে অভিহিত করে এসেছেন। তাঁর চার বছরের শাসনকালে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার পূর্বসূরি বারাক ওমাবার সময়ের তুলনায় দ্বিগুণ বেড়েছে। এতে ট্রাম্পের প্রত্যক্ষ সমর্থন ছিল। পরিবেশ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বরাবরের অবস্থান থেকেও সরে গেছেন তিনি।

এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়ের খবরটি হলো, ৩ নভেম্বর নির্বাচনের ঠিক এক দিন পর আনুষ্ঠানিকভাবে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে সরে যাবে যুক্তরাষ্ট্র। কার্বন নিঃসরণ কমাতে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় এই চুক্তির ব্যাপারে একমত হয় সদস্য রাষ্ট্রগুলো। ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পরপরই এই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের যুক্তি ছিল, মার্কিনদের কাজের সুযোগ কমিয়ে দিচ্ছে এই জলবায়ু চুক্তি।

জলবায়ুবিষয়ক বিজ্ঞানী মাইকেল মান বলেন, ‘জলবায়ু চুক্তি থেকে বের হয়ে এসে এরই মধ্যে আমাদের নৈতিক অবস্থান ধসিয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। জলবায়ু ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব ছাড়া বাকি বিশ্ব কার্বন নিঃসরন কমাতে ইতিবাচন ভূমিকা রাখতে পারবে বা সফল হবে বলে আমি মনে করি না। এ কারণে আমি এবারের নির্বাচনকে ভাঙাগড়ার ভোট বলে অভিহিত করেছি।’

অন্যদিকে জো বাইডেন ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি জয়লাভ করলে দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁর প্রথম কাজই হবে জলবায়ু চুক্তিতে ফিরে যাওয়া। এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন রোধে বিজ্ঞানীদের দেওয়া পরামর্শ মেনে ব্যবস্থা নেবেন তিনি। এরই মধ্যে তিন ট্রিলিয়ন অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন বাইডেন। তবে বাস্তবে কী ঘটতে যাচ্ছে, তা জানার জন্য আমাদের নভেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। কারণ ওই সময়ই ফল প্রকাশ করা হবে। সূত্র : এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা