kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২২ শ্রাবণ ১৪২৭। ৬ আগস্ট  ২০২০। ১৫ জিলহজ ১৪৪১

সীমিত হজ এবারই প্রথম নয়

সৌদির অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ, বিদেশি সেনাদের হামলা, মহামারিসহ বিভিন্ন কারণে অতীতে বন্ধ ছিল হজ পালন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৩১ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সীমিত হজ এবারই প্রথম নয়

করোনাভাইরাস মহামারি আমাদের জীবনের বাড়তি অনুষঙ্গ ছেঁটে ফেলতে বাধ্য তো করেছেই, ব্যাহত করছে বহু প্রয়োজনীয় কাজের গতিও। প্রতিবছর আয়োজিত মহাসমারোহের হজও বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে সৌদি সরকার। তবে হজ বন্ধ থাকার ঘটনা যে এটাই প্রথম, তা কিন্তু নয়।

সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের জেরে বিদ্রোহী হামলা, বিদেশি সেনাদের হামলা, মহামারিসহ বিভিন্ন কারণে অতীতে বিভিন্ন সময় বন্ধ ছিল হজ পালন। দেখে নেওয়া যাক হজ বন্ধ থাকার তেমনই কিছু সময় ও সেগুলোর প্রেক্ষাপট।

কারমাতিয়ান হামলা : আমরা আজ যে অঞ্চলকে বাহরাইন নামে চিনি, সেখানেই ছিল কারমাতিয়ান গোষ্ঠীর বাস। ৯৩০ সালে ওই গোষ্ঠী মক্কায় হামলা চালিয়ে প্রায় ৩০ হাজার মানুষকে হত্যা করে, লাশগুলো জমজমের কুয়ায় ফেলে দিয়ে কলুষিত করে সেখানকার পবিত্র পানি। এ ছাড়া তারা কাবা থেকে লুটে নিয়ে যায় পবিত্র কালো পাথর। এরপর চুরি হয়ে যায় ওই পাথরের খণ্ডাংশ। ওই পাথর উদ্ধারে করে কাবায় প্রতিস্থাপন করা পর্যন্ত প্রায় ২০ বছর বন্ধ ছিল হজ।

ঊনবিংশ শতাব্দীর কলেরা : কলেরা মহামারির কারণে ১৮৩৭ থেকে ১৮৪৬ সাল পর্যন্ত হজ বন্ধ রাখা হয়। ১৮৬৫ সালে আবার কলেরা প্রাদুর্ভাব হলে এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, হজে আসা মুসলমানদের মক্কার আশপাশের সিনাই ও হেজাজের মতো এলাকায় কোয়ারেন্টিনে রেখে এরপর হজের অনুমতি দেওয়া হবে। বলা দরকার, ১৮৩০ থেকে ১৯৩০ সাল পর্যন্ত কমপক্ষে ২৭ বার কলেরার প্রকোপ দেখা দিয়েছিল।

অবরুদ্ধ মসজিদ আল হারাম : সৌদি আরবের শাসনব্যবস্থার প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে পরিবর্তনের দাবিতে ১৯৭৯ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বরের মাঝামাঝি কাবাসংলগ্ন মসজিদ আল হারাম দখল করে নেয় প্রায় ৫০০ জনের এক সশস্ত্র দল। তারা দুই সপ্তাহ মসজিদ দখল করে রাখে। সরকারি বাহিনী পরবর্তী সময়ে মসজিদের নিয়ন্ত্রণ নিলেও মাঝখানের ওই সময় বন্ধ রাখতে হয় হজ।

ইরানিদের হজ বর্জন : যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কয়েকটি দেশের বিভিন্ন নীতির প্রতিবাদ জানাতে ইরানের হজযাত্রীরা ১৯৮৭ সালের ৩১ জুলাই হজ চালকালে বিক্ষোভ করে। ওই সময় পুলিশের সঙ্গে তারা চরম সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে তাতে প্রায় ৪০০ জন নিহত হয়। ইরান সরকার সেটাকে গণহত্যা অ্যাখ্যা দেয় এবং পরবর্তী তিন বছর ইরান থেকে হজযাত্রা বন্ধ রাখা হয়। এ ছাড়া রিয়াদের সঙ্গে মতপার্থক্যের জেরে ২০১৬ সালে আরেকবার ইরান থেকে হজযাত্রা বন্ধ রাখে তেহরান।

এবোলা মহামারি : পশ্চিম আফ্রিকায় ছড়িয়ে পড়া এবোলা মহামারির কারণে ২০১৪-১৬ মেয়াদে গিনি, লাইবেরিয়া ও সিয়েরা লিওনের বাসিন্দাদের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছিল মক্কার দ্বার। ২০১৪ সালে প্রাদুর্ভাব ঘটা এবোলায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল ওই তিন দেশ। ২০১৬ সালে ওই মহামারি নির্মূল ঘোষণা করা হয়। তত দিনে প্রায় ১১ হাজার মানুষ এবোলায় প্রাণ হারায়। সূত্র : আলজাজিরা।

মন্তব্য