kalerkantho

সোমবার । ৫ আশ্বিন ১৪২৮। ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১২ সফর ১৪৪৩

লাখো শিশুকে শ্রমবাজারে টেনে আনবে করোনা

আইএলও ইউনিসেফের আশঙ্কা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৩ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



লাখো শিশুকে শ্রমবাজারে টেনে আনবে করোনা

অর্থনীতিতে করোনার প্রভাব হিসেবে শিশুশ্রমিকের সংখ্যা কয়েক লাখ বেড়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে ইউনিসেফ ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা—আইএলও। তারা বলছে, শিশুশ্রম নিয়ন্ত্রণে রাখার ক্ষেত্রে গত দুই দশকে যে সাফল্য অর্জিত হয়েছে, তা ঝুঁকির মধ্যে পড়ে গেছে। গতকাল শুক্রবার ‘কভিড-১৯ ও শিশুশ্রম : সংকটের সময়, পদক্ষেপের সময়’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ আশঙ্কার কথা জানায় সংস্থা দুটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০০ সালের পর থেকে শিশুশ্রমিকের সংখ্যা ৯ কোটি ৪০ লাখ কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। কিন্ত করোনা মহামারিতে এই অর্জন ধরে রাখা কঠিন হবে। কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে শিশুরা হয়তো আরো বেশি সময় ধরে শ্রম দিতে বাধ্য হবে। এ ছাড়া বেশির ভাগ শিশু ঝুঁকিপূর্ণ কাজে বাধ্য হবে, যা তাদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তায় মারাত্মক ক্ষতির কারণ হবে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ‘করোনা মহামারির কারণে স্বাভাবিকভাবেই দরিদ্রতার হার বেড়ে যাবে। দরিদ্রতার হার বাড়লে শিশুশ্রমও বেড়ে যাবে। কারণ বেঁচে থাকার তাগিদে একটা পরিবার সব ধরনের চেষ্টাই চালাবে। কয়েক দেশের ক্ষেত্রে একাধিক গবেষণা চালিয়ে দেখা গেছে, দরিদ্রতার সূচক ১ শতাংশ বেড়ে গেলে শিশুশ্রম অন্তত দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে যায়।’

আইএলওর মহাপরিচালক গাই রাইডার বলেন, ‘একটা পরিবারের যে আয়, তা করোনার কারণে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। এ অবস্থায় কোনো সহায়তা না পাওয়ায় এসব পরিবারের অনেক শিশু শ্রমবাজারে যুক্ত হতে বাধ্য হবে।’ তিনি বলেন, ‘সংকটের এই সময়ে সামাজিক সুরক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এর মাধ্যমে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা মানুষ সহায়তা পেয়ে থাকে।’

রাইডার মনে করেন, ‘শিশুশ্রম নিয়ে সৃষ্ট উদ্বেগ প্রশমনের ক্ষেত্রে শিক্ষা, সামাজিক সুরক্ষা, ন্যায়বিচার, শ্রমবাজার এবং মানবিক ও শ্রম অধিকার বিষয়ে আন্তঃরাষ্ট্রীয় নীতিমালা গ্রহণের মধ্য দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সম্ভব।’

ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক হেনরিয়েটা ফোর বলেন, ‘সংকটের সময় টিকে থাকার জন্য শিশুশ্রমই অনেক পরিবারের জন্য অন্যতম মাধ্যম হয়ে দাঁড়ায়।’ তিনি বলেন, ‘দরিদ্রতা বাড়লে, স্কুল বন্ধ থাকলে এবং সামাজিক সেবাগুলো কমতে থাকলে শিশুরা শ্রমবাজারে যুক্ত হতে বাধ্য হয়। এ ধরনের সংকট থেকে উত্তরণের ক্ষেত্রে গুণগত শিক্ষা, সামাজিক সুরক্ষা ও অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

ইউনিসেফ ও আইএলওর হিসাব বলছে, সাময়িকভাবে স্কুল বন্ধ থাকার কারণে ১৩০টি দেশের প্রায় ১০০ কোটি শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কিন্তু আশঙ্কার কথা হলো, স্কুল খুললেও সন্তানের লেখাপড়া চালিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা অনেক মা-বাবারই থাকবে না। পরিণতি হিসেবে এসব শিশুকে যুক্ত হতে ঝুঁকিপূর্ণ কাজের সঙ্গে। আর শিশুশ্রমের ক্ষেত্রেও লিঙ্গ বৈষম্য রয়েছে বলে মনে করে ইউনিসেফ ও আইএলও। সংস্থা দুটি বলছে, কৃষি ও গৃহস্থালির কাজে মেয়েশিশুরাই বেশি যুক্ত রয়েছে।



সাতদিনের সেরা