kalerkantho

সোমবার । ২৬ শ্রাবণ ১৪২৭। ১০ আগস্ট ২০২০ । ১৯ জিলহজ ১৪৪১

অযোধ্যা নেপালে, রাম নেপালি রাজপুত্র

অলির বক্তব্যে ভারতে ক্ষোভ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৫ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



অলির বক্তব্যে ভারতে ক্ষোভ

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম অবতার রাম নেপালের রাজপুত্র ছিলেন এবং অযোধ্যার অবস্থান নেপালেই ছিল বলে দাবি করেছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলি। তাঁর এই মন্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি।

ভারতের গণমাধ্যমেও তাঁর বক্তব্যকে ‘বিভেদ সৃষ্টিকারী’ বলে বর্ণনা করা হয়েছে। অন্যদিকে নেপালের ভেতরেও তিনি সমালোচনার মুখে পড়েছেন বলে জানা গেছে। অলি এমন সময়ে এই মন্তব্য করলেন, যখন সীমান্ত নিয়ে ভারতের সঙ্গে নেপালের বিরোধ চলছে।

প্রধানমন্ত্রী অলির বক্তব্যের যে অংশটি ব্যাপকভাবে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, সেখানে দেখা যাচ্ছে, রামায়ণে উল্লিখিত অযোধ্যার অবস্থান নিয়ে তিনি একাধিক মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা এখনো মনে করি, আমরা (নেপালিরা) সীতাকে ভারতের রাজপুত্র রামের কাছে তুলে দিয়েছিলাম। কিন্তু আমরা দিয়েছিলাম অযোধ্যার রাজপুত্র রামের কাছে, ভারতের রামের কাছে নয়। অযোধ্যা হলো বীরগঞ্জের খানিকটা পশ্চিমের একটি গ্রাম। সেটা এখন আর অযোধ্যা নামে নেই।’

অলি আরো প্রশ্ন তোলেন, রাম যদি ভারতেই থাকতেন, তাহলে কিভাবে অযোধ্যার রাজার পুত্র জনকপুরে বিয়ে করতে আসেন? তিনি বলেন, ‘জনকপুর (সীতার জন্মস্থান) যদি এখানে থাকে আর অযোধ্যা যদি সেখানে (ভারতে) থাকে, তাহলে তাদের বিয়েটা কিভাবে হলো? সেই আমলে কি কারো পক্ষে এটা করা সম্ভব ছিল? সেই সময়ে টেলিফোন-মোবাইল ছিল না! তাহলে কিভাবে (এই রাজকন্যার ব্যাপারে তিনি) জানলেন? সেটা জানার কোনো সম্ভাবনা ছিল না।’

এই বক্তব্য দেওয়ার পর থেকেই ভারতের সমালোচনার মুখে পড়ছেন অলি। ভারতের নিউজ এজেন্সি পিটিআই এই বক্তব্যকে ‘রাজনৈতিক বিভেদ সৃষ্টিকারী’ এবং ভারতকে আহত করার জন্য ‘অবাক করা পদক্ষেপ’ বলে বর্ণনা করেছে। ওই খবরে আরো বলা হয়েছে, দেশটির ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির মুখপাত্র বিজয় শঙ্কর শাস্ত্রী প্রধানমন্ত্রী অলির বক্তব্যের নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘দেবতা রাম ধর্মবিশ্বাসের একটি ব্যাপার এবং সেটা নিয়ে মানুষ কাউকে খেলা করার সুযোগ দেবে না, তা তিনি নেপালের প্রধানমন্ত্রী বা অন্য যে কেউ হন না কেন।’

নেপালের ভেতরেও অনেকে মনে করছেন, সীমান্ত নিয়ে ভারতের সঙ্গে তিক্ত হয়ে ওঠা সম্পর্ক উন্নয়নে তাঁর এই বক্তব্য কোনো সহায়তা করবে না। সূত্র : বিবিসি, আনন্দবাজার পত্রিকা।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা