kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ কার্তিক ১৪২৭। ২২ অক্টোবর ২০২০। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

গিন্সবার্গের পর নতুন বিচারপতি নিয়োগ

ট্রাম্প ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন : বাইডেন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ট্রাম্প ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন : বাইডেন

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের উদারপন্থী বিচারপতি রুথ গিন্সবার্গের মৃত্যুর পর নতুন নিয়োগ নিয়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দেশটির নির্বাচনী রাজনীতি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখুনি এ পদে পছন্দের মানুষকে নিয়োগ দিতে আগ্রহী। সে ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টে ক্ষমতার ভারসাম্য তাঁর দল রিপাবলিকান পার্টির দিকে আরো ঝুঁকে পড়বে। অন্যদিকে নির্বাচনের আর মাত্র ৪২ দিন হাতে রেখে এই নিয়োগের ঘোর বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা। দলের প্রেসিডেন্টপ্রার্থী জো বাইডেন মনে করেন, এ নিয়োগ দেওয়া হলে তা হবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ক্ষমতার চরম অপব্যবহার। বিষয়টি নিয়ে জোর প্রচারে নেমেছে তাঁর দল। সাধারণ ডেমোক্র্যাটরাও যে তাঁর বক্তব্যকে সমর্থন দিচ্ছে তার প্রমাণ মিলেছে তাঁর নির্বাচনী প্রচার তহবিলে বিপুল চাঁদা ওঠার পরিমাণ থেকে।

উদারপন্থী হিসেবে পরিচিত গিন্সবার্গ (৮৭) গত শুক্রবার ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এর পরপরই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, তিনি তাঁর মেয়াদে সুপ্রিম কোর্টের তৃতীয় বিচারপতি নিয়োগে প্রস্তুত। একই সঙ্গে সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠ রিপাবলিকান নেতা মিচ ম্যাককোনাল বলেন, এ নিয়ে সিনেটে শিগগিরই ভোটাভুটি করা সম্ভব। যদিও ২০১৬ সালে ওবামার আমলে এই ম্যাককোনালই নির্বাচনের দোহাই দিয়ে এই ভোট ঝুলিয়ে দেন। বিষয়টি প্রায় এক বছর ঝুলিয়ে রাখার পর ট্রাম্প শপথ নেওয়ার পর এই ভোটের আয়োজন করা হয়। এবং স্বাভাবিকভাবেই রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী মনোনয়ন পান।

এখনকার পরিস্থিতি আরো সঙ্গিন। কিন্তু ট্রাম্প ও ম্যাককোনাল সিনেটে বিচারপতি নিয়োগের ভোটাভুটি করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ট্রাম্প বলেছেন, তিনি কোনো নারীকেই এ পদের জন্য বেছে নেবেন। কারণ তিনি বরাবরই পুরুষের তুলনায় নারীকে বেশি পছন্দ করেন।

ট্রাম্প-ম্যাককোনালের এই তাড়াহুড়াতেই আপত্তি ডেমোক্র্যাটদের। তারা মনে করে, ভোটাভুটি নির্বাচনের পরই হওয়া উচিত। ডেমোক্র্যাট প্রার্থী বাইডেন গত রবিবার ফিলাডেলফিয়ার কন্সটিটিউশনাল সেন্টারে ভাষণ দেওয়ার সময় বলেন, ‘মার্কিন সংবিধান আমেরিকানদের কথা বলার সুযোগ দিয়েছে, কাজেই তাদের কথা শুনতে হবে। এবং তাদের বক্তব্য একদম স্পষ্ট, তারা ক্ষমতার এই অপব্যবহার সহ্য করবে না।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমি সিনেটের রিপাবলিকানদের প্রতি আহ্বান জানাতে চাই, দয়া করে বিবেকের কথা শুনুন, মানুষকে কথা বলতে দিন। দেশজুড়ে যে আগুন জ্বলছে তাকে নেভানোর সুযোগ দিন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও সিনেটর ম্যাককোনাল যে পরিস্থিতি তৈরি করেছেন তার ফাঁদে পা দিয়ে কারো মনোনয়ন নিশ্চিত করবেন না।’ সুপ্রিম কোর্টে মোট বিচারপতির সংখ্যা ৯। এখন পাঁচজন বিচারপতি রিপাবলিকান (তাঁদের মধ্যে দুজন ট্রাম্পের নিয়োগ করা)। ট্রাম্প আবারও নিয়োগের সুযোগ পেলে এ অনুপাত দাঁড়াবে ৬:৩-এ। বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ গর্ভপাত, সমকামী বিয়ে বা লিঙ্গ পরিবর্তনের মতো ইস্যুগুলোর ওপর চূড়ান্ত কথা বলেন সুপ্রিম কোর্টই। সূত্র : বিবিসি, সিএনএন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা