kalerkantho

শনিবার । ৮ কার্তিক ১৪২৭। ২৪ অক্টোবর ২০২০। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

কে কতটা সত্য বললেন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কে কতটা সত্য বললেন

মুখোমুখি ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জো বাইডেন ছবি : এএফপি

রেওয়াজ রক্ষা করে গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হয়ে গেল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী দুই প্রার্থীর প্রথম বিতর্ক। স্মরণকালের কদর্যতম ও তিক্ত এই বিতর্কে রিপাবলিকান প্রার্থী ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী জো বাইডেন যে যার মতো করে বহু তথ্য উপস্থাপন করেন। সঠিক তথ্য এবং প্রার্থীদের পরিবেশিত তথ্যের মধ্যে যথার্থতা যাচাই করে গতকাল বুধবার বহু গণমাধ্যমই বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এই প্রতিবেদনে সঠিক-বেঠিক তথ্য এবং এর যথার্থতা উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে।

ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ অর্থনীতি আমাদের : ট্রাম্প

অসত্য দাবি। মার্কিন অর্থনীতি বহুবার বর্তমান অবস্থার চেয়ে উন্নত অবস্থানে ছিল। এ কথা সত্য যে ট্রাম্প ক্ষমতা নেওয়ার পরপরই মার্কিন অর্থনীতি খানিকটা ফুলে-ফেঁপে ওঠে। তবে মহামারি শুরু হওয়ার পর সেই স্ফীতি আর টেকেনি।

‘বিশ্বের ৪% জনসংখ্যা আমাদের, অথচ মারা গেছে ২০% : বাইডেন

এ দাবির সত্যতা প্রমাণিত। বিশ্বের মোট জনসংখ্যা ৭৭০ কোটি। এর মধ্যে মার্কিন ৪ শতাংশ। করোনাভাইরাস মহামারি শুরু হওয়ার পর এতে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা এরই মধ্যে ১০ কোটি ছাড়িয়েছে, যার মধ্যে দুই লক্ষাধিক যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। বিতর্কে বাইডেন এত মানুষের মৃত্যুর জন্য বারবারই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেন।

ডাকে ভোটের মতো জালিয়াতি মানুষ কখনো দেখেনি : ট্রাম্প

ডাকযোগে ভোটে প্রবল জালিয়াতি হয়—বহুদিন থেকেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এমন দাবি করে আসছেন। তবে তথ্যগতভাবে এমন দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা হয়তো রয়েছে। করোনাভাইরাসের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বহু নাগরিক সশরীরে ভোটকেন্দ্রে না গিয়ে ডাকে ভোট পাঠাতে আগ্রহী। বলা বাহুল্য, এই ভোটারদের বেশির ভাগই ডেমোক্রেটিক পার্টির নিবন্ধিত সমর্থক। ফলে ট্রাম্প বিষয়টিকে দেখছেন ঝুঁকি হিসেবে।

১০ কোটি মানুষে জীবন হুমকির মুখে : বাইডেন

এই দাবির কোনো যথার্থতা নেই। প্রার্থীও এই দাবির পক্ষে কোনো জোরদার প্রমাণ দেখাতে পারেননি।

আর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই টিকা আসছে : ট্রাম্প

সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। রাজনৈতিকভাবে এই বক্তব্য শুনতে যতই চটকদার হোক না কেন, বাস্তব পরিস্থিতি তেমন ইঙ্গিত দিচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. অ্যান্থনি ফাউচি মনে করেন, এ বছরের ডিসেম্বর নাগাদ নিরাপদ ও কার্যকর টিকা পাওয়া যেতে পারে।

ট্রাম্প ওষুধের দাম কমাতে পারেননি : বাইডেন

অসত্য। ২০১৯ সালে ব্যবস্থাপত্রে উল্লিখিত ওষুধের দাম কিছুটা কমেছে। ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিসটিকস কনজ্যুমার প্রাইস ইনডেক্সের (সিপিআই) তথ্যে এমনটাই উল্লেখ করা হয়েছে।

বাইডেন একবার আফ্রিকান-আমেরিকানদের ‘দুর্দান্ত শিকারি বলে মন্তব্য করেন : ট্রাম্প

বাইডেন ‘শিকারি’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন। তবে তা আফ্রিকান-আমেরিকানদের ক্ষেত্রে নয়। ১৯৯৩ সালে বাইডেন কংগ্রেসে অপরাধবিষয়ক একটি বিল পাসের আগে বলেন, ‘আমাদের সড়কগুলোতে শিকারিরা ঘুরে বেড়াচ্ছে।’ তবে তিনি বিশেষ কোনো গোষ্ঠী বা গোত্রের নাম উল্লেখ করেননি। সূত্র : বিবিসি, সিএনএন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা