kalerkantho

শুক্রবার । ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৪ আগস্ট ২০২০ । ২৩ জিলহজ ১৪৪১

‘যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় হুমকি চীন’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৯ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



‘যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় হুমকি চীন’

চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের টানাপড়েন নতুন কিছু নয়। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যকার উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। গত দুই দিনে বিষয়টি আরো স্পষ্ট হলো। প্রথম তীরটি অবশ্য এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে। দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরোর (এফবিআই) পরিচালক গত মঙ্গলবার বলেন, ‘চীন সরকারের গোয়েন্দাগিরি ও চৌর্যবৃত্তি যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যতের জন্য দীর্ঘ মেয়াদে সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে আবির্ভূত হতে যাচ্ছে।’ একই দিন ওয়াশিংটন ‘তিব্বত ইস্যু’ নিয়ে মতবিরোধের জের ধরে বেইজিং সরকারের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

পাল্টা ব্যবস্থা নিতেও দেরি করেনি বেইজিং। পরদিনই তারা চীনের জন্য তিব্বতসংক্রান্ত বিষয়ে ‘বাজে আচরণের’ অভিযোগ এনে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একই ব্যবস্থা নেয়। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের পছন্দের আরেকটি বিষয়েও হাতুড়ির বাড়ি দেয় বেইজিং। রাশিয়ার সঙ্গে পরমাণু অস্ত্র ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা চলছিল বেশ কিছুদিন থেকেই। ট্রাম্পের একান্ত খায়েশ ছিল, এই আলোচনায় বেইজিংকে অন্তর্ভুক্ত করার। সেই খায়েশ মেটাতেই আপাতত আলোচনা থেমে রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে গতকাল বুধবার চীনের এক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক বলেন, ‘পরমাণু আলোচনায় তৃতীয় পক্ষ হিসেবে চীনের অন্তর্ভুক্তি ধাপ্পাবাজি ছাড়া আর কিছুই নয়।’ ট্রাম্পের পছন্দের এ শব্দটি (ধাপ্পাবাজি) ব্যবহার করে তিনি আরো বলেন, ‘আলোচনায় চীনের আপত্তি নেই। তবে শর্ত আছে। যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়াকে তাদের পরমাণু অস্ত্রের সংখ্যা চীনের পর্যায়ে নামিয়ে আনতে হবে।’ প্রসঙ্গত, চীনের পরমাণু অস্ত্রের সংখ্যা ৩২০টি। যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার ভাঁড়ারে রয়েছে অন্তত পাঁচ হাজার করে পরমাণু অস্ত্র।

এমন একটা উত্তেজক পরিস্থিতির মধ্যে গত মঙ্গলবার ওয়াশিংটনের হাডসন ইনস্টিটিউটে দেওয়া বক্তব্যে এফবিআই পরিচালক ক্রিস্টোফার রে বলেন, চীন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য দীর্ঘ মেয়াদে সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে আবির্ভূত হতে যাচ্ছে। এক ঘণ্টা ধরে দেওয়া ওই বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, ‘বেইজিং এখন বিদেশে বসবাসরত চীনা নাগরিকদের দিকে নজর দিয়েছে, তাদেরকে জোর করে দেশে ফেরাতে চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের করোনাভাইরাসসংক্রান্ত গবেষণায় বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে তারা। যেকোনো উপায়ে বিশ্বের একমাত্র পরাশক্তি হতে চীন তার পুরো শক্তিকে কাজে লাগাচ্ছে।’ বক্তব্যে রে বিভিন্ন বিষয়ে চীনের হস্তক্ষেপ, তাদের বিস্তৃত অর্থনৈতিক গুপ্তচরবৃত্তি, তথ্য ও অর্থ চুরি, বেআইনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং ঘুষ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে মার্কিন নীতিতে প্রভাব বিস্তারের নানা অভিযোগ হাজির করেন।

একই দিন তিব্বতে মার্কিন নাগরিকদের প্রবেশে চীন কড়াকড়ি আরোপ করেছে বলে অভিযোগ করে বেইজিংয়ের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ভিসা দেওয়া হবে না বলে ঘোষণা দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। তবে কতজন কর্মকর্তা এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়লেন বা তাঁদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। একই সঙ্গে পম্পেও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী অধ্যুষিত তিব্বতে ‘অর্থপূর্ণ স্বায়ত্তশাসন’ প্রদানের জন্যও বেইজিংয়ের প্রতি আহ্বান জানান। তিব্বতের নির্বাসিত আধ্যাত্মিক ধর্মীয় গুরু দালাই লামার জন্মদিনের এক দিন পর এ সিদ্ধান্তের কথা জানাল যুক্তরাষ্ট্র।

তবে অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এই নাক গলানোকে বরাবরের মতোই খুব একটা ভালোভাবে নেয়নি বেইজিং। ফলে পাল্টা ব্যবস্থা নিতেও দেরি হয়নি তাদের। গতকাল চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান বলেন, ‘তিব্বতসংক্রান্ত চীনের অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ বন্ধ করা উচিত। যুক্তরাষ্ট্রের ভুল পদক্ষেপের জবাবে তিব্বতসংক্রান্ত ইস্যুতে যেসব মার্কিন কর্মকর্তা বাজে আচরণ করছেন তাঁদের ভিসা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চীন।’ এ ক্ষেত্রেও মার্কিন কর্মকর্তাদের পরিচয় এবং সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি চাওয়াও গতকাল প্রত্যাখ্যান করেছে চীন। বেইজিং জানিয়েছে, রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু আলোচনায় তারা যোগ দিচ্ছে না। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের প্রধান ফু কং বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র তাদের পরমাণু অস্ত্রের সংখ্যা চীনের পর্যায়ে নামিয়ে আনলে পরদিনই আমরা খুশি মনে বৈঠকে যোগ দেব। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, তেমন কোনো ঘটনা ঘটবে না।’ সূত্র : বিবিসি, এএফপি, সিএনএন।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা