kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ কার্তিক ১৪২৭। ২০ অক্টোবর ২০২০। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

আর্মেনিয়া-আজারবাইজান যুদ্ধ গড়াল দ্বিতীয় দিনে

নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৯

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আর্মেনিয়া-আজারবাইজান যুদ্ধ গড়াল দ্বিতীয় দিনে

বিতর্কিত নাগোর্নি কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে দ্বিতীয় দিনে গড়াল আর্মেনিয়া ও প্রতিবেশী আজারবাইজানের সশস্ত্র লড়াই। এই লড়াইয়ে গতকাল সোমবার শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত উভয় পক্ষের অন্তত ৩৯ জন নিহত হয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছে, এখন সীমিত পরিসরে থাকলেও যেকোনো সময় দুই দেশের মধ্যে পুরোদমে যুদ্ধ বেধে যেতে পারে। এ ছাড়া সেখানে রাশিয়া ও তুরস্কের মধ্যে ছায়াযুদ্ধের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

নাগোর্নি কারাবাখ নিয়ে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের দ্বন্দ্ব প্রায় চার দশক ধরে। অঞ্চলটি আজারবাইজানের ভূখণ্ড হিসেবেই আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত, কিন্তু এটি নিয়ন্ত্রণ করে জাতিগত আর্মেনিয়ানরা। ১৯৯১ সালের আগ পর্যন্ত আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত ছিল। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর দুটি স্বাধীন দেশ হিসেবে তারা আলাদা হয়। গত জুলাই মাসেও দুই দেশের মধ্যে লড়াইয়ে ১৬ জন নিহত হয়।

এবারের লড়াইয়ের জন্য দুই দেশ একে অন্যকে দোষারোপ করছে। উভয় দেশের সামরিক কর্মকর্তারা জানান, রবিবার রাতভর হামলা-পাল্টাহামলার ঘটনা ঘটেছে।

কারাবাখের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গতকাল তাদের আরো ১৫ যোদ্ধা নিহত হয়েছে। এ নিয়ে তাদের ৩২ যোদ্ধার মৃত্যু হলো। নিহত বাকি সাতজন বেসামরিক নাগরিক। সাত বেসামরিক ব্যক্তির মধ্যে রয়েছে আজারবাইজানের একই পরিবারের পাঁচ সদস্য। বাকি দুজন নারী ও শিশু; তারা আর্মেনিয়ার বাসিন্দা। আজারবাইজান দাবি করেছে, তাদের হামলায় সাড়ে পাঁচ শ আর্মেনিয়ান সেনা নিহত হয়েছে। তবে আজারবাইজান এখনো তাদের কোনো সেনা নিহত হওয়ার কথা স্বীকার করেনি। আর্মেনিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শুশান স্টেফানিয়ান দাবি করেছেন, গত দুই দিনে আজারবাইজানের ২৫ থেকে ৩০ সেনা নিহত হয়েছে।

আর্মেনিয়ার সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাঁদের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে আজারবাইজান বোমা হামলা অব্যাহত রেখেছে। অন্যদিকে আজারবাইজান বলছে, আর্মেনিয়ান বিচ্ছিন্নতাবাদীরা তাদের বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

আজারবাইজানের অনেক সাধারণ মানুষ এই যুদ্ধের পক্ষে। রাজধানী বাকুর হোটেল কর্মচারী ভিদাদি আলেকপেরভ বলেন, ‘আমরা এই দিনের জন্যই অপেক্ষা করছিলাম। আর্মেনিয়া যত দিন পর্যন্ত নাগোর্নি কারাবাখ আমাদের হাতে তুলে না দেবে, তত দিন পর্যন্ত এই যুদ্ধ অব্যাহত থাকা উচিত।’

এদিকে তুরস্কের সামরিক কর্মকর্তারা আজারবাইজানকে যুদ্ধে সহায়তা করছে বলে অভিযোগ তুলেছে আর্মেনিয়া। গতকাল দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘তুরস্কের সামরিক সদস্যরা এই যুদ্ধে সরাসরি সম্পৃক্ত। এই যুদ্ধে ড্রোন, যুদ্ধবিমানসহ তুরস্কের অস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে।’ আজারবাইজান এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তুরস্কের কোনো বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। তবে দুই দেশের এই বিরোধে তুরস্ক শুরু থেকেই আজারবাইজানের পক্ষে। অন্যদিকে আর্মেনিয়াকে সমর্থন দিয়ে আসছে বিশ্বের পরাশক্তি রাশিয়া।

সূত্র : এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা