kalerkantho

মঙ্গলবার  । ২০ শ্রাবণ ১৪২৭। ৪ আগস্ট  ২০২০। ১৩ জিলহজ ১৪৪১

ফের মসজিদ হলো ‘আয়া সোফিয়া’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১২ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ফের মসজিদ হলো ‘আয়া সোফিয়া’

তুরস্কের ঐতিহ্যবাহী ‘আয়া সোফিয়া’ জাদুঘরকে আবারও মসজিদ ঘোষণা করা হয়েছে। গত শুক্রবার স্থাপনাটির জাদুঘরের মর্যাদা বাতিল করে রায় দেন আদালত। এরপর প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান প্রায় দেড় হাজার বছরের পুরনো ওই স্থাপনাকে নামাজের জন্য উন্মুক্ত ঘোষণা করেন। তবে এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন।

ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় নাম রয়েছে আয়া সোফিয়ার। এটি নির্মিত হয় আনুমানিক ষষ্ঠ শতকে; বাইজেন্টাইন সম্রাট জাস্টিনিয়ানের আমলে। প্রথমে এটি ছিল খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অর্থোডক্স গির্জা। কিন্তু ১৪৫৩ সালে ওসমানিয়া সাম্রাজের বিজয়ের পর গির্জাটিকে মসজিদ ঘোষণা করা হয়। তখন মসজিদটি হয়ে ওঠে ওসমানিয়া সাম্রাজ্যের মূল কেন্দ্রবিন্দু। এরপর প্রায় ৫০০ বছর মসজিদ হিসেবেই ব্যবহার হয় স্থাপনাটি। কিন্তু ১৯৩৪ সালে এটাকে জাদুঘরে পরিণত করেন তুরস্কের প্রথম প্রেসিডেন্ট মুস্তফা কামাল আতাতুর্ক। আয়া সোফিয়া বর্তমানে তুরস্কের সবচেয়ে দর্শনীয় স্থাপনা। প্রতিবছর প্রায় ৩৭ লাখ পর্যটক এটি দেখতে যায়। গত শুক্রবার স্থাপনাটির জাদুঘরের মর্যাদা বাতিল করে রায় দেন তুরস্কের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক আদালত। রায়ে বলা হয়, ‘তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে স্থাপনাটি মসজিদ হিসেবেই বরাদ্দ করা। ফলে মসজিদ ছাড়া অন্য স্থাপনা হিসেবে এর ব্যবহার আইনসিদ্ধ নয়।’

গত বছর এক নির্বাচনী সমাবেশে আয়া সোফিয়াকে আবারও মসজিদ হিসেবে ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান। শুক্রবার আদালতের রায়ের পরই এক নির্বাহী আদেশে সই করেন তিনি। ওই আদেশে বলা হয়েছে, ‘আয়া সোফিয়াকে ধর্মবিষয়ক অধিদপ্তরের হাতে হস্তান্তর করা হবে এবং মুসল্লিদের নামাজ পড়ার জন্য এটি খুলে দিতে হবে।’ শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে এরদোয়ান জানান, তিনি আগামী ২৪ জুলাই আয়া সোফিয়া মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করবেন। সেই সঙ্গে বলেন, ‘মুসলিম-অমুসলিম সবার জন্য আয়া সোফিয়ার দরজা সব সময় উন্মুক্ত থাকবে।’

আয়া সোফিয়াকে মসজিদ ঘোষণা করায় পক্ষে-বিপক্ষে সমালোচনা চলছে। রাশিয়ার অর্থোডক্স চার্চ উদ্বেগ জানিয়ে বলেছে, এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে কোটি কোটি খ্রিস্টানের মতামতকে উপেক্ষা করা হয়েছে। ইউনেসকো বলেছে, ‘তুরস্ক কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই এবং কোনো কিছু না জানিয়েই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটা খুবই দুঃখজনক। আমরা আহ্বান জানাব, তুরস্ক যাতে আদালতের রায় বাস্তবায়নে আরো সময় নেয় এবং বিষয়টি নিয়ে সবার সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করে।’ তুরস্কের এই সিদ্ধান্তকে দুঃখজনক বলে অভিহিত করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নও। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘তুরস্কের এই সিদ্ধান্তে আমরা হতাশ হয়েছি।’ সূত্র : আলজাজিরা।

মন্তব্য