kalerkantho

বুধবার । ১৫ আশ্বিন ১৪২৭ । ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১২ সফর ১৪৪২

প্রথম যৌথ আয়োজনে বাইডেন-কমলা

যুক্তরাষ্ট্রকে যাচ্ছেতাই করে ফেলেছেন ট্রাম্প

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৪ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যুক্তরাষ্ট্রকে যাচ্ছেতাই করে ফেলেছেন ট্রাম্প

ডেলাওয়ারে গত বুধবার একসঙ্গে মঞ্চে ওঠেন জো বাইডেন ও কমলা হ্যারিস। ছবি : এএফপি

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে জোড় কণ্ঠে আওয়াজ তুলেছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রায় নিশ্চিত প্রার্থী জো বাইডেন এবং তাঁর সদ্যঘোষিত রানিং মেট কমলা হ্যারিস। তাঁদের ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রকে ‘ত্যানা ত্যানা’ করে ফেলেছেন এই অযোগ্য ও অদক্ষ প্রেসিডেন্ট। তাঁরা বলেন, ‘শক্ত চরিত্রের নারীদের নিয়ে ট্রাম্প সংকটে ভোগেন। এর আগেও এমনটিই দেখা গেছে। আর এবারের নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে দেবে।’

বাইডেনের ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে ক্যালিফোর্নিয়ার সিনেটর কমলা হ্যারিসের নাম ঘোষণার পর আয়োজিত প্রথম অনুষ্ঠানে এসে এসব কথা বলেন তাঁরা। এ আয়োজন জনসভা হতে পারত। তবে মহামারির জন্য তা সম্ভব হয়নি। বরং দুই প্রার্থীই মঞ্চে আসেন মাস্ক পরে। ডেলাওয়ারের উইলমিংটনের এক স্কুলে গত বুধবার আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্যরা ছিলেন সাংবাদিক। তাঁদের মুখেও মাস্ক দেখা যায়।

এ দুই ডেমোক্র্যাটের বক্রোক্তি অবশ্য নীরবে হজম করেননি ট্রাম্প। তিনি বলেন, কমলার ভাষা তাঁর নিজের প্রচারকেই পাথর চাপা দিচ্ছে। এর আগে কমলার নাম ঘোষণার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার সাবেক এই অ্যাটর্নি জেনারেলকে ‘উদ্ধত, নীচ, নোংরা, ঘ্যানঘ্যানে’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘কমলাকে কেউ পছন্দ করবে না। বিশেষ করে তিনি মুখ খুললেই তাঁর প্রচার মুখ থুবড়ে পড়বে।’ যদিও ২০১১ ও ২০১৩ সালে অ্যাটর্নি জেনারেলের নির্বাচনে কমলার প্রচার তহবিলে অর্থের জোগান দিয়েছিলেন ট্রাম্প। আর ট্রাম্পের মুখ থেকে কোনো নারী প্রসঙ্গে এ ধরনের অসম্মানজনক মন্তব্য এবারই প্রথম নয়। এর আগে ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন প্রসঙ্গে অসম্মানজন এই শব্দগুলো ব্যবহার করেছিলেন তিনি।

বর্তমান প্রেসিডেন্টের এ ধরনের মন্তব্যের জের ধরেই বুধবার বক্তব্য শুরু করেন ডেলাওয়ারের সিনেটর বাইডেন। তিনি বলেন, ‘ঘ্যানঘ্যান করাতে ট্রাম্পই সেরা। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে আর কোনো প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মতো ঘ্যানঘ্যানে ছিলেন না।’ তিনি ট্রাম্পের করোনভাইরাস পরিস্থিতি সামাল দেওয়া, জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা, বেকারত্বের হার বৃদ্ধি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্টের রাজনৈতিক বক্তব্য জাতিকে তীব্রভাবে বিভক্ত করেছে।

বাইডেনের পর বক্তব্য দেন কমলা। মুখ খুলেই তিনি প্রমাণ করে দেন, কেন প্রথম দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত কৃষ্ণাঙ্গ হিসেবে তাঁকে বেছে নেওয়া হয়েছে। এ পদে তাঁর আগেই দুজন রিপাবলিকান সারা প্যালিন (২০০৮) ও ডেমোক্র্যাট ওয়াল্টার মেন্ডেল (১৯৮৪) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। তবে তাঁরা কেউই কৃষ্ণাঙ্গ ছিলেন না। ৫৫ বছর বয়সী এই ডেমোক্র্যাট বলেন, ‘আমরা কাজ করতে চাই অর্থনীতি, স্বাস্থ্য, শিশু এবং যে সংস্কৃতির দেশে আমরা বাস করি সেগুলো নিয়ে। নেতৃত্বের জন্য যুক্তরাষ্ট্র এখন হাহাকার করছে, কাঁদছে। আমাদের প্রেসিডেন্ট নিজেকে নিয়েই ব্যস্ত। যাদের ভোটে তিনি নির্বাচিত তাদের দেখার সময় তাঁর নেই।’ ভারতীয় মা ও জ্যামাইকান বাবার এই সন্তান আরো বলেন, ‘বারাক ওবামা ও জো বাইডেনের কাছ থেকে তিনি (ট্রাম্প) উত্তরাধিকার সূত্রে বৃহৎ অর্থনীতি পেয়েছেন, পেয়েছেন আরো বহু কিছু। সবই মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছেন তিনি।’ বাইডেনের সঙ্গে নিজের সাদৃশ্য প্রসঙ্গে কমলা বলেন, একই কাপড়ের টুকরো থেকে কেটে তাঁদের দুজনকে তৈরি করা হয়েছে। সূত্র : বিবিসি, সিএনএন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা