kalerkantho

সোমবার । ২৬ শ্রাবণ ১৪২৭। ১০ আগস্ট ২০২০ । ১৯ জিলহজ ১৪৪১

রাজস্থানে বিদ্রোহী উপপ্রধানমন্ত্রী বরখাস্ত

ঘর সামলাতে হিমশিম কংগ্রেস, আস্থা ভোটের দাবি বিজেপির

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৫ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঘর সামলাতে হিমশিম কংগ্রেস, আস্থা ভোটের দাবি বিজেপির

মাত্র তিন মাস আগে মধ্য প্রদেশে মঞ্চস্থ হওয়া নাটকের পুনরাবৃত্তি ঘটে গেল রাজস্থানে। কংগ্রেস নিয়ন্ত্রিত ভারতের এ রাজ্য থেকেও বিতাড়িত হলেন তরুণ রাজনীতিক সচিন পাইলট। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবায়িত করতে গিয়ে উপপ্রধানমন্ত্রী এবং রাজ্য দলীয় প্রধানের পদ থেকে বিতাড়িত হলেন তিনি। তাঁর সঙ্গে যোগ দেওয়া রাজ্যের আরো দুই মন্ত্রীকেও পদ হারাতে হয়েছে। দলীয় এই বিবাদকে কাজে লাগিয়ে বিজেপি রাজ্য বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলত সরকারের আস্থা ভোটের দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে গতকাল বিকেলে দিল্লিতে কংগ্রেস নেত্রীর বাসভবন ১০ জনপথে দলীয় বৈঠকের জন্য পৌঁছেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। তবে বৈঠকে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না, তা জানা যায়নি।

কংগ্রেসের মুখপাত্র রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা গতকাল বিকেলে জানান, মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলতের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করায় রাজস্থানের উপমুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সচিন পাইলটকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পাইলটকে রাজস্থান রাজ্যের কংগ্রেস কমিটির সভাপতির পদ থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সচিনঘনিষ্ঠ রাজ্যের দুই মন্ত্রী বিশ্বেন্দ্র সিং ও রমেশ মিনাও তাঁদের পদ হারিয়েছেন।

গতকালই পাইলটসহ ‘বিদ্রোহী’ বিধায়কদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব পাস হয় জয়পুরে কংগ্রেস পরিষদীয় দলের বৈঠকে। ওই বৈঠকে ফের রাজস্থানের পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচিত হন গেহলত। তার পরই পাইলটকে সরানোর সিদ্ধান্ত হয়। জানা গেছে, এরপর পাইলটকে দল থেকে বহিষ্কার করার মতো কঠোর সিদ্ধান্তের পথেও কংগ্রেস হাইকমান্ড হাঁটতে পারে।

দলের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে সুরজেওয়ালা বলেন, ‘সচিন পাইলট তাঁর কিছু অনুগামী ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) ষড়যন্ত্রে শামিল হয়ে নির্বাচিত কংগ্রেস সরকারকে ফেলে দেওয়ার চক্রান্ত করেছেন। এটা কোনো দলই মেনে নিতে পারবে না। তাই আক্ষেপের সঙ্গে এবং ভারাক্রান্ত মনে কংগ্রেস কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’ সচিন পাইলটের জায়গায় গোবিন্দ সিং দোতাসরাকে রাজ্য কংগ্রেস কমিটির সভাপতি করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন সুরজেওয়ালা।

মুখ্যমন্ত্রী গেহলতের বিরুদ্ধে ‘বিদ্রোহ’ ঘোষণা করে চার দিন আগে দিল্লিতে যান সচিন পাইলট। তাঁর দাবি, ২৫ জন বিধায়কের সমর্থন তাঁর সঙ্গে রয়েছে। এর মধ্যেই কংগ্রেসের হাইকমান্ড সচিনকে রাজস্থানে ফিরে গিয়ে দলীয় বৈঠকে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। কিন্তু তিনি যাননি। পরে আবারও এই নির্দেশ দেওয়া হয় তাঁকে। তবে দ্বিতীয় বৈঠকেও অনুপস্থিত ছিলেন তিনি। সোমবার এবং গতকাল পর পর দুইবার দলীয় নির্দেশনা না মানার পর মঙ্গলবার তাঁকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় কংগ্রেস। তবে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন বলে গুজব রয়েছে তাও নাকচ করে দিয়েছেন সচিন পাইলট।

রাজস্থান বিধানসভার মোট আসন ২০০টি। সংখ্যাগরিষ্ঠতা ১০১ আসনে। কংগ্রেস বিধায়ক ১০৭ জন। নির্দল ও সহযোগী মিলিয়ে ১২২ জন বিধায়ক আছে সরকারপক্ষের। জানা গেছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখাতে সোমবার সন্ধ্যাতেই ১০২ জন বিধায়ককে হোটেলবন্দি করে কংগ্রেস। সূত্র : এনডিটিভি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা