kalerkantho

শনিবার । ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭। ৮ আগস্ট  ২০২০। ১৭ জিলহজ ১৪৪১

বিশ্বে এক দিনে সর্বোচ্চ শনাক্ত

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৬ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিশ্বে এক দিনে সর্বোচ্চ শনাক্ত

বিশ্বে করোনাভাইরাসে দৈনিক আক্রান্তের যে রেকর্ড, তা ভাঙা-গড়া অব্যাহত আছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) হিসাব অনুযায়ী, গত শনিবার বিশ্বের প্রায় দুই লাখ ১২ হাজার মানুষের মধ্যে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়, যা এক দিনে সর্বোচ্চ। একই দিন সর্বোচ্চ রোগী শনাক্ত হয় পাশের দেশ ভারতেও। এদিকে করোনা চিকিৎসায় হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইনের ব্যবহার নিয়ে আরেকবার সিদ্ধান্ত পাল্টিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এবার তারা বলছে, ওষুধটি করোনা চিকিৎসায় ব্যবহার করা যাবে না।

গতকাল পর্যন্ত বিশ্বের দুই শতাধিক দেশ ও অঞ্চলে শনাক্ত করোনা রোগীর সংখ্যা ছাড়িয়েছে এক কোটি ১৪ লাখ। মৃতের সংখ্যা পাঁচ লাখ ৩৪ হাজারের বেশি।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের ছয় মাস পেরিয়ে গেছে। দৈনিক মৃত্যুহার কমলেও শনাক্তের হার এখনো বাড়ছে। কয়েক দিন ধরেই দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা উঠানামা করছে দুই লাখ ১০ হাজার থেকে এক লাখ ৯০ হাজারের মধ্যে। এর মধ্যে গত শনিবার বিশ্বে এক দিনে সর্বোচ্চ রোগী শনাক্ত হয়; প্রায় দুই লাখ ১২ হাজার। যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলেই শনাক্ত হয় প্রায় এক লাখ ৩০ হাজার মানুষ।

এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে করোনা রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে দ্রুত বাড়ছে ভারতে। দেশটিতে পাঁচ দিন ধরে দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যায় টানা রেকর্ড হয়েছে। গত বুধবার দেশটিতে দৈনিক শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ১৮ হাজার ২৫৬ জন। পরের দিন বেড়ে দাঁড়ায় ১৯ হাজার ৪২৮ জনে। সর্বশেষ গত শনিবার শনাক্ত হয় ২৪ হাজার ১৫ জন, যা এক দিনে সর্বোচ্চ। প্রায় দুই সপ্তাহের মধ্যে শনিবার ভারতে মৃত্যুও ছিল সর্বোচ্চ; ৬১০ জন। এ নিয়ে ভারতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ১৯ হাজার ৩০৩ জনে। শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছয় লাখ ৭৫ হাজারের বেশি।

করোনা চিকিৎসায় ম্যালেরিয়ার ওষুধ হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন ব্যবহার করা যাবে কি না—সেই সিদ্ধান্ত আরেকবার পাল্টিয়েছে ডাব্লিউএইচও। জাতিসংঘের এ সংস্থাটি এবার হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইনের পাশাপাশি এইচআইভির ওষুধ লোপিনাভির কিংবা রিটোনাভির পরীক্ষামূলক ব্যবহার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত শনিবার এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইনের ব্যবহার করোনা রোগীর মৃত্যুর ঝুঁকি কমায়—এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এর আগে মে মাসের শেষ দিকে হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন ব্যবহারের অনুমোদন বন্ধ করে দেয় ডাব্লিউএইচও। এর প্রায় এক সপ্তাহ পরে জানায়, করোনা চিকিৎসায় ওষুধটি ব্যবহার করা যাবে। এখন এসে আবার বলছে করা যাবে না।

সার্বিক পরিস্থিতি

বৈশ্বিক পরিসংখ্যানভিত্তিক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারের হিসাব অনুযায়ী, গতকাল বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টায় বিশ্বের ২১৩টি দেশ ও অঞ্চলে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল এক কোটি ১৪ লাখ ১০ হাজার ৪৪৭ জন। মারা গেছে অন্তত পাঁচ লাখ ৩৪ হাজার মানুষ। সেরে উঠেছে ৬৪ লাখ ৫৮ হাজার ৯০৯ জন। চিকিৎসাধীন আছে ৪৪ লাখ ১৭ হাজার ৩৭৪ জন। তাদের মধ্যে মৃদু উপসর্গ রয়েছে ৪৩ লাখ ৫৮ হাজার ৮৬৩ জনের (৯৯ শতাংশ)। বাকি ৫৮ হাজার ৫১১ জনের (১ শতাংশ) অবস্থা আশঙ্কাজনক। এ ছাড়া বিশ্বের প্রতি ১০ লাখ মানুষের মধ্যে করোনা শনাক্ত হয়েছে এক হাজার ৪৬৪ জনের শরীরে। বৈশ্বিক মৃত্যুর হার ৪.৬৮ শতাংশ। সূত্র : আলজাজিরা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা