kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৪ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১১ সফর ১৪৪২

বিস্ফোরণের আন্তর্জাতিক তদন্তের আহ্বান নাকচ করে দিলেন প্রেসিডেন্ট

লেবাননে মানবিক সংকটের আশঙ্কা জাতিসংঘের

ব্যাপক বিক্ষোভ, আক্রান্ত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৯ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



লেবাননে মানবিক সংকটের আশঙ্কা জাতিসংঘের

লেবাননের বৈরুতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের জেরে সৃষ্ট খাদ্যসংকট এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতের বিপর্যয়ের কারণে দেশটিতে মানবেতর পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা করছে জাতিসংঘ। এই অবস্থায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনের খাদ্য ও সেবা গ্রহণ করলেও বিস্ফোরণের ঘটনায় আন্তর্জাতিক তদন্তের আহ্বান নাকচ করে দিয়েছেন লেবাননের প্রেসিডেন্ট মাইকেল আউন। প্রধানমন্ত্রী হাসান দিয়াব বলেছেন, বর্তমান রাজনৈতিক সংকটের সমাধান সম্ভব আগাম নির্বাচনের মাধ্যমে। তিনি সরকারের কাছে আগাম নির্বাচনের অনুরোধ জানাবেন। 

বৈরুতের বন্দরে ছয় বছর ধরে অনিরাপদ অবস্থায় গুদামজাত দুই হাজার ৭৫০ টন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট গত মঙ্গলবার বিস্ফোরিত হলে গোটা বন্দর ধুলার সঙ্গে মিশে যায়। বিস্ফোরণস্থলের পাশে থাকা দেশের প্রধান খাদ্যগুদামের সব শস্য নষ্ট হয়ে যায়। বন্দরের আশপাশের সব ভবন ধসে পড়ে।

গত মঙ্গলবারের ওই ভয়াবহ বিস্ফোরণের প্রতিবাদে লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ব্যাপক বিক্ষোভ চলছে। গতকাল শনিবার বৈরুতের রাস্তায় হাজার হাজার বিক্ষোভকারী নেমে আসে। প্রথমদিকে বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ থাকলেও পুলিশ টিয়ার গ্যাস ছুড়লে পরিস্থিতি সহিংস হয়ে ওঠে। পরে বেশ কিছু বিক্ষোভকারী ঢুকে পড়ে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। এ ছাড়া শহরের কেন্দ্রস্থল থেকেও গুলির শব্দ শোনা গেছে।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, ওই বিস্ফোরণে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫৪ জনে। তাদের মধ্যে ২৫ জনের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি। নিখোঁজ রয়েছে ৬৬ জন। এ ছাড়া প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ আহত হয়েছে, যাদের মধ্যে কমপক্ষে ১২০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

বিস্ফোরণে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত তিনটি হাসপাতালের কার্যক্রম একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে। আরো অনেক হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম আংশিক চালু আছে। সব মিলিয়ে হাসপাতালগুলোর ৫০০ শয্যায় আর কোনো সেবা দেওয়া যাচ্ছে না।

এ ছাড়া আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে তিন লাখ মানুষ, যাদের মধ্যে আছে প্রায় এক লাখ শিশু। এমন অনেক শিশু আছে, যারা পরিবারের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

লেবাননে এমন নানামুখী সমস্যার কারণে সেখানে মানবিক সংকট সৃষ্টির আশঙ্কা করছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডাব্লিউএফপি) মুখপাত্র এলিজাবেথ বায়রস আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, গত মঙ্গলবারের বিস্ফোরণে লেবাননের বৃহত্তম বন্দরটি ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় খাদ্য সরবরাহ কমে যেতে পারে এবং বেড়ে যেতে পারে খাদ্যমূল্য। এতে খাদ্যমূল্য বহু মানুষের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে। সংস্থাটি আরো জানায়, তারা লেবাননে পাঁচ হাজার পার্সেল পাঠাচ্ছে। একেকটি পার্সেল পাঁচ সদস্যের একটি পরিবারের এক মাসের খোরাক হিসেবে যথেষ্ট বলে ডাব্লিউএফপির দাবি।

লেবাননের স্বাস্থ্যসেবা সংকটের ব্যাপারে হুঁশিয়ারি দিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) মুখপাত্র ক্রিস্টিয়ান লিন্ডমেইয়ার জানিয়েছেন, সংস্থাটি ইতিমধ্যে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা উপকরণ লেবাননে পাঠিয়েছে। এ ছাড়া তাৎক্ষণিক চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি করোনাভাইরাস মহামারি মোকাবেলায় লেবাননের জন্য দেড় কোটি ডলারের তহবিল গড়ার আহ্বান জানিয়েছে ডাব্লিউএইচও।

ডাব্লিউএফপি ও ডাব্লিউএইচওর পাশাপাশি এগিয়ে এসেছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থাও। লেবাননে ১৫ লাখ সিরীয় শরণার্থীর জন্য জরুরি সহায়তা পাঠাচ্ছে তারা।

আন্তর্জাতিক তদন্তের আহ্বান নাকচ : আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে আসা খাদ্য, ওষুধ, চিকিৎসা উপকরণসহ বিভিন্ন সেবা নিলেও তদন্তের বিষয়টি নিজেদের ভেতর সীমাবদ্ধ রাখার ওপর জোর দিয়েছেন লেবাননের প্রেসিডেন্ট আউন। গত মঙ্গলবারের বিস্ফোরণের ঘটনায় আন্তর্জাতিক তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন পক্ষ। তবে সেটা এককথায় নাকচ করে দিয়েছেন তিনি। গত শুক্রবার তিনি বলেন, ‘সত্য আড়াল করার লক্ষ্যেই বন্দরের ঘটনায় আন্তর্জাতিক তদন্তের আহ্বান জানানো হচ্ছে।’ তিনি এদিন জানান, সরকারের তরফ থেকে পরিচালিত তদন্তে বিস্ফোরণের তিন কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে—অবহেলা, দুর্ঘটনা অথবা বিদেশি শক্তির ছোড়া রকেট, বোমা বা অন্য কিছু। সূত্র : এএফপি, বিবিসি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা