kalerkantho

সোমবার । ২৬ শ্রাবণ ১৪২৭। ১০ আগস্ট ২০২০ । ১৯ জিলহজ ১৪৪১

বতসোয়ানায় কয়েক শ হাতির রহস্যজনক মৃত্যু

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৪ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বতসোয়ানায় গত দুই মাসে কয়েক শ হাতির রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। হাতির মৃত্যুর এই ‘অভূতপূর্ব’ ঘটনার কারণ সম্পর্কে এখন পর্যন্ত পরিষ্কার করে কিছুই জানা যায়নি। আফ্রিকায় অবস্থানরত সহকর্মীদের বরাত দিয়ে যুক্তরাজ্যভিত্তিক দাতব্য প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল পার্ক রেসকিউর কর্মকর্তা ড. নিয়াল ম্যাককান জানান, মে মাসের শুরু থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার দেশটির ওকাভাঙ্গো বদ্বীপে ৩৫০টির বেশি হাতির মরদেহ দেখা গেছে।

হাতিগুলো কেন মারা যাচ্ছে, সে সম্পর্কে কেউ কোনো ধারণা দিতে পারছে না। দেশটির সরকার বলছে, প্রাণীগুলোর মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধান করতে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা চলছে। রিপোর্ট আরো সপ্তাহখানেক পরে পাওয়া যাবে।

আফ্রিকার মোট হাতির এক-তৃতীয়াংশ রয়েছে বতসোয়ানায়। নিয়াল ম্যাককান সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে জানান, স্থানীয় পরিবেশ সংরক্ষণবাদীরা মে মাসের শুরুর দিকে বদ্বীপের ওপর দিয়ে বিমান ভ্রমণ করার সময় কিছু হাতির মরদেহ চোখে পড়লে বসতোয়ানার সরকারকে বিষয়টি জানান। তিনি বলেন, ‘তাঁরা ওই অঞ্চলের ওপর দিয়ে তিন ঘণ্টার একটি ফ্লাইটে যাওয়ার সময় ১৬৯টি হাতির মরদেহ দেখেন। তিন ঘণ্টার ফ্লাইটে ও পরিমাণ হাতির মরদেহ দেখতে পাওয়া খুবই অস্বাভাবিক। ওই ঘটনার এক মাস পর আরো তদন্ত করে তাঁরা আরো অনেক মরদেহ দেখতে পান। মোট সংখ্যাটি ৩৫০-এর ওপর।’

ম্যাককান বলেন, ‘যেই বিপুলসংখ্যক হাতি মারা গেছে, তা একেবারেই অভূতপূর্ব। খরা বাদে কোনো একটি একক কারণে এত বিপুল পরিমাণ প্রাণী মারা যাওয়ার ঘটনা দেখা যায় না।’

বিজ্ঞানবিষয়ক পত্রিকা ফিসের খবর অনুযায়ী, এই হাতিগুলোর মৃত্যুর পেছনে চোরাশিকারিদের হাত থাকার সম্ভাবনা আগেই নাকচ করে দিয়েছে বতসোয়ানার সরকার। কারণ হাতিগুলোর দাঁত কেটে নেওয়া হয়নি।

ড. ম্যাককান বলেন, ‘সেখানে শুধু হাতিই মারা যাচ্ছে, অন্য কোনো প্রাণী নয়। যদি চোরাশিকারিদের দেওয়া সায়ানাইডে হাতিগুলো মারা যেত, তাহলে হাতি বাদে অন্য আরো পশুও মারা যেত।’

স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় অ্যানথ্রাক্স বিষক্রিয়ার সম্ভাবনাও নাকচ করে দিয়েছেন ড. ম্যাককান। গত বছর অ্যানথ্রাক্স বিষক্রিয়ায় বতসোয়ানায় ১০০-এর বেশি হাতি মারা গিয়েছিল।

তবে বিষক্রিয়া বা কোনো রোগের উপস্থিতির সম্ভাবনা একেবারে বাতিল করে দিতে পারছেন না তাঁরা।

ড. ম্যাককানের মতে, যেভাবে প্রাণীগুলো মারা যাচ্ছে, তা অনেক হাতিকেই মুখ থুবড়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে এবং অন্য হাতিগুলোকে চক্রাকারে ঘুরতে দেখা যাচ্ছে, তাদের স্নায়ুবিক প্রক্রিয়া কোনো ধরনের আক্রমণের শিকার হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সূত্র : বিবিসি।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা