kalerkantho

মঙ্গলবার । ৭ আশ্বিন ১৪২৭ । ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৪ সফর ১৪৪২

‘আমরা অভিশপ্ত’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৬ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বাদামিরঙা দৈত্যাকার ধোঁয়ার কুণ্ডলী ফিকে হতে না হতেই পশ্চিম বৈরুতে ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র স্পষ্ট হচ্ছিল। ধ্বংসের বিস্তৃতি এতটাই যে বিস্ফোরণের কেন্দ্রস্থলের চার কিলোমিটার দূরেও কোনো একটি ভবন অক্ষত নেই; জানালার কাচ হলেও ভেঙেছে। রাস্তা ঢাকা পড়ছে ভাঙা কাচের টুকরোয়; কিছু টুকরো আটকে গেছে আশপাশের গাড়িতে। গাছগুলো ছিন্নভিন্ন এবং রক্তের স্রোত রাস্তায় মিশে কালচে রং ধরেছে। ঘড়ির কাঁটায় তখন স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা।

রক্তের চিহ্ন গিয়ে মিশেছে বহু গাড়ি ও মোটরসাইকেলে। বিস্ফোরণের পর থেকে এসব যানে শত শত হতাহতকে হাসপাতাল, ক্লিনিকে নেওয়া হয়েছে। তীব্র বিলাপের মতো আওয়াজে অ্যাম্বুল্যান্সগুলো ছুটছে। অনেক মানুষও ছুটছে গাড়িতে। তাদের অনেকের গন্তব্য নিরাপদ আশ্রয়। ফলে অ্যাম্বুল্যান্সগুলোকে ভিড় ঠেলে যেতে হচ্ছে।

পূর্ব বৈরুতের উপকণ্ঠের আশরাফিয়া থেকে গেমায়েজেও ধ্বংসের চিহ্ন প্রকট। ডজন ডজন ভবনের কাঠামোগত ক্ষতি স্পষ্ট। দোকানপাট, রেস্তোরাঁগুলো প্রায় ধসে পড়েছে। নাইটক্লাবের জন্য পরিচিত এই এলাকাটি এমনকি গৃহযুদ্ধের সময়ও এতটা ক্ষতির মুখে পড়েনি।

বিস্ফোরণস্থলের কাছাকাছি জায়গা থেকে নারী, পুরুষ ও শিশুরা হেঁটে আসছে। তাদের অনেকে রীতিমতো ছুটে আসছে। কিন্তু রাস্তায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ধ্বংসস্তূপ ঠেলে তারা সেভাবে এগোতে পারছে না; তাদের বেগ পেতে হচ্ছে। এমন নয়, বৈরুত এর আগে বিস্ফোরণে কাঁপেনি।

‘আমরা অভিশপ্ত’, বললেন একজন। বয়স বিশের কোঠায়। কাচে কাটা তাঁর কবজি থেকে রক্ত ঝরছে। ‘যদি এটা দুর্ঘটনাও হয়ে থাকে তাহলেও এটাই শেষ ঘটনা নয়, যা আমরা সয়েছি’, বলেন তিনি। সর্বশেষ ২০০৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রায় একই রকমের বিস্ফোরণে কেঁপেছিল লেবানন। গাড়িবোমার সেই বিস্ফোরণে নিহত হন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রফিক হারিরি। সূত্র : গার্ডিয়ান।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা