kalerkantho

বুধবার । ১২ কার্তিক ১৪২৭। ২৮ অক্টোবর ২০২০। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

৩৫ দিন পর চীনে মিলল করোনার উপসর্গহীন রোগী

হিমায়িত খাদ্যপণ্যের মাধ্যমে সংক্রমণের শঙ্কা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



৩৫ দিন পর চীনে মিলল করোনার উপসর্গহীন রোগী

৩৫ দিন পর চীনে করোনার উপসর্গহীন দুই রোগী পাওয়া গেছে। আক্রান্তদের দুজনই বন্দরকর্মী। কিছুদিন আগে বন্দরে হিমায়িত সামুদ্রিক খাদ্যপণ্যবাহী জাহাজ এসেছিল। সেই খাদ্যপণের মাধ্যমেই তাঁরা সংক্রমিত হয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বলছে, সংস্থার কয়েকটি দেশে গত মার্চে সংক্রমণের যে চূড়া দেখা গিয়েছিল, বর্তমানের পরিস্থিতি তার চেয়েও ভয়াবহ।

যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, চীনের শাংডং প্রদেশের কুইংডাও শহরে বন্দরকর্মীদের রুটিন চেকআপের সময় দুজনের করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে। ২০ আগস্টের পর এই প্রথমবার দেশটিতে উপসর্গহীন আক্রান্ত ধরা পড়ল। গত ১৫ আগস্ট থেকে চীনে স্থানীয়ভাবে কেউ করোনায় আক্রান্ত হননি।

গত ৩১ ডিসেম্বর চীনের উহানে প্রথমবারের মতো মানবদেহে করোনা শনাক্ত হয়। এরপর ব্যাপক কড়াকড়ি ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ায় দেশটি করোনার কবল থেকে মুক্ত হয়েছে। যদিও সেখান থেকে বিশ্বের অন্যান্য দেশে ভাইরাসটি ছড়িয়ে মহামারি দেখা দিয়েছে।

চীনে করোনা আক্রান্তদের উপসর্গযুক্ত ও উপসর্গহীন—দুই ভাগে ভাগ করা হয়। উপসর্গহীনদের মধ্যে যদি পরে রোগের লক্ষণ দেখা যায়, তাদের উপসর্গযুক্তের তালিকায় আনা হয়। কুইংডাও শহরে দুই সংক্রমিতের খোঁজ মেলায় প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কি আমদানি করা পণ্যের মাধ্যমে করোনা ছড়াচ্ছে? কিভাবে কোল্ড স্টোরেজ ও বন্দরের কর্মীরা করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন, তা এখনো জানা যায়নি। কয়েক মাস আগে চীনের বেইজিং ও দালিয়ান শহরে নতুন করে করোনা ছড়িয়ে পড়ে। যাঁরা আমদানি করা খাবারের বাজারে কাজ করেন, মূলত তাঁদের দেহেই সংক্রমণ দেখা দিয়েছিল। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা নির্দিষ্ট করে বলতে পারেননি, কেন তাঁরা সংক্রমিত হলেন।

হিমায়িত পণ্যে করোনাভাইরাস পাওয়ায় গত কয়েক সপ্তাহে ইকুয়েডর, ব্রাজিল ও ইন্দোনেশিয়া থেকে পণ্য আমদানি বন্ধ করেছে চীন। যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন জানিয়েছে, খাবার অথবা ফুড প্যাকেজিংয়ের মাধ্যমে করোনা ছড়ায় না। অন্যদিকে চীনের গবেষকরা বলেছেন, হিমায়িত স্যামন মাছের মধ্যে এক সপ্তাহ পর্যন্ত করোনাভাইরাস জীবিত থাকতে পারে।

এদিকে ইউরোপে নতুন করে করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় উদ্বেগ জানিয়েছে ইইউ। বৃহস্পতিবার সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গত মার্চে ইইউভুক্ত দেশগুলোতে সর্বোচ্চ সংক্রমণ দেখা গিয়েছিল। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, কয়েকটি দেশের পরিস্থিতি তখনকার চেয়েও ভয়াবহ। ফ্রান্সে এক দিনে ১৬ হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে, যা এ যাবৎকালের মধ্যে সর্বোচ্চ শনাক্তসংখ্যা। গ্রিসের পরিস্থিতি নাজুক হওয়ায় সেখানে নতুন করে লকডাউনের কথা ভাবা হচ্ছে। এ ছাড়া ইউরোপের আরো কয়েকটি দেশের অবস্থা উদ্বেগজনক।

বৈশ্বিক পরিসংখ্যানভিত্তিক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারের হিসাবে, গতকাল পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা তিন কোটি ২৭ লাখ ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে সেরে উঠেছেন দুই কোটি ৪১ লাখেরও বেশি রোগী। আর প্রাণহানি হয়েছে ৯ লাখ ৯৩ হাজার।

সূত্র : দ্য ওয়াল।

মন্তব্য