kalerkantho

বুধবার । ৩১ আষাঢ় ১৪২৭। ১৫ জুলাই ২০২০। ২৩ জিলকদ ১৪৪১

চীনে ‘হংকং নিরাপত্তা আইন’ পাস, উদ্বেগ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চীনে ‘হংকং নিরাপত্তা আইন’ পাস, উদ্বেগ

হংকংয়ে সরকারি ভবনের সামনে গতকাল চীনপন্থীরা শোভাযাত্রা বের করে। ছবি : এএফপি

তীব্র সমালোচনা আর বিক্ষোভ উপেক্ষা করে চীনে পাস হলো ‘হংকং নিরাপত্তা আইন’। গতকাল মঙ্গলবার চীনের সর্বোচ্চ আইন পরিষদ ‘ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেস স্ট্যান্ডিং কমিটিতে’ আইনটি পাস হয়। এই আইনের ফলে স্বায়ত্তশাসিত হংকংয়ে আরো ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ পেল চীন। আজ বুধবার থেকে আইনটি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। যদিও আইনটি বাতিলের দাবিতে রাজপথে নামার ঘোষণা দিয়েছেন হংকংয়ের অনেক গণতন্ত্রপন্থী। এই ঘটনায় যুক্তরাজ্য, ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

১৯৯৭ সালে এক চুক্তির মাধ্যমে হংকংকে চীনের কাছে হস্তান্তর করে ব্রিটেন। ওই চুক্তি অনুসারে, হংকং ২০৪৩ সাল পর্যন্ত (৫০ বছর) ‘এক দেশ, দুই ব্যবস্থা’ নীতিতে পরিচালিত হবে। চুক্তির অধীনে হংকংয়ের নিজস্ব আইন আছে; রাজনৈতিক ব্যবস্থাও আলাদা। এ অবস্থায় নতুন আইনটি হংকংয়ের স্বাধীনতা খর্ব করবে বলে মনে করেন অনেকে।

এই আইনে বিচ্ছিন্নতাবাদী, কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড, সন্ত্রাসী কার্যক্রম এবং বহিরাগত শক্তির সঙ্গে আঁতাত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ ধরনের অপরাধের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধানও রাখা হয়েছে আইনটিতে।

চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং এরই মধ্যে নতুন আইনটিতে স্বাক্ষর করেছেন। আজ বুধবার থেকে এটি কার্যকর হবে। সেই সঙ্গে এটি যুক্ত হবে হংকংয়ের মূল আইনের সঙ্গে।

বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে হংকংয়ে নতুন যে কার্যালয় খোলা হয়েছে, তারাই এখন থেকে চীনের জাতীয় নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নজরদারি করবে। যেমন হংকংয়ের স্কুলগুলোতে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়ে কী ধরনের পাঠদান চলছে, তাও ওই কার্যালয়ের নজরদারিতে থাকবে। আইনটি বাস্তবায়নের জন্য হংকংয়ের পক্ষ থেকেও একটি কমিশন গঠন করতে হবে। কিন্তু এই কমিশনের উপদেষ্টা নিয়োগ দেবে বেইজিং।

নতুন আইন অনুযায়ী, জাতীয় নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট মামলার শুনানির জন্য বিচারক নিয়োগ করবেন হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নতুন এই আইনের ব্যাখ্যা কী হবে, তা নির্ধারণ করবে বেইজিং। নতুন এ আইনের কোনো ধারা যদি হংকংয়ের আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়, তাহলে নতুন আইনটিই প্রাধান্য পাবে।

চীন সরকার গত মাসে এই আইন করার ঘোষণা দেয়। ঘোষণা দেওয়ার পরই রাজপথে নামেন হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থীরা। তবে আইনটি পাস হওয়ার পর গ্রেপ্তারের ভয়ে অনেকেই আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁদের একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা জোশুয়া অং। তবে গ্রেপ্তার আতঙ্ক নিয়েই আজ বুধবারের প্রতিবাদী সমাবেশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন অনেক আন্দোলনকারী।

এরই মধ্যে অনেকেই চীনের এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডমিনিক রাব বলেন, ‘এটি খুবই উদ্বেগের একটি খবর।’ ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট চার্লস মিশেল বলেন, ‘আমরা চীনের এই সিদ্ধান্তের নিন্দা জানাচ্ছি। এই আইনের ফলে হংকংয়ের স্বায়ত্তশাসন হুমকিতে পড়ে যাবে।’ একই বক্তব্য দিয়েছে ওয়াশিংটনও।

হংকংয়ের রাজনীতির বিশ্লেষক ডিক্সন সিং বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘এক দেশ, দুই ব্যবস্থা’ নীতির প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের যে আত্মবিশ্বাস ছিল, নতুন আইনের মাধ্যমে তা অনেকটাই খর্ব করা হলো। সূত্র : বিবিসি, এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা