kalerkantho

বুধবার । ৩১ আষাঢ় ১৪২৭। ১৫ জুলাই ২০২০। ২৩ জিলকদ ১৪৪১

ডাব্লিউএইচও বলছে

মহামারি এখনো শেষ পর্যায়ে পৌঁছেনি

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মহামারি এখনো শেষ পর্যায়ে পৌঁছেনি

করোনা মহামারি থামার আশা বুকে বেঁধে নিয়ে আছে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ। অবশ্য এরই মধ্যে নথিভুক্ত আক্রান্তের সংখ্যা কোটি পেরিয়েছে। মারা গেছে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ। কোথাও কোথাও নতুন করে সংক্রমণের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। সব মিলিয়ে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে স্বস্তির খবর মিলল না বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) তরফে।

সংস্থার প্রধান টেদ্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস সোমবার বলেন, ‘আমরা সবাই চাই এ সংকট কেটে যাক। আবার সাধারণ জীবনযাপনে ফিরে আসুক মানবসমাজ। কিন্তু চরম সত্যিটা হলো, এই মহামারি এখনো শেষ হওয়ার পর্যায়ে পৌঁছায়নি। কিছু দেশে সংক্রমণের হার নিম্নমুখী হলেও অন্য দেশগুলোতে সংক্রমণ বেড়েই চলেছে।’

ডাব্লিউএইচও প্রধান শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘করোনা মহামারি থামেনি এখনো। ভাইরাস নির্মূল হওয়ার আশাও দেখা যাচ্ছে না। সংক্রমণের সন্দেহে থাকা মানুষের সংখ্যা অনেক। কাজেই এ ভাইরাস এখনো অনেক দূর যেতে পারে।’ তিনি আরো বলেন, কার্যকর ভ্যাকসিন পাওয়া গেলে কিছুটা হলেও এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করা যাবে। সে কারণে কভিড ভ্যাকসিনের গবেষণা জোর কদমে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

গেব্রিয়েসুস বলেন, ছয় মাস আগে চীনে প্রথম এই করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কথা শোনা যায়। এরপর গোটা বিশ্বেই ছড়িয়ে পড়েছে এ ভাইরাস। চীনে নতুন করে সংক্রমণের ধাক্কায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় বেইজিংয়ে ‘নো গো জোন’ বানানোর প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে।

গবেষকদের ধারণা, মানুষের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ায় করোনা পরিস্থিতি বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। এ পরিস্থিতি উত্তরণ নিয়ে গেব্রিয়েসুসের ভাষ্য, ভাইরাসের সংক্রমণ তখনই কমবে, যখন মানুষের শরীরে ‘হার্ড ইমিউনিটি’ তৈরি হবে। অর্থাৎ শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। বিশেষজ্ঞরা আগেই বলেছিলেন, সমাজের এক অংশের মধ্যে যদি ‘হার্ড ইমিউনিটি’ তৈরি হয়, তাহলেই ভাইরাল স্ট্রেন ব্যাপক হারে সংক্রমিত হতে পারবে না। একটা পর্যায়ের পরে স্ট্রেন দুর্বল হতে শুরু করবে। সেই পর্যায় থেকেই সংক্রমণ ধীরে ধীরে কমতে শুরু করবে। তবে এখনই সেই পর্যায়ে এসে পৌঁছানো যায়নি।

বিশ্ব পরিস্থিতি : বৈশ্বিক পরিসংখ্যানভিত্তিক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটার বলছে, গতকাল বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা পর্যন্ত বিশ্বের ২১৩টি দেশ ও অঞ্চলে নথিভুক্ত শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক কোটি পৌনে পাঁচ লাখ। এ সময়ে মারা গেছে পাঁচ লাখ ৯ হাজারের বেশি মানুষ। আর সুস্থ হয়েছে ৫৭ লাখ রোগী। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা সাড়ে ৪২ লাখ। এর মধ্যে ৫৭ হাজার, অর্থাৎ ১ শতাংশ রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন।

অঞ্চল হিসেবে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ইউরোপে। সেখানে করোনায় অন্তত এক লাখ ৯১ হাজার ২৬৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরপর আছে উত্তর আমেরিকা। সেখানে মৃতের সংখ্যা এক লাখ ৬৭ হাজার ৬৪৯। এশিয়ায় প্রাণ গেছে ৫৬ হাজার ২০৭ জনের। দক্ষিণ আমেরিকায় এই সংখ্যা ৮৩ হাজার ৬৭১। আফ্রিকায় মৃত্যু হয়েছে ৯ হাজার ৯২৪ জনের। ওশানিয়া অঞ্চলে মৃতের সংখ্যা সবচেয়ে কম; ১২৬। সূত্র : দ্য ওয়াল, ওয়ার্ল্ডোমিটার।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা