kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৯ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৬ সফর ১৪৪২

বৈরুতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ তীব্র হচ্ছে

আজ আবার বিক্ষোভের ডাক

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৮ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বৈরুতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ তীব্র হচ্ছে

লেবাননের বৈরুতে বৃহস্পতিবার সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের দিকে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে পুলিশ। ছবি : রয়টার্স

লেবাননের বৈরুতে প্রাণঘাতী বিস্ফোরণের পর দানা বাঁধতে শুরু করেছে সরকারবিরোধী আন্দোলন। গত বৃহস্পতিবার রাতে বৈরুতের রাজপথে পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষও হয়েছে আন্দোলনকারীদের। আজ শনিবারও সরকারবিরোধী বিক্ষোভ হওয়ার কথা রয়েছে। আন্দোলনকারীরা বলছে, সরকারের চরম দুর্নীতি আর অব্যবস্থাপনার কারণেই বৈরুত আজ ধ্বংসযজ্ঞে পরিণত হয়েছে। এ অবস্থায় পুরো রাজনৈতিক ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর দাবি তুলেছে তারা।

গত মঙ্গলবার বৈরুতে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের একটি গুদামে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে ২৫০ কিলোমিটার দূর থেকেও অনুভূত হয়েছে। বিস্ফোরণে গতকাল শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত প্রাণ গেছে অন্তত ২৫০ জনের। আহতের সংখ্যা প্রায় পাঁচ হাজার। নিখোঁজ রয়েছে শতাধিক মানুষ। গৃহহীন হয়ে পড়েছে বৈরুতের প্রায় তিন লাখ বাসিন্দা।

লেবাননের রাষ্ট্রায়ত্ত ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সির খবরে বলা হয়, বৃহস্পতিবার রাতে বিক্ষোভকারীরা সড়কের মোড়ে মোড়ে আগুন জ্বালিয়ে সরকারবিরোধী স্লোগান দিতে থাকে। এরপর তারা পার্লামেন্ট ভবনের দিকে অগ্রসর হতে গেলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় আন্দোলনকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছুড়তে থাকে। তখন আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে পুলিশ। এ সময় বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী আহত হয়। আজ শনিবার বৈরুতে আবারও বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে আন্দোলনকারীরা।

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়, জর্দানে নিযুক্ত লেবাননের রাষ্ট্রদূত ত্রাসি শ্যামন পদত্যাগ করার পরপরই বৈরুতে বিক্ষোভ শুরু হয়। পদত্যাগের কারণ হিসেবে শ্যামন বলেন, সরকারের দুর্নীতি আর অবহেলার কারণেই বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটেছে। শ্যামনের আগে পদত্যাগ করেন মারওয়ান হামাদিহ নামের এক আইন প্রণেতা।

একসময় ফ্রান্সের উপনিবেশ ছিল লেবানন। গত বৃহস্পতিবার বৈরুত পরিদর্শনে যান ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ। তিনিও লেবানন সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। জানিয়েছেন, লেবাননে রাজনৈতিক সংস্কারে তিনি সহযোগিতা করবেন।

জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশ বৈরুতের বাসিন্দাদের জন্য এরই মধ্যে ত্রাণ পাঠিয়েছে। জাতিসংঘের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, লেবাননে মানবিক সংকট তৈরি হতে পারে।

এমনিতেই অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে লেবানন। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সই দেশটির অর্থনীতির মূল ভিত্তি। কিন্তু গত বছর থেকে রেমিট্যান্সের প্রবাহ অনেক কমে গেছে। প্রতিবছর গ্রীষ্মের ছুটিতে লেবানিজরা নিজ দেশে বেড়াতে যান। ওই সময় মোটা অঙ্কের অর্থ নিয়ে যান তাঁরা। কিন্তু এবার করোনা মহামারির কারণে অনেকেই যাননি। এ ছাড়া লেবাননে ক্রমবর্ধমান দুর্নীতির কারণে অনেক প্রবাসী অর্থ পাঠাতে চান না। এর মধ্যে মঙ্গলবারের বিস্ফোরণ দেশটিকে আরো কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে। সূত্র : এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা