kalerkantho

বুধবার । ৫ কার্তিক ১৪২৭। ২১ অক্টোবর ২০২০। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

আদভানি-জোশিসহ সব আসামি খালাস

বাবরি মসজিদ ধ্বংস পূর্বপরিকল্পিত ছিল না

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ভারতের অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় বিজেপি নেতা লালকৃষ্ণ আদভানি, মুরলি মনোহর জোশি, উমা ভারতীসহ মোট ৩২ জন অভিযুক্তকে গতকাল বুধবার আদালত অব্যাহতি দিয়েছেন। ২৮ বছর আগের ওই ঘটনার মামলার রায়ে লখনউয়ের বিশেষ সিবিআই আদালতের বিচারক বলেন, ওই ঘটনার পেছনে কোনো ষড়যন্ত্র বা পূর্বপরিকল্পনা ছিল না। পুরোটাই ‘হঠাৎ ঘটে যাওয়া’ স্বতঃস্ফূর্ত জনরোষের ফল। ঘটনায় মোট অভিযুক্তের সংখ্যা ছিল ৪৯। এর মধ্যে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। অন্য ৩২ জনের সেদিনের ভূমিকায় কোনো অপরাধ খুঁজে পাননি আদালত। উল্টো ভাঙচুরের ঘটনা তাঁরা আটকানোর চেষ্টা করেছিলেন বলেও বলা হয়েছে রায়ে।

এর আগে গত নভেম্বরে বিতর্কিত ধর্মীয় ওই স্থানে একটি হিন্দু মন্দির বানানোর পক্ষে রায় দেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট।

১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর করসেবকরা মিলে মোগল সম্রাট বাবরের আমলে তৈরি বাবরি মসজিদ ধুলায় মিশিয়ে দেয়। অভিযোগ ছিল, রীতিমতো পরিকল্পনা করেই এ ঘটনা ঘটানো হয়েছিল। এর জন্য শাবল-গাঁইতি নিয়ে তারা জড়ো হয়েছিল। সেই ঘটনায় প্রবীণ বিজেপি নেতা তথা সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী লালকৃষ্ণ আদভানি, সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মুরলি মনোহর জোশি ও মধ্য প্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী উমা ভারতী, উত্তর প্রদেশের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী কল্যাণ সিংয়ের মতো নেতানেত্রীদের বিরুদ্ধে মসজিদ ভাঙার ষড়যন্ত্র, পরিকল্পনা এবং করসেবকদের উসকানি জোগানোর অভিযোগ ওঠে।

সেই মামলায় বুধবার দুই হাজার ৩০০ পাতার রায় দেন সিবিআই আদালতের বিচারক এস কে যাদব। তাতে বলা হয়, ‘মসজিদ ভাঙায় অভিযুক্তদের কারো হাত ছিল না। উন্মত্ত জনতাই এ ঘটনা ঘটিয়ে ফেলে। এর পেছনে সমাজবিরোধীদের হাতও ছিল। অভিযুক্তরা বরং মসজিদ ভাঙায় বাধা দেওয়ারই চেষ্টা করেছিলেন।’

বাবরি মসজিদ ধ্বংস মামলায় আদালতে একাধিক ভিডিও ও ছবি আদালতে জমা দিয়েছিল কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিবিআই)। কিন্তু সেগুলোর সত্যাসত্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অভিযুক্তদের আইনজীবী মণীশ ত্রিপাঠী। অভিযুক্তদের ফাঁসানোর জন্য সেগুলো বিকৃত করা হয়েছে বলে আদালতে দাবি করেন তিনি। তাঁর সেই দাবিই মেনে নেন বিচারক। অরিজিনাল নেগেটিভ জমা না করায় ছবিগুলোর সত্যতা নিয়ে ধন্দ প্রকাশ করেন তিনি। শুধু তা-ই নয়, কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা সাক্ষ্য-প্রমাণ আইনের নিয়ম-কানুন মেনে চলেননি বলেও অভিযোগ করেন। সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা