kalerkantho

মঙ্গলবার । ১১ কার্তিক ১৪২৭। ২৭ অক্টোবর ২০২০। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

জাতিসংঘের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

বহুত্ববাদ ফেরানোর আহ্বান

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বহুত্ববাদ ফেরানোর আহ্বান

লোকে লোকারণ্য নয়, বরং মহামারির কারণে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশন এবার লোকশূন্য। ভার্চুয়ালি শুরু হওয়া সেই অধিবেশনে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সংস্থায় বহুত্ববাদ আর ঐক্য পুনঃপ্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান। বিশ্বনেতাদের অনেকেই তাঁর আহ্বানের প্রতিধ্বনি করেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এদিন কোনো সাড়া দেননি।

গত সোমবার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিন জাতিসংঘ মহাসচিব গুতেরেস বিশ্বের সংকটময় পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, ‘আজ আমরা বহুমুখী সমস্যায় ভরপুর, কিন্তু বহুমুখী সমাধান নেই।’ করোনাভাইরাস মহামারি বিশ্বের দুর্বলতা উন্মোচন করে দিয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘জলবায়ু সংকট বাড়ছে, জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, দারিদ্র্য বাড়ছে, ঘৃণা ছড়িয়ে পড়ছে, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বেড়ে চলেছে, পরমাণু অস্ত্র তাক করে রাখা আছে।’ এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে জাতিসংঘে বহুত্ববাদ আর ঐক্য ফিরিয়ে আনার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘বৈশ্বিক সরকার কেউ চায় না। কিন্তু বিশ্ব পরিচালনায় অগ্রগতি আনতে হলে আমাদের অবশ্যই একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’

জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর স্মরণে যেসব বিশ্বনেতার বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল, তাঁদের প্রথমে ছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নাম। কিন্তু তিনি কোনো বক্তব্যই দেননি। এমনকি অধিবেশনে যুক্ত হননি সংস্থার মার্কিন রাষ্ট্রদূতও। জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন ডেপুটি দূত চেরিথ নরম্যান শ্যালেটকে সেখানে হাজির করে দায় সারা হয়েছে। এটুকুতেই শেষ নয়। শ্যালেট বৈশ্বিক সংকটের সমাধান নিয়ে কথা বলার পরিবর্তে জাতিসংঘের সংস্কারের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি বলেন, ‘সংস্থাটির শক্তি ও দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার এখনই সঠিক সময়।’

জাতিসংঘের অন্য প্রভাবশালী সদস্যদের সুর যুক্তরাষ্ট্রের মতো ছিল না। তারা বরং গুতেরেসের বক্তব্যের রেশ টেনেছেন।

ভার্চুয়াল সভায় চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং জাতিসংঘে বহুত্ববাদ ফিরিয়ে আনার অঙ্গীকার করেন এবং মানবজাতির জন্য সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে একসঙ্গে কাজ করার ওপর জোর দেন। একাধিপত্যের তীব্র বিরোধিতা করে তিনি বলেন, ‘বৈশ্বিক ইস্যুগুলোয় আধিপত্য করা, অন্যদের ভাগ্য নিয়ন্ত্রণ করা অথবা সব উন্নয়নের সুবিধা নিজে ভোগ করার অধিকার কারো নেই।’

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ মনে করেন, ‘যুদ্ধের ধ্বংসলীলা থেকে বিশ্বকে রক্ষা করা, মানবাধিকার রক্ষা করা, সব জাতির সমানাধিকার নিশ্চিত করা এবং সামাজিক অগ্রগতির মধ্য দিয়ে বৃহত্তর স্বাধীনতা নিশ্চিত করার’ মধ্য দিয়ে অঙ্গীকার রক্ষা করেছে জাতিসংঘ। আমাদের এ বাসগ্রহের সংকটময় পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমাদের এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে।’

জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল বলেন, ‘জাতিসংঘের সদস্যরা ঐক্যবদ্ধ হলে তবেই সংস্থাটি কার্যকর হতে পারবে।’ এ জন্য সম্ভাব্য সব কিছু করার আহ্বান জানান তিনি।

সব মিলিয়ে ১৮২ নেতার বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল এবং প্রত্যেকের জন্য বরাদ্দ ছিল তিন মিনিট করে। তবে কোনো কোনো নেতা বক্তব্যে বেশি সময় নেওয়ায় শেষ পর্যন্ত ৫৮ দেশের নেতার বক্তব্য স্থগিত রেখে প্রথম দিনের অনুষ্ঠানের সমাপ্তি টানা হয়। সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা