kalerkantho

শনিবার । ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭। ৮ আগস্ট  ২০২০। ১৭ জিলহজ ১৪৪১

ট্রাম্পের ‘ব্যর্থতায়’ পাল্টাচ্ছে বিশ্বব্যবস্থা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৬ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ট্রাম্পের ‘ব্যর্থতায়’ পাল্টাচ্ছে বিশ্বব্যবস্থা

যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বমোড়লের আসন টলে গিয়েছিল আরো আগেই। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে সেই ব্যর্থতা যেন আরো স্পষ্ট হলো। গত এক সপ্তাহ ধরেই বিশ্ব চীন ও রাশিয়ার আচরণের পরিবর্তন প্রত্যক্ষ করছে। একই সঙ্গে দেখছে দেশ দুটির প্রভাব বৃদ্ধিতে যুক্তরাষ্ট্রের স্থবির প্রতিক্রিয়াও। আজীবন প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজের অবস্থান সুনিশ্চিত করেছেন রাশিয়ার ভ্লাদিমির পুতিন। বিষয়টি নিয়ে একেবারেই প্রতিক্রিয়াহীন ট্রাম্প ও তাঁর যুক্তরাষ্ট্র। ওদিকে হংকংয়ের ওপর নিজেদের অধিকার পোক্ত করতে নতুন আইন পাস করে তার প্রয়োগও শুরু করে দিয়েছে চীন। সেখানেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া খুব জোরালো নয়।

বিশ্বের বহু বিষয়েই ট্রাম্পের অবস্থান অনিশ্চিত এবং প্রতিক্রিয়াহীন। ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়ার ওপর নজর রেখেই সম্ভবত চীন ও রাশিয়া বিশ্বব্যবস্থায় নতুন করে তাদের গুটি সাজিয়ে নিচ্ছে। একই সঙ্গে জোরালো হচ্ছে তাদের অবস্থানও। বিষয়টি এমন নয় যে যৌথভাবে এগোচ্ছে দেশ দুটি। বরং ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়াহীনতা ও ব্যর্থতার সুযোগ নিয়ে আলাদাভাবেই যে যার মতো করে এগোচ্ছে তারা। বলা বাহুল্য, সাফল্যও আসছে; যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোনোভাবেই ইতিবাচক নয়। ট্রাম্পের পক্ষে তো নয়-ই। এসব ব্যর্থতার প্রভাব সরাসরি সামনের নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ওপর পড়বে। সিএনএন তাদের এক বিশ্লেষণে দাবি করছে, ট্রাম্পের এক মেয়াদের প্রেসিডেন্ট হওয়া নিশ্চিত প্রায়।

ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলেও রাশিয়ায় নিজের অবস্থান কিন্তু ঠিকই পোক্ত করে নিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত সংবিধান সংশোধনীর এক গণভোটে এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে একতরফা রায় পেয়ে গেছেন তিনি। সংশোধনীতে জনকল্যাণমূলক এত ধরনের পদক্ষেপ রাখা হয় যে সাধারণ ভোটার বা পেনশনভোগকারীরা পুতিন প্রশ্নে বিরোধিতার কথা চিন্তাতেই আনেননি।

পুতিনের এ সাফল্য নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন প্রতিক্রিয়াহীন। সাত দিনের ওই গণভোট চলাকালেই খবর প্রকাশ পায়, মার্কিন সেনাদের হত্যার জন্য তালেবান যোদ্ধাদের অর্থ পুরস্কার দিয়েছে রাশিয়া। এমন অসম্মানজনক খবরেও ট্রাম্প প্রশাসনের তরফ থেকে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া আসেনি। বরং রাশিয়া এবং তালেবান এ খবর অস্বীকার করার পর যেন হাপ ছেড়ে বেঁচেছেন ট্রাম্প। বিষয়টি ওই খানেই ধামাচাপা পড়ে গেছে। ফলে আরেকটু সাহসী হয়ে উঠেছে রাশিয়া।

অন্যদিকে চীনের অগ্রগতিও কম নয়। হংকংয়ের জন্য নিপীড়নমূলক একটি আইন পাস করে তা কার্যকর করে ফেলেছে তারা। এই আইনে বাক্স্বাধীনতা থেকে শুরু করে ঝুঁকির মুখে পড়বে স্বাভাবিক নাগরিক স্বাধীনতাও। এ ব্যাপারে হংকংয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। ক্ষোভ প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া। মজার বিষয় হচ্ছে, দীর্ঘদিন থেকে চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের মন কষাকষি চললে হংকং নিয়ে বড় কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি ট্রাম্প প্রশাসন। দায়সারা গোছের একটি বিবৃতি দিয়ে এই আইনের নিন্দা করেই হাত ধুয়ে ফেলেছে তারা। যদিও অন্য দেশের ক্ষেত্রে পান থেকে চুন খসলেই নিষেধাজ্ঞাসহ নানা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয় যুক্তরাষ্ট্র। সূত্র : সিএনএন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা