kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ কার্তিক ১৪২৭। ২২ অক্টোবর ২০২০। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

সিএনএনের বিশ্লেষণ

জয়ের জন্য বিশৃঙ্খলার বীজ বুনছেন ট্রাম্প

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের স্বচ্ছতা আগে থেকে প্রশ্নবিদ্ধ করা, হারলেও ক্ষমতা না ছাড়ার ঘোষণা, নির্বাচনী ফল নিয়ে আদালত পর্যন্ত দৌড়ানোর ইঙ্গিত দেওয়া—এসবের মধ্য দিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনী অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছেন এবং এর ভেতর দিয়ে তিনি দ্বিতীয় মেয়াদের প্রেসিডেন্সি নিশ্চিত করতে চাচ্ছেন, এমনটা মনে করেন বিশ্লেষকরা।

গত বুধবার হোয়াইট হাউসে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের মুখে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ‘ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে, সত্যি বলছি। বর্তমান শাসনই চলবে।’

ট্রাম্পের এ মন্তব্যের পর তাঁর নির্বাচনী প্রতিপক্ষ জো বাইডেনের পাশাপাশি রিপাবলিকানরাও প্রতিক্রিয়া জানাতে শুরু করেছেন। ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট প্রার্থী বাইডেন তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীর কথাবার্তা ‘অযৌক্তিক’ বলে মন্তব্য করেছেন। রিপাবলিকান সিনেটর মিট রমনির মতে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মন্তব্য সংবিধানবিরোধী এবং তা অচিন্তনীয় ও অগ্রহণযোগ্য।

শীর্ষ রিপাবলিকান নেতাদের আরো অনেকেই রমনির সঙ্গে একমত। তাই তাঁরা ট্রাম্পের হুমকি উপেক্ষা করেছেন অনায়াসে। রিপাবলিকান সিনেটরদের নেতা মিচ ম্যাককনেল গত বৃহস্পতিবার এক টুইট বার্তায় বলেছেন, ‘৩ নভেম্বরের নির্বাচনে বিজয়ী ব্যক্তি ২০ জানুয়ারি (প্রেসিডেন্ট পদে) অভিষিক্ত হবেন। ১৭৯২ সাল থেকে চার বছর পর পর যেভাবে হয়ে আসছে, তেমন সুশৃঙ্খলভাবেই পরিবর্তন ঘটবে।’ এ ছাড়া লিন্ডসে গ্রাহামসহ অন্য রিপাবলিকান নেতার অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন।

নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বিতর্ক শুরু করেছেন খোদ ট্রাম্প। করোনাভাইরাস মহামারিকালে জনস্বাস্থ্য বিবেচনায় নিয়ে ডাকযোগে ভোটগ্রহণের যে দাবি উঠেছে, সেটা নিয়ে তাঁর যত আপত্তি। তাঁর মতে, ডাকযোগে ভোট হলে তাতে ব্যাপক কারচুপি হবে। তাই ওই নির্বাচনে হারলেও ক্ষমতা ছাড়বেন না বলে গত বুধবার জানিয়েছেন ট্রাম্প। পরদিন বৃহস্পতিবার তিনি আরো বলেছেন, ‘নির্বাচন যেন সুষ্ঠু হয়, আমরা তা নিশ্চিত করতে চাই। তেমনটা হবে কি না, আমি নিশ্চিত নই।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডাকযোগে ভোট প্রদান স্বাভাবিক একটি ঘটনা। দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনায় ভোট জালিয়াতির চেষ্টা হয়েছে বটে, তবে তা অত্যন্ত নগণ্য বলে জানান বিশেষজ্ঞরা। এর পরও ডাকভোট নিয়ে চরম আপত্তি জানাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তাঁর এমন আপত্তি আর ডাকভোটের ব্যাপারে জনমনে সংশয় উসকে দেওয়ার চেষ্টার কারণ একটাই—তিনি আসলে যেকোনো মূল্যে নির্বাচনে জয় নিশ্চিত করতে চাচ্ছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা