kalerkantho

বুধবার । ১৫ আশ্বিন ১৪২৭ । ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১২ সফর ১৪৪২

নভেম্বরে চীনের টিকা বাজারে!

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নভেম্বরে চীনের টিকা বাজারে!

করোনার টিকা নিয়ে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার মধ্যে চীন জানিয়েছে, আগামী নভেম্বরে তাদের টিকা সাধারণের নাগালে আসতে পারে। বর্তমানে চীনের তৈরি চারটি টিকা ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের শেষ পর্যায়ে আছে। এদিকে চলমান মহামারির বিস্তার বৈশ্বিক উন্নয়নকে দুই দশকের বেশি পেছনে ঠেলে দিয়েছে বলে বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের গবেষণায় উঠে এসেছে। অন্যদিকে পাকিস্তানে ছয় মাস পর গতকাল থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা শুরু হয়েছে।

গত সোমবার চীনের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) প্রধান গুইঝেন উ জানিয়েছেন, তাঁদের চারটি টিকা ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের শেষ পর্যায়ে আছে। সব কটির পরীক্ষা-নিরীক্ষাই মসৃণভাবে এগোচ্ছে। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী নভেম্বর বা ডিসেম্বরের মধ্যেই বাজারে আসতে পারে তাঁদের টিকা।

চীনের সিডিসিপ্রধান জানিয়েছেন, গত এপ্রিলে তিনি নিজেই করোনার টিকা নিয়েছেন। এখন পর্যন্ত কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়নি। গত জুলাইয়ে ওই চারটি টিকার মধ্যে অন্তত তিনটির প্রয়োগ করা হয়েছে চীনের জরুরি সেবাদানকারীদের ওপর।

চীনের ওষুধ প্রস্তুতকারী সিনোফার্ম ও সিনোভ্যাক বায়োটেক তিনটি টিকা তৈরির কাজ করছে। চতুর্থ টিকাটি তৈরি করছে ক্যানসিনো বায়োলজিকস। গত জুনে ক্যানসিনোর তৈরি টিকা ব্যবহারযোগ্য বলে জানিয়ে দেয় চীনের সেনা কর্তৃপক্ষ। তবে তা এই মুহূর্তে চূড়ান্ত প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে। জুলাইয়ে সিনোফার্ম জানিয়েছিল, ফেজ থ্রি ট্রায়াল শেষ হলে চলতি বছরের শেষেই বাজারে আসতে পারে তাদের ভ্যাকসিন।

চীনের সরকারি কর্মকর্তারা বলেছেন, মিয়ানমার সীমান্তবর্তী শহর রুইলিতে তিনজনের শরীরে করোনা ধরা পড়ার পরে শহরটি অবরুদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে জোরেশোরে টেস্টিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শহরের দুই লাখ ১০ হাজার বাসিন্দার সবাইকে এ পরীক্ষার আওতায় আনা হবে।

এদিকে বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনা মহামারির বিস্তার বৈশ্বিক উন্নয়নকে দুই দশকের বেশি পেছনে ঠেলে দিয়েছে। লাখ লাখ মানুষ ব্যাপক বৈষম্য, রোগবালাই ও দারিদ্র্যের মুখোমুখি হয়েছে। এই মহামারি জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

বিল গেটস বলেছেন, আগামী বছরের শুরুর দিকে করোনার একটি কার্যকর টিকা প্রস্তুত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। তবে যে টিকাই আসুক, তা যেন গরিব দেশগুলোতে সহজলভ্য হয়, তা খেয়াল রাখতে হবে।

গেটস ফাউন্ডেশন বলছে, করোনাভাইরাস মহামারির কারণে বিশ্বজুড়ে অতিদারিদ্র্য বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৭ শতাংশ। এ ছাড়া স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অন্যান্য টিকা কর্মসূচি ১৯৯০ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। অন্যদিকে করোনা মহামারিতে ছয় মাস বন্ধ থাকার পর পাকিস্তানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা শুরু হয়েছে। প্রথম ধাপে গতকাল চালু করা হয়েছে নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম। দ্বিতীয় ধাপে চালু করা হবে মাধ্যমিকের ক্লাস। আর তৃতীয় ধাপে প্রাথমিকের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হবে।

বিশ্ব পরিস্থিতি : ওয়ার্ল্ডোমিটারের হিসাবে, গতকাল পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় দুই কোটি ৯৭ লাখে। এর মধ্যে সেরে উঠেছে দুই কোটি ১৫ লাখ রোগী আর প্রাণহানি হয়েছে অন্তত ৯ লাখ ৩৬ হাজার মানুষের। সূত্র : এএফপি, বিবিসি, আলজাজিরা।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা