kalerkantho

শনিবার । ১১ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৮ সফর ১৪৪২

ট্রাম্পের ‘নয়া মধ্যপ্রাচ্যে’ শুরুতেই বিমান হামলা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ট্রাম্পের ‘নয়া মধ্যপ্রাচ্যে’ শুরুতেই বিমান হামলা

ছবিঃ ইন্টারনেট

ইসরায়েলের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও বাহরাইনের সম্পর্ক গড়ার চুক্তি স্বাক্ষরের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি বিমান হামলা হয়েছে। অথচ ইউএইর দাবি, ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধের অঙ্গীকার আদায় করে তবেই চুক্তি সই করেছে তারা।

যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসে স্থানীয় সময় গত মঙ্গলবার দুপুরে ইসরায়েলের সঙ্গে ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ড’ শীর্ষক চুক্তিতে স্বাক্ষর করে ইউএই ও বাহরাইন। চুক্তির বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে ইসরায়েল ও আরব রাষ্ট্র দুটির মধ্যে বাণিজ্য, পর্যটন, পরস্পরের ভূখণ্ডে দূতাবাস স্থাপন, সর্বোপরি সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয় রয়েছে চুক্তিতে।

এই চুক্তিকে ফিলিস্তিনি নেতারা বিশ্বাসঘাতকতা আখ্যা দিলেও ইউএইর দাবি, ফিলিস্তিনিদের স্বার্থেই এই চুক্তি করেছে তারা। ইউএইর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আনোয়ার গারগাশ দাবি করেন, ইসরায়েল যখন ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে আরো আগ্রাসন চালানোর ইঙ্গিত দেয়, তখনই ইউএই বুঝতে পেরেছে, এটাই সুযোগ। তিনি বলেন, ‘ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে দখলদারি নিয়ে সবাই চিন্তিত ছিল। দ্বিরাষ্ট্র সমাধান সত্যিই হুমকির মুখে পড়ে গিয়েছিল।’ সেই হুমকি মোকাবেলায় পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের আগ্রাসন বন্ধের শর্তে চুক্তি করেছে ইউএই, এমনটা জানিয়ে গারগাশ বলেন, ‘এভাবেই আমাদের পরিকল্পনা সামনে এগিয়েছে এবং আমরা একটা স্পষ্ট কারণ আর স্পষ্ট যুক্তি খুঁজে পেলাম—যে সিদ্ধান্ত আমরা ২০২১ বা ২০২২ সালে নিতে পারি, সেটা এখনই কেন নয়।’

বিশ্লেষকরা মনে করেন, ইসরায়েলের সঙ্গে চুক্তি করতে গিয়ে ইউএই ফিলিস্তিনি স্বার্থ রক্ষার দোহাই দিলেও গারগাশের মন্তব্য থেকে স্পষ্ট হয়ে যায়, ওই দোহাই নেহায়েতই বাগাড়ম্বর। ইউএই কর্মকর্তা বলেই দিয়েছেন, এখন না হলেও দু-এক বছরের মধ্যে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে নিত তাঁর দেশ। ছলনা আরো দৃশ্যমান হয়ে ওঠে চুক্তি স্বাক্ষরের কয়েক ঘণ্টার মাথায় ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের বিমান হামলার মধ্য দিয়ে।

গাজায় গতকাল বুধবার বিমান হামলা করে ইসরায়েল। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, হোয়াইট হাউসের স্থানীয় সময় গত মঙ্গলবার দুপুরে যখন চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান চলছিল, তখন ইসরায়েলের দিকে দুই দফা রকেট হামলা করে গাজা নিয়ন্ত্রণকারী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস। ইসরায়েল-ফিলিস্তিনে তখন মঙ্গলবার দিবাগত মধ্যরাত। ইসরায়েলের দাবি, হামাসের হামলার জবাবে গতকাল গাজায় ওই গোষ্ঠীর অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়। হামাসের হামলায় দুজন আহত হওয়ার খবর মিললেও ইসরায়েলি হামলায় তাত্ক্ষণিক হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, শান্তি চায় না বলেই হামাস হামলা চালিয়েছে, তাই তিনি হামলায় বিস্মিত হননি। সব হামলার জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন তিনি। এদিকে হামাস হুঁশিয়ারি দিয়েছে, ফিলিস্তিনিদের ওপর সব আগ্রাসনের সরাসরি জবাব দেবে তারা।

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার নাম করে গত মঙ্গলবার যে চুক্তি হয়েছে, এর উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘দশক দশকের বিভক্তি আর দ্বন্দ্ব শেষে আমরা এক নতুন মধ্যপ্রাচ্যের সূচনা ঘটালাম।’ সেই নতুন মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের মিত্র বাড়লেও ফিলিস্তিনিদের স্বাধীন রাষ্ট্রের আশা আরো সুদূর পরাহত হয়ে গেল বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। সূত্র : বিবিসি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা