kalerkantho

শনিবার । ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭। ৮ আগস্ট  ২০২০। ১৭ জিলহজ ১৪৪১

ডাব্লিউএইচও এখন বলছে

করোনার বিষয়ে চীন প্রথমে কিছু জানায়নি

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৫ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনার বিষয়ে চীন প্রথমে কিছু জানায়নি

করোনাভাইরাস সংক্রমণের বিষয়ে বেইজিং নয়, বরং নিজেদের দপ্তরের মাধ্যমেই প্রথম এ সম্পর্কিত তথ্যপ্রাপ্তির কথা দাবি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও)। সংস্থাটি বলছে, চীনা প্রশাসন নিজে থেকে আমাদের কিছু জানায়নি। চীনে অবস্থিত ডাব্লিউএইচওর দপ্তর থেকে আমরা প্রথম উহানের নিউমোনিয়া সম্পর্কে জেনেছিলাম।

জতিসংঘের এই স্বাস্থ্য সংস্থার বিরুদ্ধে মহামারি রোধে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদানে ব্যর্থতা এবং চীনের সঙ্গে আঁতাত আছে—মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই অভিযোগ নাকচ করেছে ডাব্লিউএইচও। মহামারির শুরুতে সতর্কতা জারি না করার কারণে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে সংস্থাটি। এরপর ৯ এপ্রিল তারা সংক্রমণের প্রাথমিক টাইমলাইন প্রকাশ করে। তাতে দেখা যায়, ৩১ ডিসেম্বরের রিপোর্টে বলা হয়, হুবেই প্রদেশের উহান মিউনিসিপাল হেলথ কমিশন নিউমোনিয়া আক্রান্তের কথা জানিয়েছে। তবে জতিসংঘের এই স্বাস্থ্য সংস্থা বিষয়টি সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কিছু জানায়নি এবং কার মাধ্যমে খবরটি এসেছে, তা জানানো হয়নি।

ডাব্লিউএইচওপ্রধান টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস ২০ এপ্রিল এক সংবাদ সম্মেলনে চীন থেকে আসা প্রথম রিপোর্টের কথা জানান। তবে এই রিপোর্ট চীনা কর্তৃপক্ষ অথবা অন্য কোনো সূত্র পাঠিয়েছে কি না, তা খোলাসা করা হয়নি। জেনেভাভিত্তিক এই সংস্থা চলতি সপ্তাহে করোনা মহামারিসংক্রান্ত তাদের রিপোর্টের বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশ করেছে। সংস্থার এই বিবরণে বলা হয়, উহান হেলথ কমিশনের ওয়েবসাইটের বরাতে মিডিয়ায় ‘ভাইরাল নিউমোনিয়ার’ খবর খবর প্রকাশের পরে ৩১ ডিসেম্বর চীনে ডাব্লিউএইচও অফিস এ বিষয় রিপোর্ট করে। একই দিন ডাব্লিউএইচওর মহামারি বিভাগ যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে উহানে অজানা কারণে নিউমোনিয়া সংক্রমণের খবর জানতে পারে। পরে ১ ও ২ জানুয়ারি বিষয়টি সম্পর্কে হু চীনের কাছে জানতে চাইলে ৩ জানুয়ারি তারা এ বিষয়ে তথ্য সরবরাহ করে।

ডাব্লিউএইচওর জরুরি বিভাগের পরিচালক মাইকেল রায়ান গত শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, একটি ঘটনা যাচাই করতে এবং এ সম্পর্কিত তথ্য ডাব্লিউএইচওর কাছে পাঠাতে দেশগুলোর জন্য ২৪-৪৮ ঘণ্টা সময় থাকে। উহানের বিষয়টি সংস্থার পক্ষে যাচাই করতে বলা হলে চীন তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়।

চীনে যাচ্ছে ডাব্লিউএইচওর দল : করোনাভাইরাসের উৎস সন্ধানে আগামী সপ্তাহে চীনে ডাব্লিউএইচওর একটি দল। সংস্থার প্রধান গবেষক ড. সৌম্যা স্বামীনাথন জানিয়েছেন, করোনাভাইরাসের উৎস খুঁজে বের করতে ‘বিস্তারিত তদন্তের’ প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘তদন্তের স্বার্থে আমাদের ডিসেম্বর মাসে ফিরে যেতে হবে। আমাদের খুঁজে বের করতে হবে কিভাবে ও কখন প্রাণীর শরীর থেকে মানুষের শরীরে প্রবশ করে ভাইরাসটি।’

বিশ্ব পরিস্থিতি : বৈশ্বিক পরিসংখ্যানভিত্তিক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারের উপাত্ত বলছে, গতকাল রাত ৯টা পর্যন্ত সাড়ে এক কোটি সাড়ে ১২ লাখ মানুষের শরীরে করোনা ধরা পড়েছে। এর মধ্যে ৬৪ লাখ রোগী সুস্থ হওয়ার পাশাপাশি প্রাণ হারিয়েছে পাঁচ লাখ ৩০ হাজার। বৈশ্বিক গড় মৃত্যুহার ৭.৭৫ শতাংশ। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা সাড়ে ৪৩ লাখ।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, বর্তমানের করোনাভাইরাসটি আসল ভাইরাসটির চেয়ে বেশি সংক্রামক। সূত্র : এএফপি, ওয়ার্ল্ডোমিটার।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা