kalerkantho

বুধবার । ৫ কার্তিক ১৪২৭। ২১ অক্টোবর ২০২০। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

চার অঙ্গরাজ্যে আগাম ভোটে ব্যাপক সাড়া

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চার অঙ্গরাজ্যে আগাম ভোটে ব্যাপক সাড়া

ডাকযোগে ভোটে কারচুপি হওয়ার যে ভয় ডোনাল্ড ট্রাম্প দেখিয়ে আসছেন, সেই আতঙ্ক ভোটারদেরও পেয়ে বসেছে। তবে তাঁদের আতঙ্কের কারণ ট্রাম্প নিজে। ট্রাম্পবিরোধী ভোটারদের আশঙ্কা, ডাকযোগে ভোট দিলে তাতে ট্রাম্প প্রশাসনের হস্তক্ষেপের ঘটনা ঘটবে। ভোট কারচুপি আর মহামারি—দুই আতঙ্কে জড়সড় মার্কিন ভোটাররা তাই সশরীরে আগাম ভোট দিয়ে হাঁপ ছেড়ে বাঁচতে চাইছে।

যুক্তরাষ্ট্রে মিনেসোটা, সাউথ ডাকোটা, ভার্জিনিয়া ও ওয়াইয়োমিং অঙ্গরাজ্যে গত শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে নভেম্বরের নির্বাচনের আগাম ভোটগ্রহণ। নির্বাচনী কর্মকর্তারা ধরেই নিয়েছিলেন, মহামারির ভয়ে লোকজন ডাকযোগে ভোট দেবে। কিন্তু তাঁদের অবাক করে দিয়ে সকাল থেকে ভোটকেন্দ্রে হাজির হতে শুরু করেন ভোটাররা। ২০১৬ সালের আগাম ভোটের প্রথম দিনের তুলনায় এবারের সংখ্যাটা অপ্রত্যাশিত হারে বেশি বলে জানান নির্বাচনী কর্মকর্তারা।

সাউথ ডাকোটার পেনিংটন কাউন্টির ভোটকেন্দ্রে সকাল ১০টার মধ্যে দেড় শ ভোটার হাজির হয়ে যান বলে জানান কাউন্টির ডেপুটি অডিটর ডায়না কাইওয়েল। তিনি আরো জানান, ২০১৬ সালের আগাম নির্বাচনে প্রথম দিনজুড়ে তাঁরা পেয়েছিলেন শখানেক ভোটার। অথচ এবার প্রথম দিন ভোট শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ভোটার সংখ্যা দেড় শ অতিক্রম করেছে।

ওয়াইয়োমিং অঙ্গরাজ্যের ল্যারেমি কাউন্টির ভোটকেন্দ্রের দ্বার খোলার আগেই সেখানে হাজির হয়ে যায় ২০০ ভোটার। সেখানে সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। নির্বাচনী কর্মকর্তা ক্লার্ক ডেব্রা লি ধারণা করছেন, আগামী কয়েক দিনই ব্যস্ত সময় পার করতে হবে তাঁদের।

আগামী নির্বাচনে সশরীরে হাজির হয়ে ভোট দেওয়ার তৎপরতার কারণ জানা যাক ভোটাদের মুখ থেকেই। ভার্জিনিয়ার ফেয়ারফ্যাক্স কাউন্টির ভোটার জিম ও’কনার বলেন, ‘ডাকভোটে আমার আস্থা নেই, তাই এসেছি। আমাকে যদি সারা দিন দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, তবু আমি আজই ভোট দেব।’

ডাকভোটে অনাস্থা জানিয়ে আরেক ভার্জিনীয় ক্রিস্টিন এসপোসিটো জানান, ডাকযোগে ভোট দিয়ে তাতে ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের কোনো সুযোগই তিনি দিতে রাজি নন। তাই সশরীরে ভোট দিতে আসা। মহামারিকালে স্বাস্থ্য সুরক্ষার গুরুত্বটাও মাথায় রেখেছেন তিনি। শার্লটসভিলের ভোটকেন্দ্রে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষায় থাকা এসপোসিটো বলেন, মূল নির্বাচনের দিন যেন নির্বাচনী কর্মীদের ওপর চাপ কমে যায় এবং তাঁদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত হয়, সেটা ভেবে তিনি আগামী নির্বাচন দিতে এসেছেন।

বর্তমান প্রশাসনের প্রতি অনাস্থাও অনেকের আগাম ভোট দেওয়ার কারণ। তেমনই এক ভার্জিনীয় মাইকেল বেল। সরকারের প্রতি অনাস্থা জানাতে তিনি গত শুক্রবার ভোট দিতে হাজির হয়ে যান।

যুক্তরাষ্ট্রের মূল নির্বাচন হতে চলেছে আগামী ৩ নভেম্বর। করোনাভাইরাস মহামারির কারণে এবার সব ভোট ডাকযোগে নেওয়ার দাবি উঠলেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এর ঘোর বিরোধী। তাঁর দাবি, ডাকযোগে ভোট নেওয়া হলে ব্যাপক কারচুপি হবে। ভোটারদের অনেকের ধারণা, সেই কারচুপি করবেন ট্রাম্প নিজেই। সূত্র : সিএনএন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা