kalerkantho

সোমবার । ১০ কার্তিক ১৪২৭। ২৬ অক্টোবর ২০২০। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

ক্ষমতা ছাড়বেন না ট্রাম্প!

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ক্ষমতা ছাড়বেন না ট্রাম্প!

ডাকযোগে ভোটের ঘোর বিরোধী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরাজিত হলেও ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। গত বুধবার হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্সি ধরে রাখার অঙ্গীকার করেন।

সংবাদ সম্মেলন চলাকালে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রসঙ্গ এলে ট্রাম্প জবাব দেন, ‘বেশ তো, দেখা যাক কী হয়।’ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেনের বিপরীতে জিতলে, হারলে বা টাই হলে তিনি কী করবেন—এমন প্রশ্নের মুখোমুখি হলে ট্রাম্প ডাকযোগে ভোটের বিরোধিতা করে বলেন, ‘ব্যালটের ব্যাপারে আমি তীব্র অভিযোগ করে আসছি। ব্যালট মানেই বিশৃঙ্খলা।’ এক সাংবাদিক ডাকযোগে ভোটের জন্য মানুষের আন্দোলনের কথা তুললে প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘ব্যালটের কথা ছাড়ুন। ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে না, সত্যি বলছি। বর্তমান শাসনই চলবে।’

কোনোভাবেই ক্ষমতা ছাড়বেন না, তা বলার পাশাপাশি ট্রাম্প আরো জানান, নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হতে হবে বলে তাঁর ধারণা। কারণ তাঁর দাবি, ডাকযোগে ভোট নেওয়া হলে কারচুপি হবে এবং এর সমাধানের জন্য আদালতের শরণাপন্ন হতে হবে। এ জন্য তিনি সুপ্রিম কোর্টের শূন্যপদ পূরণে উঠেপড়ে লেগেছেন।

গত শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি রুথ গিন্সবার্গের মৃত্যুতে শূন্যতা তৈরি হয়। তা পূরণে আগামীকাল শনিবার এক নারীকে মনোনয়ন দেবেন ট্রাম্প। তাঁর মনোনীত নারী সিনেটের অনুমোদন পেলে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে রক্ষণশীল বিচারপতির সংখ্যা ছয়ে দাঁড়াবে। এতে ৯ বিচারপতির মধ্যে তাঁরাই হবেন সংখ্যাগরিষ্ঠ। এর ফলে নির্বাচনকেন্দ্রিক জটিলতা আদালতে গড়ালে রিপাবলিকানরাই তখন এগিয়ে থাকবেন বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা। এদিকে ট্রাম্প ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার যে অঙ্গীকার করেছেন, সেটার প্রতিক্রিয়ায় ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী বাইডেন বলেছেন, ‘আমরা কোন দেশে আছি? তিনি সবচেয়ে অযৌক্তিক কথা বলেছেন। কী বলা উচিত আমি বুঝতে পারছি না।’

প্রতিক্রিয়া এসেছে রিপাবলিকান সিনেটর মিট রমনির দিক থেকেও। তিনি টুইট করেছেন, ‘শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর হলো গণতন্ত্রের মৌলিক বিষয়। তা না হলে বেলারুশ সৃষ্টি হবে।’

আগামী ৩ নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘিরে চলা বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, বাইডেনের দিকেই জনমত বেশি। সেটা নিয়ে ভাবতে রাজি নন ট্রাম্প। গত বুধবার তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ক্ষমতা ছাড়ছেন না তিনি।

২০১৬ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পের চেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী হিলারি ক্লিনটনের পক্ষে পপুলার ভোট ছিল ৩০ লাখ বেশি। তখনো ট্রাম্প ওই ফল মেনে নেননি। শেষ পর্যন্ত ইলেকটোরাল ভোটে জয় পেয়ে তবেই শান্ত হন তিনি।

সূত্র : বিবিসি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা