kalerkantho

শুক্রবার । ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৪ আগস্ট ২০২০ । ২৩ জিলহজ ১৪৪১

পাঠশালায় ফেরা হবে না এক কোটি শিশুর

করোনার প্রভাব নিয়ে সেভ দ্য চিলড্রেনের পূর্বাভাস

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৪ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনা মহামারির প্রভাবে বিশ্বের প্রায় এক কোটি শিশু হয়তো আর পাঠশালায় ফিরতে পারবে না। প্রাদুর্ভাব শুরুর পর গত এপ্রিলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রায় ১৬০ কোটি শিক্ষার্থীর পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটেছে, যা বিশ্বের মোট ছাত্রসংখ্যার ৯০ শতাংশ। মানব সভ্যতার ইতিহাসে এই প্রথম গোটা একটি প্রজন্মের পড়াশোনায় একসঙ্গে ব্যাঘাতের ঘটনা ঘটেছে। ইউনেসকোর প্রতিবেদন ধরে গত সোমবার এসব তথ্য জানিয়েছে উন্নয়ন সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন।

সংস্থাটি বলছে, চলমান মহামারিতে ১১ কোটি ৭০ লাখ শিশু দারিদ্র্যসীমার নিচে যাবে। ফলে অল্প বয়সেই ছেলেরা যেমন কাজের সন্ধানে বের হতে বাধ্য হবে, তেমনি অল্প বয়সে মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দেওয়ার প্রবণতা বাড়বে। এতে প্রায় ৯৭ লাখ শিশু আর শিক্ষালয়ে ফিরতে পারবে না।  লাখো পড়ুয়া আর কখনো স্কুলেই যাবে না। সেভ দ্য চিলড্রেন আরো জানাচ্ছে, করোনা মহামারির ফলে যে মন্দা দেখা দিয়েছে, এর ফলে আগামী বছর অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে শিক্ষা বাজেটে সাত হাজার ৭০০ কোটি ডলার ঘাটতি দেখা দেবে।

সেভ দ্য চিলড্রেনের প্রধান নির্বাহী ইঙ্গার অ্যাশিং বলেন, ‘শিক্ষাব্যবস্থা নজিরবিহীন সংকটে পড়ায় এক কোটি শিশু হয়তো আর স্কুলে ফিরবে না। প্রতিটি সরকারের এই মুহূর্তে শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ করা উচিত। এমনিতেই এখনো ছেলে ও মেয়ে, ধনী ও দরিদ্র শিক্ষার্থীর মধ্যে বৈষম্য আছে। এখন যা পরিস্থিতি, এতে বৈষম্য আরো বেড়ে চলেছে।’

মৃত্যুতে লাতিন অঞ্চল দ্বিতীয় : করোনায় প্রাণহানির নিরিখে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডাকে ছাড়াল লাতিন আমেরিকা অঞ্চল। এএফপির হিসাবে, গতকাল বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা পর্যন্ত লাতিন অঞ্চলে এক লাখ ৪৪ হাজার ৭৫৮ জনের মৃত্যু নথিভুক্ত হয়েছে। একই সময় পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় এই সংখ্যা দাঁড়ায় এক লাখ ৪৪ হাজার ২৩। আর দুই লাখ দুই হাজার ৫০৫ প্রাণহানি নিয়ে এই তালিকায় শীর্ষে আছে ইউরোপ অঞ্চল।

ম্যানিলায় অবরুদ্ধ দশা : করোনা প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলার ন্যাভোটাস এলাকা অবরুদ্ধ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী বুধবার বা বৃহস্পতিবার থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে। স্থানীয় সরকারের হিসাবে, ওই এলাকায় এখন পর্যন্ত ৯৩১ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে, মৃত্যু হয়েছে ৫৯ জনের। কিন্তু দুই সপ্তাহ ধরে সংক্রমণে উল্লম্ফন দেখা দেওয়ায় অবরুদ্ধ দশায় ফিরছে এলাকাটি। অবশ্য কর্মক্ষেত্র ও দোকানপাট খোলা থাকবে। এর আগে মার্চের মাঝামাঝি থেকে সেখানে লকডাউন শুরু হয়, গণপরিবহন ও অফিস চালু হয় জুনের শুরুতে।

বৈশ্বিক আক্রান্ত সোয়া কোটি ছাড়াল : বৈশ্বিক পরিসংখ্যানভিত্তিক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারের হিসাবে, গতকাল বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা পর্যন্ত বিশ্বের ২১৩টি দেশ ও অঞ্চলে শনাক্ত রোগী সংখ্যা দাঁড়ায় এক কোটি ৩১ লাখে। এ সময় পর্যন্ত পৌনে ছয় লাখ মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। আর সুস্থ হয়েছে সাড়ে ৭৬ লাখ রোগী। বর্তমানে বৈশ্বিক মৃত্যুহার ৭ শতাংশ। সূত্র : এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা