kalerkantho

সোমবার  । ১৯ শ্রাবণ ১৪২৭। ৩ আগস্ট  ২০২০। ১২ জিলহজ ১৪৪১

হংকংয়ে ঢোকামাত্র গ্রেপ্তার হবেন চীনের সমালোচকরা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৫ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



হংকংয়ে কার্যকর হওয়া জাতীয় নিরাপত্তার আইনের পুরোটাই গণতন্ত্রকামীদের জন্য আতঙ্কের। তবে ওই আইনের একটি বিশেষ অংশ আলাদা ভীতির জন্ম দিয়েছে। কারণ তা চীনের সমালোচনাকারী বিদেশিদের জন্যও হুমকি।

বিতর্কিত জাতীয় নিরাপত্তা আইন গত ১ জুলাই থেকে হংকংয়ে কার্যকর করা হয়েছে। হংকংয়ে সরকারবিরোধী যেকোনো তৎপরতা ওই আইনে অবৈধ গণ্য হবে। এ আইন যে শুধু চীনা নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য, তা নয়। আইনের ৩৮ ধারায় বলা হয়েছে, এখন থেকে চীনের সমালোচনাকারী বিশ্বের যেকোনো দেশের নাগরিক হংকংয়ে ঢোকামাত্র গ্রেপ্তারের মুখে পড়বে। ওই ব্যক্তি যদি আন্তর্জাতিক ভ্রমণকালে রুট হিসেবে হংকংয়ের বিমানবন্দর ব্যবহার করে, তখনও তাকে গ্রেপ্তারের শিকার হতে হবে।

চীনের ভিন্ন মতাবলম্বী ব্যক্তি, পশ্চিমা পণ্ডিত এবং চীনবিরোধী বিভিন্ন সংস্থার ব্যক্তিরা পরস্পরের সঙ্গে মিলিত হওয়ার জন্য হংকংকে নিরাপদ স্থান হিসেবে বেছে নিতেন। জাতীয় নিরাপত্তা আইন কার্যকর হওয়ার পর সেখানে এমন সম্মিলন আর সম্ভব হবে কি না, তা পরিষ্কার নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সেটন হল ইউনিভার্সিটিতে কর্মরত সমসাময়িক চীনা আইন বিশেষজ্ঞ ম্যাগি লুইস জানান, এখন থেকে হংকং ভ্রমণের আগে তিনি অবশ্যই ঝুঁকির বিষয়টি মাথায় রাখবেন।

জাতীয় নিরাপত্তা আইনের ভয়ে হংকংবাসী কিন্তু একেবারে মিইয়ে যায়নি। এখনো রাজপথে সরব তারা। যারা সরাসরি রাস্তায় নামছে না, তারা বেছে নিচ্ছে ক্ষোভ প্রকাশের অভিনব উপায়। আইনের বেড়াজাল এড়াতে তারা গ্রাফিতি ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ভাষায় আনছে সৃষ্টিশীল পরিবর্তন।

এই যেমন, হংকংয়ের গণতন্ত্রকামীদের প্রতি আন্দোলনে সক্রিয় থাকার আহ্বান জানিয়ে শহরের এক সেতুতে লেখা হয়েছে, ‘জাগো, যারা দাসত্বকে অস্বীকার করেছ।’ গণতন্ত্রকামীদের সাধারণ আহ্বান নয় এটি, খোদ চীনের জাতীয় সংগীতের প্রথম বাক্য।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট’ স্লোগানের অনুকরণে হংকংবাসী এখন স্লোগান দিচ্ছে ‘মেক হংকং গ্রেট’। আপাতদৃষ্টিতে স্লোগানটিকে নির্দোষ মনে হলেও চীন সরকারের কাছে বার্তাটা স্পষ্ট। এ রকম আরো নানা বাক্য, স্লোগান আর সাংকেতিক শব্দ ব্যবহার করে চলেছে হংকংয়ের আন্দোলনকারীরা।

এদিকে আন্দোলন স্তিমিত করতে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি আরো নানা পদ্ধতি অবলম্বন করছে চীন সরকার। সূত্র : এএফপি, সিএনএন।

মন্তব্য