kalerkantho

বুধবার । ১৫ আশ্বিন ১৪২৭ । ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১২ সফর ১৪৪২

যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচন

ট্রাম্প জলবায়ু হন্তারক : বাইডেন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ট্রাম্প জলবায়ু হন্তারক : বাইডেন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে জলবায়ু পরিবর্তন। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—উভয় প্রার্থী এ নিয়ে চড়া সুরে কথা বলছেন। সর্বশেষ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘জলবায়ু হন্তারক’ অ্যাখ্যা দিয়েছেন প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেন। তাতে অবশ্য ট্রাম্পের কিছু যায়-আসে না। তিনি বরাবরই বিজ্ঞান মানতে নারাজ।

যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূল যখন দাবানলে ছারখার হয়ে যাচ্ছে, প্রাণ হারাচ্ছে মানুষ, তখন জলবায়ু ইস্যুকে পুঁজি করে কাদা-ছোড়াছুড়ি করছেন ট্রাম্প ও বাইডেন। গত সোমবার ডেলাওয়ার অঙ্গরাজ্যের উইলমিংটন শহরে গিয়ে বাইডেন মানবসৃষ্ট কারণে দাবানলের তীব্রতা বৃদ্ধির বিষয়ে কথা বলেন। তাঁর দাবি, মার্কিন জনগণ ট্রাম্পকে দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচন করলে শক্তিশালী ঝড়, বন্যা আর দাবানল আরো আঘাত হানবে দেশে।

বাইডেন বলেন, ‘একজন জলবায়ু ধ্বংসকারীকে আপনারা যদি আরো চার বছর হোয়াইট হাউসে রাখেন, তাতে যদি আমেরিকা আরো জ্বলতে থাকে, আমেরিকা যদি আরো পানিতে তলিয়ে যায়, তাহলে বিস্ময়ের কী আছে?’ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে পরিবেশ সুরক্ষার জন্য বিনিয়োগের অঙ্গীকার করে বাইডেন বলেন, এই খাতে বিনিয়োগের মধ্য দিয়ে তিনি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবেন এবং মহামারিতে মুখ থুবড়ে পড়া অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করবেন।

করোনাভাইরাস মহামারিতে বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্র। তার ওপর ক্যালিফোর্নিয়া, অরেগন, ওয়াশিংটনের প্রায় ২০ লাখ হেক্টর এলাকা দাবানলে পুড়ে গেছে, মারা গেছে কমপক্ষে ৩৬ জন। এই পরিস্থিতিতে অন্য সব সংকট ছাপিয়ে প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে জলবায়ু ইস্যু।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত সোমবার ক্যালিফোর্নিয়া সফরে যান, যদিও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগের তীব্রতা বেড়েছে, এমনটা স্বীকার করতে মোটেই রাজি নন তিনি। ক্যালিফোর্নিয়ার দাবানলের জন্য বন ব্যবস্থাপনা ত্রুটিকে বড় করে দেখান প্রেসিডেন্ট।

ওই অঙ্গরাজ্যের প্রাকৃতিক সম্পদ সংস্থা বিষয়ক মন্ত্রী যখন জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে কথা বলতে শুরু করেন, তাঁকে থামিয়ে দিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘জলবায়ু শীতল হতে শুরু করবে, আপনি দেখতে থাকুন।’ জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি বিজ্ঞান যথাযথভাবে ব্যাখ্যা করতে পারে না—এমন মন্তব্যও করেন প্রেসিডেন্ট।

জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে পরিবেশবিজ্ঞানীদের উদ্বেগকে ট্রাম্প ‘ধাপ্পাবাজি’ অ্যাখ্যা দিয়েছেন প্রেসিডেন্সির শুরুতেই। ওই অবস্থানে অনড় থেকে তিনি প্রশ্ন করেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ভারত কি পথ বদলাবে? চীন কি পথ বদলাবে? রাশিয়া কি পথ বদলাবে?’ এসব দেশ যে বিপুল মাত্রায় পরিবেশদূষণ ঘটিয়েছে, সে তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে দূষণ খুব ক্ষুদ্র বলে দাবি করেন ট্রাম্প। সূত্র : বিবিসি, গার্ডিয়ান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা