kalerkantho

মঙ্গলবার  । ২০ শ্রাবণ ১৪২৭। ৪ আগস্ট  ২০২০। ১৩ জিলহজ ১৪৪১

পুরনো বন্ধুর কারাদণ্ডাদেশ মওকুফ করলেন ট্রাম্প

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১২ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পুরনো বন্ধুর কারাদণ্ডাদেশ মওকুফ করলেন ট্রাম্প

পুরনো বিশ্বস্ত বন্ধু এবং সাবেক উপদেষ্টা রজার স্টোনের কারাদণ্ড মাফ করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাহী ক্ষমতাবলে তিনি বন্ধুকে মাফ করার মাধ্যমে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে দুই ধরনের বিচারব্যবস্থা চালু করে দিয়েছেন—এমন অভিযোগ করেছেন ডেমোক্র্যাটরা।

স্টোন কংগ্রেসের কাছে মিথ্যা বিবৃতি দিয়েছেন, কংগ্রেসের কাজে বাধা দিয়েছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে সাক্ষ্যপ্রদান প্রক্রিয়ায় অবৈধ হস্তক্ষেপ করেছেন—এসব অভিযোগে তাঁকে ৪০ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। কারাদণ্ডের মেয়াদ শুরুর দিন পেছানোর জন্য তিনি আবেদন করলে গত শুক্রবার তা নাকচ করে দেন বিচারক।

আদালতের ওই রায়ের ভিত্তিতে আগামী মঙ্গলবার স্টোনকে জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের জেসাপে কেন্দ্রীয় কারাগারে হাজিরা দিতে হতো। তবে তাঁকে সে পথে যেতে হয়নি। গত শুক্রবার আদালত স্টোনের আবেদন নাকচ করে দেওয়ার পরপরই তাঁর কারাদণ্ডাদেশ মওকুফের ঘোষণা আসে হোয়াইট হাউস থেকে। ফলে স্টোনকে জেল খাটতে হবে না, তবে অভিযোগ থেকে তিনি রেহাই পাননি। অভিযোগ থেকে নিষ্কৃতি পেতে তিনি উচ্চ আদালতে আবেদন করবেন বলে জানিয়েছেন।

২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পশিবিরের সঙ্গে রাশিয়ার কর্মকর্তাদের আঁতাতের অভিযোগে যে তদন্ত হয়েছিল, তাতে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল স্টোনকে। বিচার বিভাগীয় তদন্তকালে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যাচার, বিচারকাজে বাধাদান ও সাক্ষ্যগ্রহণ ব্যাহত করার অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁর সাত থেকে ৯ বছরের কারাদণ্ডের সুপারিশ করা হয়। তবে অ্যাটর্নি জেনারেল উইলিয়াম বার মাত্র ৪০ মাসের কারাদণ্ড দেন স্টোনকে। সেই সাজাও গত শুক্রবার মাফ করে দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। স্টোনের আগে আরো পাঁচজনের সাজা মাফ করেছেন প্রেসিডেন্ট। তাঁদের বিরুদ্ধেও রুশ আঁতাতের অভিযোগ ছিল।

স্টোন জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট নিজে তাঁকে গত শুক্রবার ফোন করে জানিয়েছেন, তাঁর সাজা মওকুফ করা হয়েছে। এ সময় তাঁকে উচ্চ আদালতে আবেদন করার ব্যাপারে জোর দেন প্রেসিডেন্ট।

হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে এ ব্যাপারে বলা হয়, ‘রজার স্টোন রাশিয়াবিষয়ক ধাপ্পাবাজির শিকার।’ এতে আরো বলা হয়, ‘রজার স্টোন ইতিমধ্যে অনেক ভুগেছেন। তাঁর সঙ্গে খুব অন্যায় করা হয়েছে। এখন রজার স্টোন মুক্ত মানুষ।’

ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্ত প্রকাশ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সমালোচনা শুরু হয়। আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের ডেমোক্র্যাট প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেনের মুখপাত্র বিল রুসো বলেছেন, ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ‘আমাদের দেশের আদর্শ আর মূল্যবোধে কলঙ্ক লেপন করেছেন।’

মার্কিন কংগ্রেসের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের গোয়েন্দা কমিটির চেয়ারম্যন ডেমোক্র্যাট নেতা অ্যাডাম শিফ বলেছেন, ‘সাজা মওকুফ করে দিয়ে ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে আমেরিকায় দুটো বিচারব্যবস্থা বিদ্যমান—একটা হলো তাঁর অপরাধী বন্ধুদের জন্য, আরেকটা হলো বাকি সবার জন্য।’

সত্তরের দশক থেকে রিপাবলিকানদের সঙ্গে কাজ করছেন স্টোন। নব্বইয়ের দশকে তিনি ট্রাম্পের ক্যাসিনো ব্যবসার লবিস্ট হিসেবে কাজ করেছেন। ট্রাম্পের ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী তৎপরতায় ছিল তাঁর অংশগ্রহণ। এমনকি ট্রাম্পকে আবার নির্বাচন করার উৎসাহ তিনিই দিয়েছেন। সূত্র : আলজাজিরা, বিবিসি।

মন্তব্য