kalerkantho

শুক্রবার । ২৩ শ্রাবণ ১৪২৭। ৭ আগস্ট  ২০২০। ১৬ জিলহজ ১৪৪১

হংকংয়ে নাক গলাবেন না : চীন

কার্যকরের প্রথম দিনই জাতীয় নিরাপত্তা আইনবলে সাতজন গ্রেপ্তার

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হংকংয়ে নাক গলাবেন না : চীন

বিক্ষোভ : হংকংয়ে গতকাল বিক্ষোভ চলাকালে এভাবেই এক তরুণকে আটক করে মাটিতে শুইয়ে রাখে দাঙ্গা পুলিশ। ছবি : রয়টার্স

হংকংয়ে বিতর্কিত জাতীয় নিরাপত্তা আইন কার্যকর হওয়ার প্রথম দিনই এ আইনের আওতায় সাতজন গ্রেপ্তার হয়েছে। হংকংয়ে ব্রিটিশ শাসন অবসানের ২৩ বছর পূর্তি উপলক্ষে যারা গতকাল বুধবার রাস্তায় নেমেছিল, তাদের মধ্য থেকে ওই গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটে।

জাতীয় নিরাপত্তা আইনের কারণে হংকংয়ে স্বায়ত্তশাসন বলতে আর কিছু থাকবে কি না, সেই সমালোচনা শুরু হয়ে গেছে আগেই। গতকাল ওই আইনের অধীনে গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটায় সমালোচনা আরো বেড়েছে।

হংকংয়ে জাতীয় নিরাপত্তা আইন কার্যকর হওয়া নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সমালোচনার প্রতিক্রিয়ায় চীনের হংকং ও ম্যাকাউ বিষয়ক দপ্তরের কর্মকর্তা ঝাং জিয়ামিং গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘বিষয়টা নিয়ে আপনাদের এত মাথাব্যথার কারণ কী? এটা নিয়ে আপনাদের মাথা ঘামানোর দরকার নেই।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমরা যদি এক দেশ এক ব্যবস্থা চাইতাম, সেটাও খুব স্বাভাবিক হতো।’

চীনের পার্লামেন্টে গত মঙ্গলবার পাস হয় জাতীয় নিরাপত্তা আইন এবং গতকাল থেকেই তা হংকংয়ে কার্যকর হয়। এমন একটি দিনে আইনটি কার্যকর হলো, যেদিন হংকংয়ে ব্রিটিশ শাসন অবসানের ২৩ বছর পূর্ণ হলো। দিনটি উদ্‌যাপনে গতকাল হংকংয়ে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নামে। করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধের লক্ষ্যে ৫০ জনের বেশি জড়ো না হওয়ার যে বাধ্যবাধকতা চীন সরকার আরোপ করেছে, তা উপেক্ষা করে গতকাল হংকংবাসী রাজপথে নামে।

এদিন পুলিশ কমপক্ষে ১৮০ জনকে গ্রেপ্তার করে। এর মধ্যে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয় জাতীয় নিরাপত্তা আইন ভাঙার অভিযোগে। ধরপাকড় চালানোর সময় এক পুলিশ ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পুলিশের তৎপরতা শুধু ধরপাকড়ে সীমাবদ্ধ ছিল না। গণতন্ত্রপন্থী জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ এদিন জলকামান, কাঁদানে গ্যাস ও পিপার স্প্রে ব্যবহার করে।

বিশ্বাঙ্গনে প্রতিক্রিয়া : ১৯৯৭ সালের ১ জুলাই ব্রিটিশ সরকার হংকংয়ের নিয়ন্ত্রণ চীন সরকারের কাছে হস্তান্তর করে। ওই সময়ের চুক্তি অনুসারে ‘এক দেশ দুই ব্যবস্থা’ শীর্ষক নীতির ভিত্তিতে কমপক্ষে ৫০ বছরের জন্য হংকংয়ের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয় এবং বলা হয়, হংকংয়ে চীন সরকারের শাসন প্রযোজ্য হবে না। অথচ মাত্র ২৩ বছরের মাথায় জাতীয় নিরাপত্তার নামে স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলটিতে নতুন আইন চাপিয়ে দিয়েছে চীন সরকার।

এ প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেন, ‘কথা ছিল, ৫০ বছর স্বাধীনতা ভোগ করবে হংকং। আর দেওয়া হলো মাত্র ২৩ বছর।’ তাঁর মতে, ‘চরম কঠোর’ এ আইন হংকংয়ের স্বায়ত্তশাসন ‘ধ্বংস’ করে দিয়েছে। তিনি আরো বলেন, ‘জনগণের আকাঙ্ক্ষায় বিকারগ্রস্ত ও ভীত হয়ে বেইজিং এ ভূখণ্ডের সাফল্য তছনছ করে দিয়েছে।’

এ ছাড়া হংকং ইস্যুতে একাট্টা হয়ে পার্লামেন্টে নতুন বিল উত্থাপন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেটিক ও রিপাবলিক দলের সদস্যরা। হংকংয়ের যেসব বাসিন্দা নিপীড়নের ঝুঁকিতে রয়েছে, তাদের শরণার্থীর মর‌্যাদা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে ওই বিলে। ব্রিটিশ সরকার আরেক ধাপ এগিয়ে। ব্রিটেনে অবস্থানরত হংকংবাসীর অভিবাসনের অধিকারের আওতা গতকাল বাড়িয়েছে ব্রিটিশ সরকার। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) জাতীয় নিরাপত্তা আইনের ব্যাপারে ‘গভীর উদ্বেগ’ জানিয়ে বলেছে, আইনটির কারণে হংকংয়ের স্বাধীনতা ‘মারাত্মক ক্ষুণ্ন’ হবে। সূত্র : বিবিসি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা