kalerkantho

মঙ্গলবার । ১১ কার্তিক ১৪২৭। ২৭ অক্টোবর ২০২০। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

বিচারক নিয়োগে অনড় ট্রাম্প

এ সপ্তাহেই নাম ঘোষণা
ডেমোক্র্যাটরা বলছেন ‘ভণ্ডামি’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আর ঠিক ছয় সপ্তাহ বাকি। এ সময় নির্বাচনী প্রচার জমে ওঠার কথা প্রার্থীদের দক্ষতা ও যোগ্যতা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণে। তা না হয়ে এখন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থায় বিতর্ক চলছে সুপ্রিম কোর্টের নতুন বিচারক নিয়োগ নিয়ে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চান ভোটের আগেই নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে। বর্তমানে হোয়াইট হাউস ও কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ রিপাবলিকানদের দখলে। কাজেই ট্রাম্পের এই খায়েশ মেটানো কঠিন কিছু নয়। প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, শুক্রবার অথবা শনিবারের মধ্যে নিজেই পছন্দের ব্যক্তির নাম ঘোষণা করবেন।

সংকট তৈরি করেছে চার বছর আগের একটি ঘটনা। পূর্বসূরি ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ঠিক একই পরিস্থিতিতে পড়েন ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে। তখনো সিনেট রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে। ওবামা তাঁর মনোনীত বিচারকের নাম প্রকাশের পরও সিনেটের বাধা উতরাতে পারেননি। সিনেটে বর্তমান সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা মিচ ম্যাককনেল তখনো একই পদেই ছিলেন। তিনিই মূলত সিনেটে ওবামার অনুমোদন আটকে দেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের বছরে ভোটের পরই এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। হয়েছেও তা-ই। কাজেই ওই একই যুক্তিতে এখন বিরোধিতা করতে চাইছেন ডেমোক্র্যাটরা, কিন্তু সিনেটরের ঘাটতির কারণে হালে পানি পাচ্ছেন না। কাজেই তাঁরা এখন আশ্রয় নিয়েছেন নীতিবোধ আর বিবেকের। ডেমোক্র্যাটদের যুক্তি, চার বছর আগে রিপাবলিকানরা যা করেছেন, তারপর এখন তাঁদের ভোটাভুটির দাবি ভণ্ডামি মাত্র। তাঁদের উচিত, বিবেকের কাছে স্পষ্ট থাকা। দলীয় প্রার্থী জো বাইডেন তো স্পষ্ট করেই বলেছেন, ট্রাম্প এ ক্ষেত্রে ‘তাঁর ক্ষমতার অপব্যবহার’ করছেন।

ট্রাম্প অবশ্য দাবি করেছেন, এ মনোনয়ন সম্পন্ন করতে ‘সাংবিধানিকভাবে তাঁর বাধ্যবাধকতা’ রয়েছে। গত সোমবার ঝুঁকিপূর্ণ রাজ্য হিসেবে পরিচিত ওহাইওতে নির্বাচনী সমাবেশ করার সময় তিনি বলেন, ‘আমরা সুপ্রিম কোর্টে পাঁচজন (রিপাবলিকান) অসাধারণ বিচারককে কাজ করতে দেখছি। ষষ্ঠজন হিসেবে এ পদে একজন নারীই আসতে যাচ্ছেন।’ সুপ্রিম কোর্টে মোট বিচারপতির সংখ্যা ৯। এর মধ্যে ডেমোক্র্যাট বিচারপতি ছিলেন চারজন। গত সপ্তাহে রুথ গিন্সবার্গের মৃত্যুর পর নতুন বিচারপতি নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

প্রেসিডেন্ট তাঁর মনোনীত ব্যক্তির নাম ঘোষণার পর এ নিয়ে সিনেটে ভোটাভুটি হবে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে গড়পড়তায় ৭০ দিন সময় লাগে। তবে আগামী ৩ নভেম্বর নির্বাচনের আগে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হলে তা ২০ জানুয়ারি সিনেটের অধিবেশন বসা পর্যন্ত পিছিয়ে যাবে। সে ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টকে তখন আবারও তাঁর মনোনয়নের কথা জানাতে হবে, প্রেসিডেন্ট হিসেবে তখন যে-ই থাকুন না কেন। সূত্র : বিবিসি, এএফপি, রয়টার্স।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা