kalerkantho

শুক্রবার । ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৪ আগস্ট ২০২০ । ২৩ জিলহজ ১৪৪১

জাতীয় নিরাপত্তা আইনের জের

বিদেশি নাগরিকত্বের সুযোগ নেবে হংকংবাসী?

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৩ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিদেশি নাগরিকত্বের সুযোগ নেবে হংকংবাসী?

হংকংয়ে বিতর্কিত জাতীয় নিরাপত্তা আইন কার্যকর হওয়ার পর সেখানকার বাসিন্দাদের জন্য নাগরিকত্বের দুয়ার খুলে দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া ও ব্রিটেন, যদিও তা শর্ত সাপেক্ষে। যাদের জন্য সুযোগটা রয়েছে, তাদের সবাই তা লুফে নেবে কি না, সেটাও একটা প্রশ্ন। কারণ বিদেশবিভূঁইয়ে নতুন করে জীবন শুরুর ঝক্কির বিষয়টা তাদের পীড়িত করছে।

চীন সরকার আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সমালোচনা আর স্থানীয়দের বিক্ষোভ উপেক্ষা করে গত ১ জুলাই থেকে হংকংয়ে জাতীয় নিরাপত্তা আইন কার্যকর করে। ওই আইন অনুসারে, চীন সরকারের দৃষ্টিতে রাষ্ট্রবিরোধিতা, বিচ্ছিন্নতাবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও বিদেশিদের সঙ্গে আঁতাতে কেউ জড়িত থাকলে তাকে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হতে পারে।

হংকংয়ে ওই আইন কার্যকর হওয়ার পরপরই ব্রিটিশ সরকার জানায়, ব্রিটিশ ন্যাশনাল (ওভারসিজ) তথা বিএনও পাসপোর্টধারী হংকংবাসী, তাদের স্বামী বা স্ত্রী বা তাদের সঙ্গী এবং তাদের ১৮ বছরের কম বয়সী সন্তানরা ব্রিটেনে পাঁচ বছর বসবাস ও কাজ করার অনুমতি পাবে। একাধারে পাঁচ বছর বসবাসের পর তারা ব্রিটিশ নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবে। এই ঘোষণার আগ পর্যন্ত হংকংবাসীকে ব্রিটেনে থাকার জন্য ছয় মাস পর পর ভিসা নবায়ন করতে হতো।

বলা দরকার, হংকংয়ের ৭৫ লাখ বাসিন্দার মধ্যে বিএনও পাসপোর্টধারীর সংখ্যা বর্তমানে সাড়ে তিন লাখ এবং এই সুযোগের আওতায় আরো আছে ২৯ লাখ মানুষ, যারা ওই পাসপোর্ট নবায়ন করায়নি। এ ছাড়া হংকংয়ের নাগরিকদের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ব্রিটেন কিংবা আমেরিকার পাসপোর্ট আছে, এমন লোকের সংখ্যা প্রায় আট লাখ, যাদের অনেকে বর্তমানে বিদেশেই আছে।

এদিকে অস্ট্রেলিয়া সরকারও হংকংবাসীকে নাগরিকত্ব দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করেছে। গতকাল রবিবার দেশটির অভিবাসনবিষয়ক ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী অ্যালান টুডজ অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং করপোরেশন টেলিভিশনকে এ কথা জানান। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুসারে, বর্তমানে হংকংয়ের যে নাগরিকরা অস্ট্রেলিয়ায় রয়েছে, তাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তারা অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্বপ্রাপ্তির জন্য আবেদন করতে পারবে। অস্ট্রেলিয়ায় বর্তমানে হংকংয়ের প্রায় ১০ হাজার নাগরিক রয়েছে। আবেদন করলেই তারা অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব পাবে, তেমনটা নয়; রবং সে জন্য তাদের প্রয়োজনীয় সব পরীক্ষায় পাস করতে হবে বলে জানান মন্ত্রী টুডজ।

অস্ট্রেলিয়া ও ব্রিটেনে স্থায়ী হওয়ার সুযোগ যেসব হংকংবাসীর সামনে এসেছে, তা কাজে লাগানোর ব্যাপারে অনেকে বেশ দোলাচলে আছে। একদিকে নিজের মাটি, সংস্কৃতি, স্বজন ছেড়ে যাওয়ার বেদনা তাদের আবেগতাড়িত করছে। অন্যদিকে বিদেশে নতুন করে জীবন শুরু করতে গিয়ে কতখানি ছাড় দিতে হবে, সেই দুশ্চিন্তাও তাদের আছে।

হংকং ছেড়ে ১৯ বছর ব্রিটেনে থাকার পর সেখানকার নাগরিকত্ব পাওয়া আবি ইয়াওর বয়স এখন ৪০ বছর। পরদেশের জীবন সম্পর্কে অভিজ্ঞ আবি জানান, হংকংয়ের মধ্যবিত্ত শ্রেণি সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধির আর উন্নতির জন্য গোটা জীবন কষ্ট করে। এই ধরনের মানুষ ব্রিটেনে নতুন করে জীবন সাজাতে চাইলে তাদের হয়তো দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে শুরু করতে হবে। ফলে তারা ব্রিটিশ নাগরিকত্ব গ্রহণের সুযোগ আসলেই নেবে কি না, তা নিয়ে তিনি সন্দিহান।

বিএনও পাসপোর্টধারী মাইকেল ও সেরেনা দম্পতি তাঁদের মেয়েকে নিয়ে ব্রিটেনে স্থায়ী হতে চান। কিন্তু তাঁদের বড় ছেলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, মা-বাবা-বোন ব্রিটেনে গেলেও তিনি দাদা-দাদির সঙ্গে হংকংয়েই থাকবেন। কারণ এখানেই তাঁর জীবনগাঁথা বলে তাঁর বিশ্বাস।

দোলাচলে থাকা হেলেনের বিষয়টা আরো জটিল। ব্রিটিশ সরকার ১৯৯৭ সালের ১ জুলাই হংকংয়ের ভার চীন সরকারের কাছে ন্যস্ত করে। হেলেনের জন্ম তার আগে। তার মা-বাবা ওই ঘটনার আগেই মেয়ের জন্য বিএনও পাসপোর্ট করাননি। ফলে শর্তের বেড়জালে পড়ে হেলেন আর এখন বিএনও পাসপোর্টের সুযোগ নিতে পারছেন না। তিনি আসলেই হংকং ছাড়তে চান কি না, তা নিশ্চিত না হলেও বিএনও পাসপোর্ট না করানোর জন্য মা-বাবাকে দুষতে ছাড়েননি। সূত্র : এএফপি, বিবিসি, টাইমস অব ইন্ডিয়া।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা