kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৪ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১১ সফর ১৪৪২

গবেষণা প্রতিবেদন

যুক্তরাষ্ট্রে বছর শেষে মৃত্যু দাঁড়াবে তিন লাখ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৯ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যুক্তরাষ্ট্রে বছর শেষে মৃত্যু দাঁড়াবে তিন লাখ

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসকে শুরুতে পাত্তাই দিতে চাননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বলেছিলেন, ভয় পাওয়ার কিছু নেই। এক লাখের আশপাশে করোনার মৃত্যু মিছিল থামবে। সেই সংখ্যা ছাড়িয়েছে অনেক আগেই, পেরিয়েছে দেড় লাখের গণ্ডিও। এর মধ্যে এক দল বিশেষজ্ঞ তাঁদের প্রতিবেদনে দাবি করেছেন, করোনা নিয়ে ট্রাম্পের বেপরোয়া পথ অনুসরণ করলে ডিসেম্বরের মধ্যে তিন লাখ মানুষের প্রাণহানি হবে যুক্তরাষ্ট্রে।

বৈশ্বিক পরিসংখ্যানভিত্তিক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্যানুযায়ী, গতকাল বিকেল ৬টা পর্যন্ত করোনায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণ হারিয়েছে এক লাখ ৬৪ হাজার ১৩৯ জন। ওয়াশিংটনভিত্তিক ইনস্টিটিউট ফর হেলথ মেট্রিক্স অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশনের (আইএইচএমই) প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ডিসেম্বরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে দুই লাখ ৯৫ হাজার ১১ জনের মারা যাওয়ার আশঙ্কা আছে।

আইএইচএমইর গবেষক ক্রিস্টোফার মুরির ভাষ্য, ‘এই মডেল যে সত্যি প্রমাণিত হবে, তা নয়। এ ক্ষেত্রে ভাইরাস সংক্রমণের সঙ্গে মানুষের দৈনন্দিন ব্যবহারের সরাসরি যোগ রয়েছে। আর সংক্রমণের ওপরে নির্ভর করছে মৃত্যু।’ প্রতিষ্ঠানটি বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের ৯৫ শতাংশ বাসিন্দা যদি মাস্ক পরে তাহলে প্রাণহানির সংখ্যা হবে দুই লাখ ২৮ হাজার ২৭১ জন। অর্থাৎ ৬৬ হাজার মানুষের জীবন বেঁচে যাবে।

গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের ‘সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন’ জানিয়েছে, তাদের ধারণা ২৯ আগস্টের মধ্যে মার্কিন মুলুকে মৃতের সংখ্যা দুই লাখ ৮১ হাজার ৩১ জন ছোঁবে। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা গেছে, আগামী চার সপ্তাহে হাওয়াই ও পুয়ের্তো রিকোয় মৃত্যুহার বাড়তে পারে। সাপ্তাহিক মৃত্যুহার কমার সম্ভাবনা আছে ফ্লোরিডা, মিসিসিপি, নিউ মেক্সিকো, নর্দান মারিয়ানা আইল্যান্ডস, ওহাইও, টেক্সাস, ভারমন্ট ও ভার্জিন আইল্যান্ডে।

এমন পরিস্থিতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচন কী করে হবে—এ প্রশ্নের জবাবে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেসের ডিরেক্টর অ্যান্থনি ফাউচি গতকাল বলেন, ‘আমরা যদি সঠিক পথে চলি আজ এখন থেকেই, তাহলে নভেম্বরে পরিস্থিতি অনেক ভালো হয়ে যাবে।’

প্রায় দুই লাখ প্রাণহানির পরে ইউরোপে পরিস্থিতি এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন ওই অঞ্চলের বিশেষজ্ঞরা। পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে স্পেনে, সেখানে যাওয়া নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে অস্ট্রিয়া। বেলজিয়ামকেও রেড জোন হিসেবে দেখছে ফিনল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য। এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, করোনা সংক্রমণের ক্ষেত্রে অল্প বয়সীরা মোটেই বিপদমুক্ত নয়। সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণে তারা দেখতে পেয়েছে, এখন সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন ২৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সীরা। কিশোর-তরুণদের মধ্যে সংক্রমণের প্রবণতা বেড়েছে ছয় গুণ। শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাও বেড়েছে সাত গুণ।

গতকাল পর্যন্ত বিশ্বের ২১৩টি দেশ ও অঞ্চলে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় এক কোটি ৯৮ লাখ। প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে হয়েছে প্রায় সাত লাখ ২৯ হাজার। আর সুস্থ হয়েছে প্রায় এক কোটি ২৭ লাখ রোগী। সূত্র : আনন্দবাজার, ওয়ার্ল্ডোমিটার।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা