kalerkantho

শুক্রবার । ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৪ আগস্ট ২০২০ । ২৩ জিলহজ ১৪৪১

‘উইঘুর নিপীড়ন’ বিতর্ক

মার্কিন কর্মকর্তাদের ওপর চীনের পাল্টা নিষেধাজ্ঞা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৪ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মার্কিন কর্মকর্তাদের ওপর চীনের পাল্টা নিষেধাজ্ঞা

যুক্তরাষ্ট্রের তিন জ্যেষ্ঠ আইন প্রণেতা এবং একজন দূতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে চীন। গতকাল সোমবার থেকেই এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার কথা। এর আগে চীনের পশ্চিমাঞ্চলীয় শিনচিয়াং অঞ্চলের উইঘুর মুসলিম জাতিগোষ্ঠীর মানুষের সঙ্গে বেইজিং সরকারের নিপীড়নমূলক আচরণের প্রেক্ষাপটে চীনের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। এরই পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে চীন গতকালের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করল।

এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা যেসব আইন প্রণেতার বিরুদ্ধে নেওয়ার হয়েছে তাঁদের মধ্যে রয়েছেন চীনের তীব্র সমালোচনাকারী সিনেটর মার্কো রুবিও, সিনেটর টেড ক্রুজ এবং কংগ্রেসম্যান ক্রিস স্মিথ। তাঁদের সঙ্গে আরো রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতাবিষয়ক অ্যাম্বাসাডর অ্যাট লার্জ স্যাম ব্রাউনব্যাক। তবে চীনের এই নিষেধাজ্ঞা ঠিক কোন কোন ক্ষেত্রে কার্যকর হবে, সে সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেননি দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মুখপাত্র হুয়া চুনিয়াং। রোজকার নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি চীনের বিরুদ্ধে যে অন্যায় ব্যবস্থা নিয়েছে এরই প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে চীন।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ওই ভুল সিদ্ধান্ত শিগগিরই প্রত্যাহারের আহ্বান জানাচ্ছি। একই সঙ্গে আমরা তাদের চীনের অভ্যন্তরীণ কোনো বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার এবং ভুল শব্দ ব্যবহার থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেব।’ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে চীন পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে বলেও জানান তিনি।

সম্প্রতি উইঘুর মুসলমানদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগে চীনের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভিসা নিষেধাজ্ঞা এবং সম্পদ জব্দ করার সিদ্ধান্ত নেয় যুক্তরাষ্ট্র।

ব্যক্তি ছাড়াও মার্কিন কংগ্রেসনাল এক্সিকিউটিভ কমিশন অন চায়নার ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে চীন। এই সংস্থাটি এশীয় দেশগুলোতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি নিয়ে কাজ করে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কে চরম তিক্ততা দেখা দেয়। কখনো বাণিজ্য, কখনো মানবাধিকার ইস্যু, কখনো করোনাভাইরাস আবার কখনো চীন অথবা তাইওয়ান বা হংকং নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বাদানুবাদ চলছেই। প্রতি ক্ষেত্রেই দেখা গেছে কোনো না কোনো অজুহাতে চীনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। পাল্টা ব্যবস্থা নিতেও কালক্ষেপণ বা কার্পণ্য করেনি চীন। এই দুই দেশের মধ্যকার অশান্তি আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকেও অস্থিতিশীল করে তুলেছে।

গত সপ্তাহে প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র জানায়, চীন ১০ লক্ষাধিক উইঘুর মুসলিম ও তুর্কি মুসলিমকে শিনচিয়াংয়ে সুবিশাল এক ক্যাম্পে বন্দি করে রেখেছে। তাদের ওপর নিয়মতান্ত্রিকভাবে নির্যাতন চালানো হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেন, তাঁর দেশ এই ‘নিয়মতান্ত্রিক ও ভয়াবহ নির্যাতনের প্রতিবাদে’ এর সঙ্গে যুক্ত চীনের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদেই গতকাল চীন ব্যবস্থা নিল। হুয়া বলেন, চীন মনে করে, শিনচিয়াংয়ের বিষয়টি চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং এতে হস্তক্ষেপ করার কোনো অধিকার যুক্তরাষ্ট্রের নেই। আর চীন সন্ত্রাস, বিচ্ছিন্নতাবাদ এবং ধর্মীয় চরমপন্থার বিরুদ্ধে লড়াই করতে বদ্ধপরিকর। সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া, সিএনএন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা