kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ কার্তিক ১৪২৭। ২২ অক্টোবর ২০২০। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

ভারতের সেনাপ্রধান বললেন

আলোচনায় চীন সীমান্তে উত্তেজনা প্রশমন সম্ভব

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চীনের সঙ্গে লাদাখ ও অরুণাচল সীমান্তে যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান সম্ভব বলে মনে করেন ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল মনোজ মুকুন্দ নারাবানে। লাদাখে ‘যুদ্ধের’ প্রস্তুতি সরেজমিনে দেখতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় (এলএসি) উত্তেজনা রয়েছে। সতর্কতামূলক সেনা মোতায়েন করাও হয়েছে। তবে আমরা নিশ্চিত, আলোচনার মাধ্যমেই এলএসি পরিস্থিতির সমাধান সম্ভব।’

এদিকে রাশিয়ার মস্কোয় সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) বার্ষিক সম্মেলন চলছে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় সেখানেই মুখোমুখি বৈঠকে বসার কথা ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং ও চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী উই ফেঙ্গের। এলএসিতে কিভাবে স্থিতাবস্থা ফিরিয়ে আনা যায়, তা নিয়ে দুজনের মধ্যে আলোচনা হবে বলে জানা গেছে।

সীমান্তে চীনা হামলা ঠেকাতে ভারতীয় সেনাদের প্রস্তুতি দেখতে বৃহস্পতিবার দুই দিনে সফরে লাদাখে যান নারাবানে। সফরের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘এলএসিতে মোতায়েন সেনা অফিসার ও জেসিওদের (জুনিয়র কমিশনড অফিসার) সঙ্গে আমার আলোচনা হয়েছে। ভারতীয় জোয়ানদের মনোবল তুঙ্গে। ভারতীয় সেনা যেকোনো চ্যালেঞ্জের মোকাবেলা করতে প্রস্তুত।’ আগের দিন বৃহস্পতিবার দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠকে একইভাবে চীনা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার দাবি করেছিলেন চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ (সিডিএস) জেনারেল বিপিন রাওয়াত।

সেনা সূত্র জানায়, লাদাখ সফরে গিয়ে বৃহস্পতিবার লেহ?তে সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে এলএসি, বিশেষত প্যাংগং পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করেন জেনারেল নারাবানে। তিনি বলেন, ‘সতর্কতামূলকভাবে সেনা মোতায়েন করা হলেও আমরা এলএসি বরাবর অবস্থান করছি।’ চীনের তরফে গতকাল ভারতীয় সেনার বিরুদ্ধে এলএসি লঙ্ঘনের অভিযোগ করা হলেও তা খারিজ করেছেন সেনাপ্রধান। তবে সেই সঙ্গে তাঁর আশ্বাস, ‘পরিস্থিতি তৈরি হলে আমাদের অফিসার ও জোয়ানরা দেশকে গর্বিত করবে।’

গত ১৫ জুন পূর্ব লাদাখের গালওয়ান উপত্যকার প্যাট্রলিং পয়েন্ট-১৪-র কাছে চীনা ফৌজের সঙ্গে সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় সেনার মৃত্যু হয়েছিল। জখম হয়েছিলেন বেশ কয়েকজন জোয়ান। এরপর লাদাখ সফরে গিয়ে জেনারেল নারাবানে বলেছিলেন, ‘আমাদের তরফ থেকে কোনো উসকানি দেওয়া হবে না। কিন্তু সীমান্ত রক্ষায় কোনো আপস করবে না ভারতীয় সেনা।’ তাঁর এই মন্তব্য যে নিছক কথার কথা ছিল না, গত ২৯ আগস্ট রাতে প্যাংগং হ্রদের দক্ষিণে ভারতীয় এলাকায় অনুপ্রবেশ করতে গিয়ে টের পেয়েছে লাল ফৌজ। ভারতীয় সেনার প্রতিরোধে তাদের পিছু হটতে হয়েছে।

প্যাংগংয়ের দক্ষিণে নতুন করে অশান্তির জেরে চুশুলে দুই তরফের ব্রিগেডিয়ার স্তরের বৈঠক হলেও তাতে তেমন ‘অগ্রগতি’ হয়নি বলে সেনার একটি সূত্রের খবর। এই পরিস্থিতিতে উত্তেজনা প্রশমনে আরো উচ্চপর্যায়ের সেনা কর্মকর্তাদের বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে বলে ওই সূত্রের খবর। সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা